অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ৯ দফা সুপারিশ মালা পেশ:

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন- BHRC গত ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে BHRরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগর অঞ্চলের তিন শতাধিক মানবাধিকার কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে BHKCর পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি সরকারের নিকট স্মারকলিপি আকারে পেশ করা হয়। নিম্মে দাবি গুলো দেয়া হলোঃ
১. অন্তবর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই পৃথক পৃথক একাধিক নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জুলাই-অগাস্ট ২০২৪ এর গণহ*ত্যা এবং মানবাধিকার কর্মী হ*ত্যা নিখোঁজ (ওম) এবং আহতদের নামের তালিকা তৈরী করতে হবে। নি*হতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে ক্ষতিপুরণ প্রদান করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই নি*র্যাতন কারীদের গ্রে*ফতার ও আইনে সোপর্দ করতে হবে।
২. বর্তমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন- NHAC’কে ভেঙে একটি উচ্চ পুনর্গঠন কমিটি গঠন পূর্বক নতুন ভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইন প্রমোয়ন করতে হবে এবং মানব বান্ধব NHRC গঠন করতে হবে। যেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার পাবে।
৩. NHRC কে অবশ্যই সরকারের দালালি করার কাজে নিয়োজিত করা যাবে না। NHRC কে একটি নিরপেক্ষ ও স্ব*তন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ দিতে হবে। দেশের প্রকৃত ও সিনিয়র মানবাধিকার কর্মীদের NHRC’র সর্বভরের কমিটি গুলোতে সম্পৃত্ত করতে হবে।
৪. বিগত স্বৈরাচার সরকার এবং কামাল উদ্দিন বাহিনীর হাতে নির্ধাতিত মানবাধিকার কর্মী যথাক্রমে নি*হত, নি*খোঁজ (গু*ম) এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতি পূরণ প্রদান করতে হবে।
৫. জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও চাপ দিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ৩টি রেজিস্ট্রেশন স্থগিত রয়েছে যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। স্থগিত কৃত নিবন্ধন গুলো পুনরায় চালু করার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে স্থগিত রেজিস্ট্রেশন গুলো পূর্ণ বহাল করতে হবে।
৬. স্বৈরাচার সরকারের দোসর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারি এবং ফরমায়িশি বিচাপতি ও বিচারকদের তালিকা তৈরি করে অবিলম্বে তাদের অপসারণ করতে হবে।
4. মৃ*ত্যু দ*ন্ড আইন বাংলাদেশে বাতিল/রোহিত করতে হবে।
পৃথিবীর প্রায় সকল উন্নত দেশে ইতিমধ্যে মৃ*ত্যু দন্ড আইনটি বাতিল করা হয়েছে। মৃ*ত্যু দন্ড আইনটি মানবতা বিরোধী একটি নিষ্ঠুর আইন। বাংলাদেশের এই আইনটি বাতিল করতে হবে।
৮. খাবৎ জীবন কারাদন্ড আইন সংশোধন করতে হবে।
বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের আইনে যাবতজীবন কারাদণ্ডর মেয়াদ ছিল ১৪ বছর। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশো বর্তমানে
যাবতজীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩২ বছর করা হয়েছে। ক্ষমতাসিন প্রতিটি সরকার ও রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিপক্ষ নেতা ও কর্মীদের কঠোর শাস্তি দেয়ার হীন উদ্দেশে পায়ক্রমে এভাবে শান্তির মেয়াদ বৃ*দ্ধি করে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা সহ অন্যান্য দেশে যাবত জীবন শাস্তির মেয়াদ ১৪ বছর থেকে ১৫ বছর রয়েছে।
৯. ৯০ কর্ম দিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পূর্ণ করতে হবে:
প্রতিটি নাগরিক ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে, এটা নাগরিকের মানবাধিকার। বিনা বিচারে বছরের পর বছর কারাগারে আটক রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই ৯০ দিনের মধ্যে মামলা তথা বিচার কার্য শেষ হয়। বাংলাদেশে বিচারকের অভাব থাকলে বিচারক আরো নিয়োগ দিতে হবে। প্রয়োজনে অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি ও বিচারকদের স্বল্প কালীন সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে হবে এবং লিগ্যাল এইড কর্মকান্ডে অভিজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের বিচারকার্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। BHRC’র উপস্থাপিত ৯ দফা দাবি মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা সহ সারা দেশে ১৭ কোটি মানুষের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
৯ দফা দাবি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী : সপ্তাহের মধ্যে মেনে নেয়ার জোড় দাবি জানানো হয়। সপ্তাহের মধ্যে সরকার দাবি সূমহ না মানলে ৪ সপ্তাহ পর BHRC থেকে সারা দেশ ও বিদেশের শামা গুল্যে একযুগে অব্যাহত ভাবে নিজ নিজ এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করবে। আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচিতে থাকবে মানব বন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট এবং স্মারকলিপি প্রদান।
BHRC ইতিমধ্যে ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট পৃথক পৃথক স্মারকলিপির কপি পেশ করা হয়।















