ঢাকা-২ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা: প্রার্থীদের প্রচারণা ও প্রতিশ্রুতির রংধনু।

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: ফয়সাল হোসেন ঢাকা প্রতিনিধি, দেশ প্রিয় |
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-২ আসনে (কেরানীগঞ্জ ও সাভারের নির্বাচিত ইউনিয়নসমূহ) প্রচারণার মাঠ গরমায়িত। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মধ্যে বাকি দিন এগিয়ে আসছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিরোধী ভোট বিভাজনই এখন মূল প্রশ্ন ।
বর্তমান অবস্থান: কে এগিয়ে?
বিএনপি প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। দলীয় সংগঠনের গভীর প্রসার ও স্থানীয় জনপ্রিয়তার কারণে তিনি জয়ের প্রবল দাবিদার 。 জামায়াতের কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেয়ে মাঠে প্রবল প্রচার শুরু করেছেন এবং দাবি করছেন, “সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে জয়ী হব” 。 ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ধর্মভিত্তিক ভোট টানার চেষ্টা করছেন, যা বিএনপির জন্য ভোটকাটার ঝুঁকি তৈরি করেছে ।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৪.২ লাখ ভোটারের এই আসনে ফলাফল নির্ভর করবে গ্রামীণ-শহরতলি ভোটের মিশ্রণের ওপর। চাঁদাবাজি, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিয়ে ভোটাররা বাস্তব ইস্যুতে বেশি সচেতন ।
প্রচারণার চিত্র: সকাল-রাত গণসংযোগ
প্রার্থীদের প্রচার নিরবচ্ছিন্ন। আমান উল্লাহ আমান তারানগর, কলাতিয়া, আমিনবাজারসহ ইউনিয়নগুলোতে উঠানসভা, বাজারগ্রহণ ও ফেসবুক লাইভে সক্রিয়। তিনি গাড়ি-বহরে ঘুরছেন এবং তরুণদের লক্ষ্য করে ভিডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছেন ।
জামায়াত প্রার্থী আবদুল হক মসজিদ-মাদরাসা কেন্দ্রিক সভায় অংশ নিচ্ছেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে “একপক্ষীয় প্রশাসন” অভিযোগ তুলছেন। তিনি লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন । ইসলামী আন্দোলনের প্রচারও মসজিদপ্রধান, যেখানে তারা স্থানীয় উন্নয়নের কথা বলছেন ।
তবে উত্তাপের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগও উঠেছে—পোস্টার ছিঁড়া, মাইক বন্ধ ও হামলার ঘটনা মাঠকে উত্তপ্ত করে তুলেছে ।
নেতাদের প্রতিশ্রুতি: কে কী বলছেন?
প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় ইশতেহারের সঙ্গে স্থানীয় সমস্যা মিলিয়ে গড়া। নিচে তুলনামূলক চিত্র:আমান উল্লাহ বলেছেন, “এলাকাকে চাঁদাবাজিমুক্ত করব, প্রত্যেক ইউনিয়নে ডাক্তারি ইউনিট গড়ব” 。 আবদুল হক দাবি করেছেন, “আমি দেনামুক্ত, সৎ নেতা—দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ব” ।[youtube +1]
ভোটারদের কণ্ঠ: আশা ও সতর্কতা
কেরানীগঞ্জের তারানগরের এক বাসিন্দা বললেন, “চাঁদাবাজি বন্ধ হলে কারো জয়েই আমাদের জয়।” সাভারের আমিনবাজারে তরুণরা বলছেন, “প্রতিশ্রুতি শুনে বিশ্বাস হয় না, কাজ দেখতে চাই।” বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটকাটা এড়াতে বিএনপির সুবিধা, তবে শেষ মুহূর্তে সব সম্ভব ।[sarabangla]
ঢাকা-২–এর ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিন—এটাই এখন সবার প্রধান আহ্বান।



















