অভাবের তাড়নায় গর্ভের সন্তানকে দত্তক দিতে চান মা

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে স্বামী রেজাউল করিম কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় একটি ভাড়া বাড়ির ছোট্ট রুমে অনাহারে, চিকিৎসাবিহীন জীবন কাটছে অসহায় এক নারী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি গর্ভকালীন সময়ে খাবার, পোশাক ও চিকিৎসার বিনিময়ে তার গর্ভের সন্তানকে কোনো নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দিতে চান স্বামী ভরণপোষণ না দেওয়ায় খাবার ও চিকিৎসার বিনিময়ে গর্ভের সন্তানকে দত্তক দিয়ে দিতে চান অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম মঞ্জুরা বেগম। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার রেজাউল করিম মাদবরের তৃতীয় স্ত্রী। মঞ্জুরা বেগম মাগুরার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের মৃত রহিম মন্ডলের মেয়ে। নানা বাড়ি শরীয়তপুরে। মা জুলেখা বিবি মারা যাওয়ার পরে উত্তারাধিকার সূত্রে নানা বাড়ি থেকে ১ একর ২ শতাংশ সম্পত্তি পান ওই সম্পত্তি হাতে পেতে মঞ্জুরা বেগম ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়ে। সার্টিফিকেট নিতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার রেজাউল করিমের কাছে যান এরপর তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি মঞ্জুরা বেগম ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় মেম্বার তার আগের দুই স্ত্রী ও সন্তানদের কথা গোপন করে। মঞ্জুরা বেগম অন্য জেলার মানুষ হওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে জানতেও পারিনি। মেম্বারের কথায় বিশ্বাস করেছে।তিনি আরো বলেন, ২০২২ সালে মেম্বার আমাকে বিয়ে করে। বেশ ভালোভাবেই আমাদের সংসার চলছিল। এর মধ্যে মেম্বার আমার জমানো সব টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। জায়গাজমি নিয়ে ঝামেলা থাকায় কাগজপত্র ফিরে পেতে আমি আদালতে মামলা করি। এরই মাঝে আমি গর্ভবতী হই। এটা জানার পর থেকে মেম্বার আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধর করতে শুরু করে। এমনকি মেম্বারের প্রথম ও দ্বিতীয় ঘরের স্ত্রী-সন্তানরা আমার ভাড়া বাসায় এসে আমাকে নির্যাতন করে। আমি এখন অসুস্থ। মেম্বার আমার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার খরচ দেয় না। কোনো খোঁজখবরও রাখে না। আমি কারো সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে জানতে পেরে আমাকে বাসায় এসে মারধর করে চলে যায়। গত রমজানে শরীয়তপুরের এক ডাক্তারকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভিজিট ছাড়া চিকিৎসা নিয়েছি। কিন্তু ওই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরে আর ওষুধ কিনতে পারিনি। মেম্বারকে বারবার বলা সত্ত্বেও সে আমাকে ওষুধ কিনে দেয় না, খাবার দেয় না। মামলার কারণে জমি থেকে কোনো আয়ও হয় না। গত এক সপ্তাহ ধরে আমি ঘরের মধ্যে না খেয়ে পড়ে আছি। এভাবে চলতে থাকলে আমিও মরব, আমার পেটের সন্তানও মারবে। যদি কোনো ব্যক্তি বা নিঃসন্তান দম্পতি আমার গর্ভকালীন ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে তাহলে জন্মের পর আমি তাদের আমার সন্তানকে দত্তক দিয়ে দেব বল্লেন মা।
















