ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮,

স্ট্রেচারে পড়ে ছিল মায়ের নিথর দেহ, বুকের ওপর শুয়ে কাঁদছিল দেড় বছরের শিশুটি

রিপোর্টার সৈয়দ রাসেল 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:১৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন এক নারী। তাঁর সঙ্গে ছিল দেড় বছর বয়সী এক শিশু। স্থানীয় মানুষেরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে ওই নারীর মৃত্যু হয়। কিন্তু তখনো জানা যায়নি তাঁর পরিচয়। এদিকে মায়ের কাছে যাবে বলে কেঁদেই চলে শিশুটি, তার কপালেও আঘাত। স্ট্রেচারে পড়ে থাকা মায়ের নিথর দেহের ওপর শুয়ে কাঁদছিল সে। আহত শিশুটিকে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় আর মায়ের লাশ রাখা হয় হিমাগারে।হৃদয়বিদারক এ ঘটনা মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেটা দেখে রোববার দুপুরে হাসপাতালে ছুটে আসেন ওই নারীর স্বজনেরা। স্বজনদের দেখেও কান্না থামছে না শিশুটির। তার দুই চোখ খুঁজে চলছে মাকে।শিশুটির নাম মেহেদি হাসান। তার মায়ের নাম জায়েদা (৩২)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কুশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। রোববার দুপুরে নিহত জায়েদার বড় ভাই মো. রবিন মিয়া খবর পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। রবিন মিয়া বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে জানতে পেরে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেলে এসেছি এবং পুলিশের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেছি। আমার বোন ভালুকায় চাকরি করত। বোন শুধু ঈদে বাড়ি যেত। প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। বোন হারিয়ে গেছে। বোনের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে বড় করতে চাই।’ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে জায়েদা রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। জায়েদা ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ব্যক্তিরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের মাধ্যমে হতাহতদের উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আটটার দিকে ওই নারী মারা যান। আর শিশুটি হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটিকে ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনেরা দেখভাল করেন।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস রোববার বলেন, শিশুর স্বজনের পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হস্তান্তর করা হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত। আর ময়নাতদন্ত শেষে জায়েদার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্ট্রেচারে পড়ে ছিল মায়ের নিথর দেহ, বুকের ওপর শুয়ে কাঁদছিল দেড় বছরের শিশুটি

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:১৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন এক নারী। তাঁর সঙ্গে ছিল দেড় বছর বয়সী এক শিশু। স্থানীয় মানুষেরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে ওই নারীর মৃত্যু হয়। কিন্তু তখনো জানা যায়নি তাঁর পরিচয়। এদিকে মায়ের কাছে যাবে বলে কেঁদেই চলে শিশুটি, তার কপালেও আঘাত। স্ট্রেচারে পড়ে থাকা মায়ের নিথর দেহের ওপর শুয়ে কাঁদছিল সে। আহত শিশুটিকে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় আর মায়ের লাশ রাখা হয় হিমাগারে।হৃদয়বিদারক এ ঘটনা মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়ে। সেটা দেখে রোববার দুপুরে হাসপাতালে ছুটে আসেন ওই নারীর স্বজনেরা। স্বজনদের দেখেও কান্না থামছে না শিশুটির। তার দুই চোখ খুঁজে চলছে মাকে।শিশুটির নাম মেহেদি হাসান। তার মায়ের নাম জায়েদা (৩২)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কুশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। রোববার দুপুরে নিহত জায়েদার বড় ভাই মো. রবিন মিয়া খবর পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। রবিন মিয়া বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে জানতে পেরে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেলে এসেছি এবং পুলিশের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেছি। আমার বোন ভালুকায় চাকরি করত। বোন শুধু ঈদে বাড়ি যেত। প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। বোন হারিয়ে গেছে। বোনের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে বড় করতে চাই।’ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে জায়েদা রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। জায়েদা ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ব্যক্তিরা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের মাধ্যমে হতাহতদের উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁদের ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আটটার দিকে ওই নারী মারা যান। আর শিশুটি হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটিকে ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনেরা দেখভাল করেন।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস রোববার বলেন, শিশুর স্বজনের পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হস্তান্তর করা হবে না। এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত। আর ময়নাতদন্ত শেষে জায়েদার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।