ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

সরকারি চাকরি নিয়ে সমাজে দ্বিচারিতা: এক প্রশ্নে আলোচনার ঝড়

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একটি বৈপরীত্য বারবার চোখে পড়ে। একদিকে অনেকে সরকারি সেবা, বিশেষ করে সরকারি ডাক্তার, স্কুল বা কলেজ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন; অন্যদিকে বিয়ে বা সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে একই সরকারি চাকরিকে সাফল্য ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—

“সরকারি ডাক্তার ভালো লাগে না, সরকারি স্কুল ভালো না, সরকারি কলেজ ভালো না —
তারাই আবার মেয়ে বিয়ে দিতে গেলে বলে, ছেলে সরকারি চাকরি করে কিনা?”

এই প্রশ্নটি এখন নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে “সমাজের মানসিক দ্বিচারিতা” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ঢাকার সমাজবিজ্ঞানী ড. নাহিদা তাসনিম বলেন, “আমাদের সমাজে পেশার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাই মুখ্য। সরকারি চাকরি মানে একটা ‘গ্যারান্টিযুক্ত জীবন’। তাই অনেকে এর প্রতি আকৃষ্ট হন, যদিও বাস্তবে তার সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।”
সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে নাগরিকরা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা নিয়ে হতাশ, কিন্তু অন্যদিকে সেই একই কাঠামোর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বকেই জীবনযাত্রার মাপকাঠি হিসেবে ধরছেন। এ থেকেই জন্ম নিচ্ছে এক অদ্ভুত মানসিক দ্বন্দ্ব।
রাজধানীর এক অভিভাবক জানান, “আমি নিজে কখনও সরকারি অফিসে কাজ করতে চাইনি। কিন্তু মেয়ের জন্য বর দেখতে গেলে প্রথমেই দেখি ছেলেটার চাকরি সরকারি কিনা। সমাজ এমনই, না বললেই নয়।”
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রবণতা বদলাতে হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের সংস্কারও জরুরি। চাকরির ধরন নয়, মানুষের যোগ্যতা ও সততাকেই বিচার মানদণ্ডে আনতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, সরকারি চাকরি নিয়ে এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমাজের বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সমালোচনা ও আকাঙ্ক্ষা একসাথে পথ চলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরকারি চাকরি নিয়ে সমাজে দ্বিচারিতা: এক প্রশ্নে আলোচনার ঝড়

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় একটি বৈপরীত্য বারবার চোখে পড়ে। একদিকে অনেকে সরকারি সেবা, বিশেষ করে সরকারি ডাক্তার, স্কুল বা কলেজ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন; অন্যদিকে বিয়ে বা সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে একই সরকারি চাকরিকে সাফল্য ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্ন ঘুরছে—

“সরকারি ডাক্তার ভালো লাগে না, সরকারি স্কুল ভালো না, সরকারি কলেজ ভালো না —
তারাই আবার মেয়ে বিয়ে দিতে গেলে বলে, ছেলে সরকারি চাকরি করে কিনা?”

এই প্রশ্নটি এখন নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে একে “সমাজের মানসিক দ্বিচারিতা” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ঢাকার সমাজবিজ্ঞানী ড. নাহিদা তাসনিম বলেন, “আমাদের সমাজে পেশার প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাই মুখ্য। সরকারি চাকরি মানে একটা ‘গ্যারান্টিযুক্ত জীবন’। তাই অনেকে এর প্রতি আকৃষ্ট হন, যদিও বাস্তবে তার সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।”
সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে নাগরিকরা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা নিয়ে হতাশ, কিন্তু অন্যদিকে সেই একই কাঠামোর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বকেই জীবনযাত্রার মাপকাঠি হিসেবে ধরছেন। এ থেকেই জন্ম নিচ্ছে এক অদ্ভুত মানসিক দ্বন্দ্ব।
রাজধানীর এক অভিভাবক জানান, “আমি নিজে কখনও সরকারি অফিসে কাজ করতে চাইনি। কিন্তু মেয়ের জন্য বর দেখতে গেলে প্রথমেই দেখি ছেলেটার চাকরি সরকারি কিনা। সমাজ এমনই, না বললেই নয়।”
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই প্রবণতা বদলাতে হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধের সংস্কারও জরুরি। চাকরির ধরন নয়, মানুষের যোগ্যতা ও সততাকেই বিচার মানদণ্ডে আনতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, সরকারি চাকরি নিয়ে এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমাজের বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সমালোচনা ও আকাঙ্ক্ষা একসাথে পথ চলে।