ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

ফেব্রুয়ারীতে ফের কয়েক গুণ বাড়াতে পারেকরোনা সংক্রমণ

রিপোর্টার মোঃ আলমগীর হোসেন 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারীতে ফের কয়েক গুণ বাড়াতে পারেকরোনা সংক্রমণ।

রিপোর্টার মোঃ আলমগীর হোসেন

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন জেএন.১-এর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক মাসে সংক্রমণের হার বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীত কমলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা সংক্রমণ আরো কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮.৭০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের ৩২ জনই ঢাকা মহানগরের এবং একজন করে কক্সবাজার ও চাঁদপুরের। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিদপ্তর যে শনাক্তের হার দেখাচ্ছে, প্রকৃত হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

সংক্রমিত ব্যক্তি সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডায় কভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাই শনাক্তও হচ্ছে না। যারা পরীক্ষা করাচ্ছে তারা কোনো জরুরি প্রয়োজনে করাচ্ছে। হয় সার্জারি করার আগে, নয়তো বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৪৩ জনের মধ্যে ৬২৪ জনই ঢাকা মহানগরের। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৯৭ শতাংশ রোগী ঢাকার। এই সময়ে মৃত চারজনের দুজন ঢাকা মহানগরের ও দুজন চাঁদপুরের।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে ২৯ জন কভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ছয়জন, আইসিইউতে ২২ জন ও এইচডিইউ শয্যায় একজন।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৪ হাজার ৩০৩ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত শীতকালে বাংলাদেশে করোনা রোগী কম থাকে। বর্তমানে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত কমলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন উপধরন মারাত্মক না হলেও এর সংক্রমণের হার অনেক বেশি। যাঁরা মেডিক্যাল বা হাসপাতালে কাজ করেন, যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা কোমরবিডিটি আছে, তাঁদের জন্য এখনো করোনা ঝুঁকিপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, এসব ব্যক্তির জন্য কডিভ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যারা টিকা নেয়নি তাদের টিকা নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেমন—হাসপাতাল, গণপরিবহন বা যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানে মাস্ক পরা নিরাপদ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে বছর শনাক্ত হয় পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন। মৃত্যু হয় সাত হাজার ৫৫৯ জনের।

পরের বছর ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন। মৃত্যু হয় ২০ হাজার ৫১৩ জনের। ওই বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয় ২৮ জুলাই। ২০২২ সালে শনাক্ত হয় চার লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৩৬৮ জনের। ২০২৩ সালে শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন। মৃত্যু হয় ৩৭ জনের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফেব্রুয়ারীতে ফের কয়েক গুণ বাড়াতে পারেকরোনা সংক্রমণ

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

ফেব্রুয়ারীতে ফের কয়েক গুণ বাড়াতে পারেকরোনা সংক্রমণ।

রিপোর্টার মোঃ আলমগীর হোসেন

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন জেএন.১-এর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক মাসে সংক্রমণের হার বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীত কমলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা সংক্রমণ আরো কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮.৭০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের ৩২ জনই ঢাকা মহানগরের এবং একজন করে কক্সবাজার ও চাঁদপুরের। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিদপ্তর যে শনাক্তের হার দেখাচ্ছে, প্রকৃত হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

সংক্রমিত ব্যক্তি সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডায় কভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাই শনাক্তও হচ্ছে না। যারা পরীক্ষা করাচ্ছে তারা কোনো জরুরি প্রয়োজনে করাচ্ছে। হয় সার্জারি করার আগে, নয়তো বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৪৩ জনের মধ্যে ৬২৪ জনই ঢাকা মহানগরের। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৯৭ শতাংশ রোগী ঢাকার। এই সময়ে মৃত চারজনের দুজন ঢাকা মহানগরের ও দুজন চাঁদপুরের।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে ২৯ জন কভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ছয়জন, আইসিইউতে ২২ জন ও এইচডিইউ শয্যায় একজন।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৪ হাজার ৩০৩ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত শীতকালে বাংলাদেশে করোনা রোগী কম থাকে। বর্তমানে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত কমলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন উপধরন মারাত্মক না হলেও এর সংক্রমণের হার অনেক বেশি। যাঁরা মেডিক্যাল বা হাসপাতালে কাজ করেন, যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা কোমরবিডিটি আছে, তাঁদের জন্য এখনো করোনা ঝুঁকিপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, এসব ব্যক্তির জন্য কডিভ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যারা টিকা নেয়নি তাদের টিকা নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেমন—হাসপাতাল, গণপরিবহন বা যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানে মাস্ক পরা নিরাপদ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে বছর শনাক্ত হয় পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন। মৃত্যু হয় সাত হাজার ৫৫৯ জনের।

পরের বছর ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন। মৃত্যু হয় ২০ হাজার ৫১৩ জনের। ওই বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয় ২৮ জুলাই। ২০২২ সালে শনাক্ত হয় চার লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৩৬৮ জনের। ২০২৩ সালে শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন। মৃত্যু হয় ৩৭ জনের।