ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

কুড়িগ্রামে পাকা সড়ক যেন কাঁচা রাস্তা। 

রাশেদ কবির সাভার প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে পাকা সড়ক যেন কাঁচা রাস্তা।

 

দেশ যখন তীব্র গতিতে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে ঠিক সেই সময়েই কোনো এক অজানা কারণে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে উন্নয়নের পরিবর্তে যেন অবনতির হাওয়া লেগেছে! কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী নদীবন্দর প্রধান সড়ক থেকে রিক্তা আখতার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় হয়ে ব্যাংক মারা ঘাটপর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়কটি এখন যেন কাঁচা রাস্তা। সবমিলিয়ে দুর্ভোগ চরমে আর ভোগান্তিতে জনজীবন। গত কয়েক বছর ধরেই পাকা সড়কটির এমন বেহাল দশা। তারপরও নজর পড়ছে না কর্তৃপক্ষের।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্যাংক মারা এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়কের বেহাল দশা সত্ত্বেও সেটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সেটি পাকা রাস্তা। মাটি, কাদা আর বালুর আস্তরণ জমে রীতিমতো কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে সেটি। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ চরম দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়েই চলছে বছরের পর বছর। এই দুর্ভোগ নিরসনে নজর যেমন নেই কর্তৃপক্ষের, তেমনি দেখারও যেন কেউ নেই।

 

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমানের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই মুহূর্তে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হবে। সরেজমিন ঘুরে রাস্তার বর্তমান অবস্থা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন বালু ও ভিটিমাটি ব্যবসায়ীর কারণে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তৈরি এই সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়কে মাটি, বালু ও কাদার আস্তরণ জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এমনিতেই রাস্তার বেহাল দশা, তার ওপর বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এ ছাড়াও বালু বহনকারী বড় বড় ডাম্প ট্রাক, ট্রলি, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার দুই পাশ দেবে যাচ্ছে। এতে মানুষের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

 

বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়ে গণকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, কতিপয় বালু ব্যবসায়ীর কারণে সড়কটি পাকা থেকে কাঁচায় পরিণত হওয়ার পাশাপাশি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুবই বিপজ্জনক জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, আমরা আর কী বলব? সব জায়গায় বলে উন্নয়ন হয় আর আমাদের এখানে সড়ক পাকা থেকে কাঁচা হয়েছে! স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের অভিযোগ, এতদিন দেখেছি কাঁচা রাস্তা পাকা হয়। আর আমাদের এখানে পাকা সড়ক কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চললেও দেখার যেন কেউ নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে পাকা সড়ক যেন কাঁচা রাস্তা। 

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রামে পাকা সড়ক যেন কাঁচা রাস্তা।

 

দেশ যখন তীব্র গতিতে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে ঠিক সেই সময়েই কোনো এক অজানা কারণে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে উন্নয়নের পরিবর্তে যেন অবনতির হাওয়া লেগেছে! কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী নদীবন্দর প্রধান সড়ক থেকে রিক্তা আখতার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় হয়ে ব্যাংক মারা ঘাটপর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়কটি এখন যেন কাঁচা রাস্তা। সবমিলিয়ে দুর্ভোগ চরমে আর ভোগান্তিতে জনজীবন। গত কয়েক বছর ধরেই পাকা সড়কটির এমন বেহাল দশা। তারপরও নজর পড়ছে না কর্তৃপক্ষের।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্যাংক মারা এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়কের বেহাল দশা সত্ত্বেও সেটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে রাস্তাটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, সেটি পাকা রাস্তা। মাটি, কাদা আর বালুর আস্তরণ জমে রীতিমতো কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে সেটি। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ চরম দুর্ভোগ আর ঝুঁকি নিয়েই চলছে বছরের পর বছর। এই দুর্ভোগ নিরসনে নজর যেমন নেই কর্তৃপক্ষের, তেমনি দেখারও যেন কেউ নেই।

 

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমানের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এই মুহূর্তে রাস্তার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের প্রতিনিধি পাঠানো হবে। সরেজমিন ঘুরে রাস্তার বর্তমান অবস্থা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন বালু ও ভিটিমাটি ব্যবসায়ীর কারণে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তৈরি এই সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়কে মাটি, বালু ও কাদার আস্তরণ জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এমনিতেই রাস্তার বেহাল দশা, তার ওপর বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এ ছাড়াও বালু বহনকারী বড় বড় ডাম্প ট্রাক, ট্রলি, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার দুই পাশ দেবে যাচ্ছে। এতে মানুষের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

 

বালু ব্যবসায়ীদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়ে গণকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, কতিপয় বালু ব্যবসায়ীর কারণে সড়কটি পাকা থেকে কাঁচায় পরিণত হওয়ার পাশাপাশি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুবই বিপজ্জনক জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, আমরা আর কী বলব? সব জায়গায় বলে উন্নয়ন হয় আর আমাদের এখানে সড়ক পাকা থেকে কাঁচা হয়েছে! স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের অভিযোগ, এতদিন দেখেছি কাঁচা রাস্তা পাকা হয়। আর আমাদের এখানে পাকা সড়ক কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চললেও দেখার যেন কেউ নেই।