ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদ, এগিয়ে নারীরা 

মোজাম্মেল হক জামালপুর জেলার প্রতিনিধি 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরে বেড়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ এগিয়ে নারীরা সূত্র জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট বিবাহ হয়েছে ৯ হাজার ১৭৬ জনের। তালাক (বিবাহবিচ্ছেদ) হয়েছে ৪ হাজার ২৩৬ জনের। অর্থাৎ দৈনিক গড় হিসেবে ২৫ জনের বিবাহ হয়েছে। দৈনিক তালাক হয়েছে ১১ জনের। মেয়েরা তালাক দিয়েছেন ১ হাজার ৩৮১টি, ছেলেরা তালাক দিয়েছেন ৫৬৫টি, ছেলে ও মেয়ে উভয়ই তালাকের সংখ্যা ২ হাজার ২৯০টি। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তালাকের সংখ্যা জামালপুর সদর উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম তালাক হয়েছে মাদারগঞ্জ উপজেলা। ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ছিল ৩ হাজার ৮০৩ জনের। সেই তুলনায় বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়েছে‌। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে জেলায় বিয়ে ও বিচ্ছেদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কথা হয় আইনজীবী ইউসুফ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ দিন দিন বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল, পরকীয়া, অপরিণত বয়সে বিয়ে, পারিবারিক বন্ধনে দূরত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়াও বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে।তিনি আরও বলেন, আদালতে আমরা দেখি পরিবারের মাঝে একেবারে ছোট্ট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা পরে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এসব দিনদিন বেড়েই চলছে। আমরা আদালতে এমন কোনো ঘটনা আগে দেখিনি, যা এখন এতটা বেশি হয়েছে। বিচ্ছেদ কমানোর জন্য কাউন্সেলিং প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় সমাজে বিচ্ছেদ ভয়াবহ রূপ নেবে।জামালপুর সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, আমরা তালাকের এ চিত্র দেখে হতবাক হয়েছি। আমরা বাঙালি হাজার বছরের ধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে ইন্ডিয়া সংস্কৃতির দিকে যাচ্ছি। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল দেখে আমাদের মা-বোনেরা ভারতীয় সংস্কৃতিতে অন্ধ হয়ে পরকীয়ায় আসক্ত হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুশাসন না মানায় তালাকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে মানুষকে গুরুত্ব দিলে সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানান তিনি।মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর জামালপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক কামরুন্নাহার বলেন, আগে নারীরা স্বামীর নির্যাতন মেনে নিতেন। তখন তারা মুখ খুলে কোনো কথা বলতেন না। এখন নারীরা নির্যাতন হলেই তার প্রতিকার চান। এখন নির্যাতনের শিকার হলেই নারীরা তাদের শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসেন। আমরা নারীদের সবসময় সহযোগিতা করি। নারীরা এলে কাউন্সিলিং করি এবং তাদের সহযোগিতা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদ, এগিয়ে নারীরা 

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

জামালপুরে বেড়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ এগিয়ে নারীরা সূত্র জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট বিবাহ হয়েছে ৯ হাজার ১৭৬ জনের। তালাক (বিবাহবিচ্ছেদ) হয়েছে ৪ হাজার ২৩৬ জনের। অর্থাৎ দৈনিক গড় হিসেবে ২৫ জনের বিবাহ হয়েছে। দৈনিক তালাক হয়েছে ১১ জনের। মেয়েরা তালাক দিয়েছেন ১ হাজার ৩৮১টি, ছেলেরা তালাক দিয়েছেন ৫৬৫টি, ছেলে ও মেয়ে উভয়ই তালাকের সংখ্যা ২ হাজার ২৯০টি। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তালাকের সংখ্যা জামালপুর সদর উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম তালাক হয়েছে মাদারগঞ্জ উপজেলা। ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ছিল ৩ হাজার ৮০৩ জনের। সেই তুলনায় বিবাহবিচ্ছেদের হার বেড়েছে‌। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে জেলায় বিয়ে ও বিচ্ছেদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কথা হয় আইনজীবী ইউসুফ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিবাহবিচ্ছেদ দিন দিন বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ, ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল, পরকীয়া, অপরিণত বয়সে বিয়ে, পারিবারিক বন্ধনে দূরত্ব সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়াও বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে।তিনি আরও বলেন, আদালতে আমরা দেখি পরিবারের মাঝে একেবারে ছোট্ট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা পরে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এসব দিনদিন বেড়েই চলছে। আমরা আদালতে এমন কোনো ঘটনা আগে দেখিনি, যা এখন এতটা বেশি হয়েছে। বিচ্ছেদ কমানোর জন্য কাউন্সেলিং প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় সমাজে বিচ্ছেদ ভয়াবহ রূপ নেবে।জামালপুর সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, আমরা তালাকের এ চিত্র দেখে হতবাক হয়েছি। আমরা বাঙালি হাজার বছরের ধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে ইন্ডিয়া সংস্কৃতির দিকে যাচ্ছি। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল দেখে আমাদের মা-বোনেরা ভারতীয় সংস্কৃতিতে অন্ধ হয়ে পরকীয়ায় আসক্ত হচ্ছে এবং ধর্মীয় অনুশাসন না মানায় তালাকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে মানুষকে গুরুত্ব দিলে সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমে যাবে বলে জানান তিনি।মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর জামালপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক কামরুন্নাহার বলেন, আগে নারীরা স্বামীর নির্যাতন মেনে নিতেন। তখন তারা মুখ খুলে কোনো কথা বলতেন না। এখন নারীরা নির্যাতন হলেই তার প্রতিকার চান। এখন নির্যাতনের শিকার হলেই নারীরা তাদের শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে আসেন। আমরা নারীদের সবসময় সহযোগিতা করি। নারীরা এলে কাউন্সিলিং করি এবং তাদের সহযোগিতা করি।