ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

ছেলেবেলার স্মৃতি- মাকে উৎসর্গ করে লেখা

এম.কে.জাকির হোসাইন বিপ্লবী 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

 

এম.কে.জাকির হোসাইন বিপ্লবী 

 

কি করে ভুলে থাকি

সেই সময়টার কথা,

যেই সময়টাকে ঘিরে রয়েছে

হাজারো গল্পকথা।

একেই গ্রামে নানার বাড়ি

খালার বাড়ি ভাই,

হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি

কাব্যে বলে যাই।

বন্ধুদের সাথে খেলার আড্ডায়

সিগারেটে সুখটান দেওয়া,

মায়ের সাথে অভিমান করে

নানার বাড়ি চলে যাওয়া।

খালাতো ভাই মামাতো বোন

কি চমৎকার জুটি,

কানামাছি ভোঁ-ভোঁ খেলা ছিলো প্রিয়

মাঝে- মাঝে ভোটাভুটি।

নানার বাড়ির দক্ষিণ দিকে

একটি বড়ই গাছ,

পশ্চিমেতে একটি পুকুর

রয়েছে বাঁশের চাষ।

 

মায়ের দৌড়ানিতে সেখানে এসে

খেলতাম লুকোচুরি,

আনন্দ উল্লাসে কাটাইতাম জীবন

বানাইতাম মাটির তরী।

পুতুল বিয়ে আরো কতো কি

খেলার নেই তো শেষ,

দুষ্টুমি আর হাসাহাসিতে

ছিলাম আমি বেশ।

মায়ের সাথে অভিমান করে

নানার বাড়ি যেথাম চলে,

মা আসিলে যেনো না বলে

মামাতো বোনকে রাখতাম বলে।

কোথায় গেলো সেই দিনগুলো

ছেলে বেলার স্মৃতি,

অসমাপ্ত সুখ আজও কাঁদায় আমায়

কোথায় সেই স্নেহ প্রীতি?

কোথায় গেলো সেই মায়ের আদর

বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,

কোথায় সেই স্বপ্ন দেখা দুটি চোখ

হৃদয়ে জমানো হাজরো আশা?

আজও খুঁজে বেড়ায় হৃদয়

সেই মধুর ডাক,

কল্পনার রাজ্যে শুনতে পাই যখন

ক্লান্ত হৃদয় হয়ে যায় অবাক।

মাঝে-মাঝে শুনি! আমি সেই সুর

যেই সুর ছিলো জীবনের প্রিয়,

ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতো আমায়

প্রতিদিন ভোর।

তোমরা কি জানো? কি সেই সুর,

তাহলে বলছি শোনো,

অভিমান করে কোথাও চলে গেলে

মায়ের কন্ঠে বেদনার সুর।

জাকির কই তুই কই

ছেলেটা আজ আমায় পাগল বানিয়ে ছাড়বে,

সারাদিন কই থাকে কি করে

খাওয়া-দাওয়া কিচ্ছু করেনা।

চল দেখি কতদিন এভাবে চলতে পারিস

বুঝবে একদিন আমি মরে গেলে,

তোর শান্তি হবে না,

আমার মতো তোকে কেউ খুঁজবে না।

সেদিন তো বনে বনে ঘুরবি

আত্মীয়-স্বজন দেখছি,

রান্না করে ভাত বেড়ে রেখে আইছি

আয় ভাত খাবি।

না আম্মা যাবো না, তুমি মারবা

না কথা দিলাম মারবো না,

আর এরকম করিস না

আয় ভাত খাবি।

আমার পেটে বুক লাগে না,খাইতাম না

আয় বাবা তুই তো আমার বাবা,

আমি এখনো খাইনি

তোর বাবাকে ভাত দিয়ে আইসি।

ঠিক আছে আম্মা খাইয়াম

আমাকে পাঁচটা টাকা দিবা কও,

দেমনে আগে ভাত খা।

কি দিয়ে খাইতাম?

তোর জন্য শাক রান্না করছি

আলুর বাজি মাছ ভর্তা করছি,

ঠিক আছে আম্মা

এগুলো আমার খুব ভালো লাগে।

কখনো ভাবিনি!

মায়ের সেই কথাগুলো সত্যি হয়ে যাবে,

আজ কোথায় গেলো সেই ভালোবাসা

সেই না খেয়ে খাওয়ানোর মানুষটি?

চোখের পলকে কোথাও চলে গেলে

সারা গ্রামে খুঁজে ফেরার মানুষটি,

যার হৃদয় জুড়ে ছিলাম আমি

স্বপ্ন দেখতে চোখ দুটি।

সন্তান আমি বড় হবো

মানুষের উপকারে নিজেকে বিলাবো,

আমি একজন নেতা হবো

মায়ের মুখে হাসি ফুঁঠাবো।

আজ আমি হয়েছি ও তাই

অন্যের সুখে নিজেকে বিলাই,

শুধু শূন্যতা অনুভব করে যাই

মায়ের স্বপ্ন দেখা সেই হাসিটা কোথায় পাই।

মাঝে- মাঝে আমার খুব ইচ্ছে করে

চিৎকার করে মাকে ডেকে বলি,

মা ওমা শুনছো,

আজ তোমার ছেলে অনেক বড় হয়েছে ।

তোমার ছেলে নেতৃত্ব দেয়

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়,

অসহায় মানুষদের উপকার করে

কলমের ভাষায় কথা বলে।

লেখক হিসেবে পরিচিত হয়েছে

মানুষ তাকে ভালবাসে,

তুমি আসো দেখবে!

তুমি জানো মা? আমি আজ খুব একা।

তোমার কথা বার বার মনে পরে

লোকচক্ষুর অন্তরালে চোখে অশ্রু ঝরে,

শুধু তুমি নেই বলে পাশে!

সকল আনন্দ উল্লাস স্বপ্ন যে মোর

চোখের লোনা জ্বলে ভাসে।

 

এম.কে.জাকির হোসাইন বিপ্লবী

শশারকান্দা, শাল্লা, সুনামগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছেলেবেলার স্মৃতি- মাকে উৎসর্গ করে লেখা

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪

 

এম.কে.জাকির হোসাইন বিপ্লবী 

 

কি করে ভুলে থাকি

সেই সময়টার কথা,

যেই সময়টাকে ঘিরে রয়েছে

হাজারো গল্পকথা।

একেই গ্রামে নানার বাড়ি

খালার বাড়ি ভাই,

হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতি

কাব্যে বলে যাই।

বন্ধুদের সাথে খেলার আড্ডায়

সিগারেটে সুখটান দেওয়া,

মায়ের সাথে অভিমান করে

নানার বাড়ি চলে যাওয়া।

খালাতো ভাই মামাতো বোন

কি চমৎকার জুটি,

কানামাছি ভোঁ-ভোঁ খেলা ছিলো প্রিয়

মাঝে- মাঝে ভোটাভুটি।

নানার বাড়ির দক্ষিণ দিকে

একটি বড়ই গাছ,

পশ্চিমেতে একটি পুকুর

রয়েছে বাঁশের চাষ।

 

মায়ের দৌড়ানিতে সেখানে এসে

খেলতাম লুকোচুরি,

আনন্দ উল্লাসে কাটাইতাম জীবন

বানাইতাম মাটির তরী।

পুতুল বিয়ে আরো কতো কি

খেলার নেই তো শেষ,

দুষ্টুমি আর হাসাহাসিতে

ছিলাম আমি বেশ।

মায়ের সাথে অভিমান করে

নানার বাড়ি যেথাম চলে,

মা আসিলে যেনো না বলে

মামাতো বোনকে রাখতাম বলে।

কোথায় গেলো সেই দিনগুলো

ছেলে বেলার স্মৃতি,

অসমাপ্ত সুখ আজও কাঁদায় আমায়

কোথায় সেই স্নেহ প্রীতি?

কোথায় গেলো সেই মায়ের আদর

বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,

কোথায় সেই স্বপ্ন দেখা দুটি চোখ

হৃদয়ে জমানো হাজরো আশা?

আজও খুঁজে বেড়ায় হৃদয়

সেই মধুর ডাক,

কল্পনার রাজ্যে শুনতে পাই যখন

ক্লান্ত হৃদয় হয়ে যায় অবাক।

মাঝে-মাঝে শুনি! আমি সেই সুর

যেই সুর ছিলো জীবনের প্রিয়,

ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতো আমায়

প্রতিদিন ভোর।

তোমরা কি জানো? কি সেই সুর,

তাহলে বলছি শোনো,

অভিমান করে কোথাও চলে গেলে

মায়ের কন্ঠে বেদনার সুর।

জাকির কই তুই কই

ছেলেটা আজ আমায় পাগল বানিয়ে ছাড়বে,

সারাদিন কই থাকে কি করে

খাওয়া-দাওয়া কিচ্ছু করেনা।

চল দেখি কতদিন এভাবে চলতে পারিস

বুঝবে একদিন আমি মরে গেলে,

তোর শান্তি হবে না,

আমার মতো তোকে কেউ খুঁজবে না।

সেদিন তো বনে বনে ঘুরবি

আত্মীয়-স্বজন দেখছি,

রান্না করে ভাত বেড়ে রেখে আইছি

আয় ভাত খাবি।

না আম্মা যাবো না, তুমি মারবা

না কথা দিলাম মারবো না,

আর এরকম করিস না

আয় ভাত খাবি।

আমার পেটে বুক লাগে না,খাইতাম না

আয় বাবা তুই তো আমার বাবা,

আমি এখনো খাইনি

তোর বাবাকে ভাত দিয়ে আইসি।

ঠিক আছে আম্মা খাইয়াম

আমাকে পাঁচটা টাকা দিবা কও,

দেমনে আগে ভাত খা।

কি দিয়ে খাইতাম?

তোর জন্য শাক রান্না করছি

আলুর বাজি মাছ ভর্তা করছি,

ঠিক আছে আম্মা

এগুলো আমার খুব ভালো লাগে।

কখনো ভাবিনি!

মায়ের সেই কথাগুলো সত্যি হয়ে যাবে,

আজ কোথায় গেলো সেই ভালোবাসা

সেই না খেয়ে খাওয়ানোর মানুষটি?

চোখের পলকে কোথাও চলে গেলে

সারা গ্রামে খুঁজে ফেরার মানুষটি,

যার হৃদয় জুড়ে ছিলাম আমি

স্বপ্ন দেখতে চোখ দুটি।

সন্তান আমি বড় হবো

মানুষের উপকারে নিজেকে বিলাবো,

আমি একজন নেতা হবো

মায়ের মুখে হাসি ফুঁঠাবো।

আজ আমি হয়েছি ও তাই

অন্যের সুখে নিজেকে বিলাই,

শুধু শূন্যতা অনুভব করে যাই

মায়ের স্বপ্ন দেখা সেই হাসিটা কোথায় পাই।

মাঝে- মাঝে আমার খুব ইচ্ছে করে

চিৎকার করে মাকে ডেকে বলি,

মা ওমা শুনছো,

আজ তোমার ছেলে অনেক বড় হয়েছে ।

তোমার ছেলে নেতৃত্ব দেয়

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়,

অসহায় মানুষদের উপকার করে

কলমের ভাষায় কথা বলে।

লেখক হিসেবে পরিচিত হয়েছে

মানুষ তাকে ভালবাসে,

তুমি আসো দেখবে!

তুমি জানো মা? আমি আজ খুব একা।

তোমার কথা বার বার মনে পরে

লোকচক্ষুর অন্তরালে চোখে অশ্রু ঝরে,

শুধু তুমি নেই বলে পাশে!

সকল আনন্দ উল্লাস স্বপ্ন যে মোর

চোখের লোনা জ্বলে ভাসে।

 

এম.কে.জাকির হোসাইন বিপ্লবী

শশারকান্দা, শাল্লা, সুনামগঞ্জ।