ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮,

ভারতে মসজিদ থেকে মন্দিরঃ

মোঃ মুজিবুর রহমান কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

ভারতে, বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ওপর রাম মন্দির নির্মাণের রায়ের পর, আরও একটি প্রাচীন মসজিদের ভেতর মন্দিরের অস্তিত্ব খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারাণসী এলাকার জ্ঞানবাপী মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতর কোনও মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ রায় নিয়ে এরইমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।বারাণসী শহরটিকে ভারতের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়; হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধির স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয় এটিকে। এখানে ১৭ শতকের জ্ঞানভাপি মসজিদ নিয়ে তিক্ত আইনি বিরোধ শহরের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বারাণসীর বাসিন্দা বিজয় দত্ত তিওয়ারি বলেন, “ঘর্ষণ ইতিমধ্যেই হয়েছে, এখন লড়াই চলবে।”একজন হিন্দু আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, কোনও মন্দির ভেঙে ওই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল কি না, ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তা সমীক্ষা করে দেখবে। কিন্তু ভারতের মুসলিম নেতারা অনেকেই মনে করছেন, কোর্টের এই রায় অসাংবিধানিক এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ভূমিকাও আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।মসজিদটি কড়া পুলিশি প্রহরায় রয়েছে, এবং ইতোমধ্যে কংক্রিটের দেয়াল ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মুসলমানরা যারা এখনও দিনে পাঁচবার মসজিদটিতে নামাজের জন্য যান, তাদেরকে মসজেদে প্রবেশের আগে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পার করে যেতে হয়। ভারতের সাধারণ নির্বাচনের চলাকালীন সেই নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে আদালতের একটি রায়ে হিন্দু উপাসকদের মসজিদের ভেতরে প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছে৷  এই রায়, অযোধ্যার বাবরির পর ভারতে আরেকটি মন্দির-মসজিদ বিবাদ নতুন করে উসকে দেবে বলেও অনেক পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন।ভারতজুড়ে ইতিমধ্যে মসজিদ এবং অন্যান্য মুসলিম স্থাপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে কয়েক ডজন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। ভারতে এমন একটি আইন থাকা সত্ত্বেও বিচারকরা মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন, যে আইনে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় উপাসনালয়গুলোর পরিবর্তন স্থগিত করে দেয়া হয়। ওই আইনে পরিষ্কার লেখা আছে যে, দেশের সব ধর্মীয় স্থানে যেভাবে উপাসনা চলছে সেটাকে কেউ বদলাতে পারবে না।তাছাড়া ভারতে ১৯৯১ সালে পাস হওয়া ধর্মীয় উপাসনালয় আইনেও বলা হয়েছে যে, অযোধ্যা ছাড়া দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। বারাণসী সিভিল কোর্টের এই নির্দেশ সেই রায়েরও লঙ্ঘন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভারতে মসজিদ থেকে মন্দিরঃ

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

ভারতে, বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ওপর রাম মন্দির নির্মাণের রায়ের পর, আরও একটি প্রাচীন মসজিদের ভেতর মন্দিরের অস্তিত্ব খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারাণসী এলাকার জ্ঞানবাপী মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতর কোনও মন্দিরের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ রায় নিয়ে এরইমধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।বারাণসী শহরটিকে ভারতের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়; হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধির স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয় এটিকে। এখানে ১৭ শতকের জ্ঞানভাপি মসজিদ নিয়ে তিক্ত আইনি বিরোধ শহরের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বারাণসীর বাসিন্দা বিজয় দত্ত তিওয়ারি বলেন, “ঘর্ষণ ইতিমধ্যেই হয়েছে, এখন লড়াই চলবে।”একজন হিন্দু আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, কোনও মন্দির ভেঙে ওই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল কি না, ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তা সমীক্ষা করে দেখবে। কিন্তু ভারতের মুসলিম নেতারা অনেকেই মনে করছেন, কোর্টের এই রায় অসাংবিধানিক এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ভূমিকাও আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ।মসজিদটি কড়া পুলিশি প্রহরায় রয়েছে, এবং ইতোমধ্যে কংক্রিটের দেয়াল ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মুসলমানরা যারা এখনও দিনে পাঁচবার মসজিদটিতে নামাজের জন্য যান, তাদেরকে মসজেদে প্রবেশের আগে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পার করে যেতে হয়। ভারতের সাধারণ নির্বাচনের চলাকালীন সেই নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে আদালতের একটি রায়ে হিন্দু উপাসকদের মসজিদের ভেতরে প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছে৷  এই রায়, অযোধ্যার বাবরির পর ভারতে আরেকটি মন্দির-মসজিদ বিবাদ নতুন করে উসকে দেবে বলেও অনেক পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন।ভারতজুড়ে ইতিমধ্যে মসজিদ এবং অন্যান্য মুসলিম স্থাপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে কয়েক ডজন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। ভারতে এমন একটি আইন থাকা সত্ত্বেও বিচারকরা মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন, যে আইনে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় উপাসনালয়গুলোর পরিবর্তন স্থগিত করে দেয়া হয়। ওই আইনে পরিষ্কার লেখা আছে যে, দেশের সব ধর্মীয় স্থানে যেভাবে উপাসনা চলছে সেটাকে কেউ বদলাতে পারবে না।তাছাড়া ভারতে ১৯৯১ সালে পাস হওয়া ধর্মীয় উপাসনালয় আইনেও বলা হয়েছে যে, অযোধ্যা ছাড়া দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। বারাণসী সিভিল কোর্টের এই নির্দেশ সেই রায়েরও লঙ্ঘন।