ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত

হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল থাকলেও রয়েছে ক্রেতা সংকট

স্টাফ রিপোর্টার :মেহেদী হাসান সবুজ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: ঈদের আগে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু তুলেছেন বেপারিরা। দেশের নানা প্রান্তের বড় বড় খামার এবং গৃহস্থ বাড়িতে লালন-পালন করা গরু পশুর হাটগুলোতে আনা হয়েছে কোরবানির জন্য।হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল থাকলেও রয়েছে ক্রেতা সংকট। দিনভর লোকজন হাটে আসছেন এবং চড়া দাম শুনে না কিনেই চলে যাচ্ছেন।এতে গরুর বেপারি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।বেপারি আবুল ফজল বলেন, প্রায় তিন দিন হলো এই হাটে আসা, ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে।গত বার এমন সময়ে আমার প্রায় সব গরুই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার ক্রেতারা আসেন, দাম শুনে চলে যান। গরুর দাম এক-দেড় লাখ টাকা চাইলে কাস্টমার সত্তর, আশি হাজার টাকা বলে চলে যায়। এত টাকা হাতে রেখে তো আমরা দাম চাই না। এ দামে বিক্রি করলে বাড়িঘর বেচা লাগবে। গরুর খাবারে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে, আগে যেখানে গরুর খাবার ১২০০ টাকা বস্তা কিনতাম এখন সেই বস্তা ২৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন একটি গরুকে কম করে হলেও ৪-৫ কেজি দানাদার খাবার দিতে হয়, কোনো কোনো গরুকে ৬-৭ কেজি দিতে হয়। এক থেকে দুই বছর যে গরুগুলো পাললাম সেই খরচই উঠছে না।তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে বেপারিরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। গরুর দামের তুলনায় গরুর আকার আকৃতি পছন্দ হয় না। হাটে মাঝারি ও বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর দাম বেশি।ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রায় ৮-১০টি হাট ঘুরে গরু দেখেছেন মো রিয়াদ। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই কোরবানির সময় আসলে বিভিন্ন হাটে যাওয়া হয় গরু যাচাই-বাছাই করার জন্য। এবার সবগুলো হাটেই গরু অনেক এসেছে। কিন্তু বেপারিরা দাম ছাড়ছে না। এই হাটে একটি গরু পছন্দ হয়েছে, দাম চাচ্ছে তিল লাখ। আমি এক লাখ আশি পর্যন্ত বলেছি। একই সাইজের এবং রঙের গরু এই দামে গত বার কিনেছি। প্রতিবার শেষ সময়ে গরু বিক্রি করতে না পারলে বেপারিরা দাম কমিয়ে দেয়। এখন সেই আশায় আছি। ভারতীয় গরু বাজারে এলে হয়তো দাম কিছুটা কমবে।  হাটে একটি ছোট গরু দামা-দামি করছিলেন ক্রেতা। বিক্রেতা গরুর দাম চেয়েছেন ৯০ হাজার। এই ক্রেতা ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলে বিক্রেতাকে গরুটি দেবার জন্য অনুরোধ করেন। বিক্রেতা রাজি না হওয়ায় আক্ষেপের সুরে তিনি তার সঙ্গে আসা অন্য দুজনকে বলন, গরু না পেলে এই দামে কয়েকটা ছাগল কিনে নিয়ে যাব।হাটের বেপারিরা অনেক বেশি কঠোর। এই গরু ৯০ হাজারের গরু না। কসাই রেটেও যদি এই গরু কেজি হিসেবে বিক্রি করে তাও ৫০ হাজার টাকার বেশি মাংস হবে না। কোরবানিতে তো আর এভাবে ওজন করে গরু কেনা ঠিক না। তাই ৬৫ পর্যন্ত বলেছি। এরপর আমার আর বাজেট নেই। এই দামে না পেলে বাধ্য হয়ে ছাগল কিনতে হবে।হাসিল কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা এক লোক বলেন ;গত রাতে গরু বেচাকেনা ভালো হয়েছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরু বিক্রি কিছুটা কম। তাই হাসিল ঘরে তেমন একটা চাপ নেই। সন্ধ্যার পর থেকে হয়তো বেচাবিক্রি বাড়বে।এবার ঈদে ঢাকায় ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১১টি হাট বসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। পাশাপাশি উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হাট বসেছে ৯টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল থাকলেও রয়েছে ক্রেতা সংকট

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

ঢাকা: ঈদের আগে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গরু তুলেছেন বেপারিরা। দেশের নানা প্রান্তের বড় বড় খামার এবং গৃহস্থ বাড়িতে লালন-পালন করা গরু পশুর হাটগুলোতে আনা হয়েছে কোরবানির জন্য।হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল থাকলেও রয়েছে ক্রেতা সংকট। দিনভর লোকজন হাটে আসছেন এবং চড়া দাম শুনে না কিনেই চলে যাচ্ছেন।এতে গরুর বেপারি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।বেপারি আবুল ফজল বলেন, প্রায় তিন দিন হলো এই হাটে আসা, ২৮টি গরুর মধ্যে মাত্র ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে।গত বার এমন সময়ে আমার প্রায় সব গরুই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার ক্রেতারা আসেন, দাম শুনে চলে যান। গরুর দাম এক-দেড় লাখ টাকা চাইলে কাস্টমার সত্তর, আশি হাজার টাকা বলে চলে যায়। এত টাকা হাতে রেখে তো আমরা দাম চাই না। এ দামে বিক্রি করলে বাড়িঘর বেচা লাগবে। গরুর খাবারে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে, আগে যেখানে গরুর খাবার ১২০০ টাকা বস্তা কিনতাম এখন সেই বস্তা ২৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন একটি গরুকে কম করে হলেও ৪-৫ কেজি দানাদার খাবার দিতে হয়, কোনো কোনো গরুকে ৬-৭ কেজি দিতে হয়। এক থেকে দুই বছর যে গরুগুলো পাললাম সেই খরচই উঠছে না।তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে বেপারিরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। গরুর দামের তুলনায় গরুর আকার আকৃতি পছন্দ হয় না। হাটে মাঝারি ও বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর দাম বেশি।ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রায় ৮-১০টি হাট ঘুরে গরু দেখেছেন মো রিয়াদ। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই কোরবানির সময় আসলে বিভিন্ন হাটে যাওয়া হয় গরু যাচাই-বাছাই করার জন্য। এবার সবগুলো হাটেই গরু অনেক এসেছে। কিন্তু বেপারিরা দাম ছাড়ছে না। এই হাটে একটি গরু পছন্দ হয়েছে, দাম চাচ্ছে তিল লাখ। আমি এক লাখ আশি পর্যন্ত বলেছি। একই সাইজের এবং রঙের গরু এই দামে গত বার কিনেছি। প্রতিবার শেষ সময়ে গরু বিক্রি করতে না পারলে বেপারিরা দাম কমিয়ে দেয়। এখন সেই আশায় আছি। ভারতীয় গরু বাজারে এলে হয়তো দাম কিছুটা কমবে।  হাটে একটি ছোট গরু দামা-দামি করছিলেন ক্রেতা। বিক্রেতা গরুর দাম চেয়েছেন ৯০ হাজার। এই ক্রেতা ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলে বিক্রেতাকে গরুটি দেবার জন্য অনুরোধ করেন। বিক্রেতা রাজি না হওয়ায় আক্ষেপের সুরে তিনি তার সঙ্গে আসা অন্য দুজনকে বলন, গরু না পেলে এই দামে কয়েকটা ছাগল কিনে নিয়ে যাব।হাটের বেপারিরা অনেক বেশি কঠোর। এই গরু ৯০ হাজারের গরু না। কসাই রেটেও যদি এই গরু কেজি হিসেবে বিক্রি করে তাও ৫০ হাজার টাকার বেশি মাংস হবে না। কোরবানিতে তো আর এভাবে ওজন করে গরু কেনা ঠিক না। তাই ৬৫ পর্যন্ত বলেছি। এরপর আমার আর বাজেট নেই। এই দামে না পেলে বাধ্য হয়ে ছাগল কিনতে হবে।হাসিল কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা এক লোক বলেন ;গত রাতে গরু বেচাকেনা ভালো হয়েছে। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরু বিক্রি কিছুটা কম। তাই হাসিল ঘরে তেমন একটা চাপ নেই। সন্ধ্যার পর থেকে হয়তো বেচাবিক্রি বাড়বে।এবার ঈদে ঢাকায় ২০টি কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১১টি হাট বসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। পাশাপাশি উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হাট বসেছে ৯টি।