ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং ইনচার্জের দুর্নীতিতে অতিষ্ট স্টাফ ও রুগী

এম কে খোকন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো চীফ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসার জায়গা। কিন্তু সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার  আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত নার্সিং ইনচার্জ নয়ন মনি। হোক সেটা রুগী বা স্টাফের জন্য। জবাবদিহিতা করানো ও সেখান থেকে সড়ানোর সাধ্য কারোর নেই সরেজমিনে জানা যায় যে, সেই নয়ন মনি ২০১৮ সাল থেকে অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সিং ইনচার্জ হিসিবে দায়িত্বে আছে। যেখানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের ৪৫.০৩.০০০০.০০১.১১.০১.১৯ নং স্বারকের ১৬/০৬/২০২০ তারিখের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে যে, নার্সিং ইনচার্জের দায়িত্ব দুই বছর পর পর পরিবর্তন করতে হবে সেখানে নয়ন মনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন বা দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ বছর যাবৎ একই পদে বহাল আছে। উল্যেখ্য যে, ২০১৯ সালে তার বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব অভিজিৎ রায় তাকে শাস্তিমুলক বদলী দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পাঠান। সেই সময় তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে (ভারপ্রাপ্ত) ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারজানা আক্তার।  কিন্তু তিনি বদলির তিন থেকে চার মাস পর কৌশলে পুনরায় ফিরে এসে আবার ইনচার্জের দায়িত্ব নেয় তার জালিয়াতির আরো নমুনা হলো,দায়িত্ব গ্রহনের সময় সে উচ্চতর স্কেলে (৯ম গ্রেড) বেতন ভাতা প্রাপ্য ছিল ও সেই অনুয়ায়ী বাড়িভাড়া পাচ্ছিল এবং হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারে বাসা নিয়ে থাকতো। নিয়ম অনুয়ায়ী কোয়ার্টারে থাকলে সরকারী দেওয়া বাড়িভাড়া কেটে রাখা হয়। কিন্তু সেই নয়ন মনি সরকারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য হাসপাতালের আবাসিক বাসস্থান তার নামে বরাদ্ধ নেননি। কারন তার বাড়ি ভাড়া তখন অনেক বেশি ছিল। সে ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্টাফ নার্স হাসি ইসলামের নামে কোয়ার্টার বরাদ্ধ নেন পরে ২০২৩ সালে নতুন আরেক স্টাফ নার্স হোসনা বেগমের নামে বরাদ্ধ নিয়ে থাকছে যে খানে স্টাফ নার্সরা শুরুতে ৭২০০/- টাকা বাড়ি ভাড়া পায় আরো অভিযোগ পাওয়া যায়, বর্তমান সরকার যেখানে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সেখানে এই নয়ন মনি শিশুদের গ্যাস দেওয়া ও প্রসূতী মায়েদের ডেলিভারী করিয়ে টাকা নিয়ে থাকেন যা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য আইনের বিপরীত। টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাদেরকে ধমক ও বিভিন্ন প্রকার হয়রানী করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ০২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জয়ন্ত সরকার নামে একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নয়ন মনির ডেলিভারী রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানান। অভিযোগটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আসলে জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নাফিসা জাফরিনকে সভাপতি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী নয়ন মনি দোষী প্রমানিত হয় অন্য অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ২০২১ সালে নাসিরনগর অফিসার্স ক্লাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঠিকা প্রদান করা হয়। সেখানে দ্বায়িত্ব পালন করেন ৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং প্রত্যেকেই ১১২৫০ টাকা সম্মানী পান আর সেখানেও সেই নয়ন মনির লোভ পরে যায়। প্রত্যেক নার্সকে চাপ দিতে থাকে তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে ২০০০ টাকা করে তাকে দিয়ে দিতে। প্রথমে সবাই অস্বীকার করলেও পরে তার ভয়ে ৭ জন ২০০০ টাকা করে তাকে দিয়ে দেয় কিন্তু হালিমা আক্তার নামক একজন টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হয়। হালিমা আক্তার সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন পরেই এই হাসপাতাল থেকে বদলী হয়ে ঢাকা চলে যান। এভাবে আরো অনেক স্টাফই নিরবে নিভৃতে সহ্য করে যাচ্ছেন বা কেও কেও অন্যত্র বদলী হয়ে যাচ্ছেন। থাকছে সেই নয়ন মনি নাম ত্রাস।  ওনাকে কেউ সড়াতে পাড়ছে না এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ একরামুল্লা বলেন, নাছিরনগর নার্সিংয়ের দুর্নীতি বিষয় অবগত নন। বিস্তারিত জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং ইনচার্জের দুর্নীতিতে অতিষ্ট স্টাফ ও রুগী

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসার জায়গা। কিন্তু সেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার  আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত নার্সিং ইনচার্জ নয়ন মনি। হোক সেটা রুগী বা স্টাফের জন্য। জবাবদিহিতা করানো ও সেখান থেকে সড়ানোর সাধ্য কারোর নেই সরেজমিনে জানা যায় যে, সেই নয়ন মনি ২০১৮ সাল থেকে অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সিং ইনচার্জ হিসিবে দায়িত্বে আছে। যেখানে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরের ৪৫.০৩.০০০০.০০১.১১.০১.১৯ নং স্বারকের ১৬/০৬/২০২০ তারিখের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা আছে যে, নার্সিং ইনচার্জের দায়িত্ব দুই বছর পর পর পরিবর্তন করতে হবে সেখানে নয়ন মনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন বা দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ বছর যাবৎ একই পদে বহাল আছে। উল্যেখ্য যে, ২০১৯ সালে তার বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব অভিজিৎ রায় তাকে শাস্তিমুলক বদলী দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পাঠান। সেই সময় তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে (ভারপ্রাপ্ত) ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারজানা আক্তার।  কিন্তু তিনি বদলির তিন থেকে চার মাস পর কৌশলে পুনরায় ফিরে এসে আবার ইনচার্জের দায়িত্ব নেয় তার জালিয়াতির আরো নমুনা হলো,দায়িত্ব গ্রহনের সময় সে উচ্চতর স্কেলে (৯ম গ্রেড) বেতন ভাতা প্রাপ্য ছিল ও সেই অনুয়ায়ী বাড়িভাড়া পাচ্ছিল এবং হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারে বাসা নিয়ে থাকতো। নিয়ম অনুয়ায়ী কোয়ার্টারে থাকলে সরকারী দেওয়া বাড়িভাড়া কেটে রাখা হয়। কিন্তু সেই নয়ন মনি সরকারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য হাসপাতালের আবাসিক বাসস্থান তার নামে বরাদ্ধ নেননি। কারন তার বাড়ি ভাড়া তখন অনেক বেশি ছিল। সে ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্টাফ নার্স হাসি ইসলামের নামে কোয়ার্টার বরাদ্ধ নেন পরে ২০২৩ সালে নতুন আরেক স্টাফ নার্স হোসনা বেগমের নামে বরাদ্ধ নিয়ে থাকছে যে খানে স্টাফ নার্সরা শুরুতে ৭২০০/- টাকা বাড়ি ভাড়া পায় আরো অভিযোগ পাওয়া যায়, বর্তমান সরকার যেখানে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সেখানে এই নয়ন মনি শিশুদের গ্যাস দেওয়া ও প্রসূতী মায়েদের ডেলিভারী করিয়ে টাকা নিয়ে থাকেন যা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য আইনের বিপরীত। টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তাদেরকে ধমক ও বিভিন্ন প্রকার হয়রানী করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ০২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জয়ন্ত সরকার নামে একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নয়ন মনির ডেলিভারী রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানান। অভিযোগটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আসলে জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নাফিসা জাফরিনকে সভাপতি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী নয়ন মনি দোষী প্রমানিত হয় অন্য অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ২০২১ সালে নাসিরনগর অফিসার্স ক্লাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঠিকা প্রদান করা হয়। সেখানে দ্বায়িত্ব পালন করেন ৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং প্রত্যেকেই ১১২৫০ টাকা সম্মানী পান আর সেখানেও সেই নয়ন মনির লোভ পরে যায়। প্রত্যেক নার্সকে চাপ দিতে থাকে তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে ২০০০ টাকা করে তাকে দিয়ে দিতে। প্রথমে সবাই অস্বীকার করলেও পরে তার ভয়ে ৭ জন ২০০০ টাকা করে তাকে দিয়ে দেয় কিন্তু হালিমা আক্তার নামক একজন টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হয়। হালিমা আক্তার সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন পরেই এই হাসপাতাল থেকে বদলী হয়ে ঢাকা চলে যান। এভাবে আরো অনেক স্টাফই নিরবে নিভৃতে সহ্য করে যাচ্ছেন বা কেও কেও অন্যত্র বদলী হয়ে যাচ্ছেন। থাকছে সেই নয়ন মনি নাম ত্রাস।  ওনাকে কেউ সড়াতে পাড়ছে না এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ একরামুল্লা বলেন, নাছিরনগর নার্সিংয়ের দুর্নীতি বিষয় অবগত নন। বিস্তারিত জেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।