ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে

আহত কয়েকজনের হাত-পা বিচ্ছিন্নবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে 

রিপোর্টার মোঃ ওসামা বিন আজম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরে একটি বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত ১০ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন– মো. হৃদয় (১৯), মো. ইউসুফ (৩২) ও সুজন (২৫)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি নিম্নমানের ছিল। এতে গ্যাস নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বাসের এক পাশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রঞ্জিত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পৌর শহরের মুক্তিগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার সময় মেঘনা পরিবহনের একটি বাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। বাসটি রামগতি-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী রুটে চলাচল করে। দুর্ঘটনার পর গ্যাস পাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ২০খুঁটিতে বেঁধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন, দেড় বছর পর বিচারের দাবিযতগুলো মায়ের বুক খালি করেছেন, এগুলোর হিসাব দিয়ে যাইয়েন

নিহত হৃদয় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে ও পেশায় মোটর মেকানিক। ইউসুফ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাঞ্চানগর গ্রামের সুজা মিয়ার ছেলে ও সুজন সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামের বটু মিয়ার ছেলেআহতরা হলেন– মো. রকি, মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন, সিরাজ মিয়া, মো. হৃদয়, মো. সুমন, শান্ত খান ও আবদুল মালেকসহ অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আল-আমিন বলেন, নিহত তিন জনই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। আহতরাও অটোরিকশায় গ্যাস নেওয়ার জন্য পাম্পে অপেক্ষারত ছিলেন। আহতদের মধ্যে বাস চালক ও তার সহকারীও রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। তাৎক্ষণিক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকট শব্দে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাম্পে অপেক্ষারত চালকরা ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রঞ্জিত কুমার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি নিম্নমানের ছিল। এতে গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাদের আমরা চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আহত আছেন অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে ১০ জনেরই কারো হাত, কারো পা নেই। এ ছাড়া অন্যরা ‍বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছেন। আমরা অধিকাংশ রোগীকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আহত কয়েকজনের হাত-পা বিচ্ছিন্নবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে 

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

লক্ষ্মীপুরে একটি বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত ১০ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন– মো. হৃদয় (১৯), মো. ইউসুফ (৩২) ও সুজন (২৫)।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি নিম্নমানের ছিল। এতে গ্যাস নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বাসের এক পাশ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রঞ্জিত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রোববার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পৌর শহরের মুক্তিগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার সময় মেঘনা পরিবহনের একটি বাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। বাসটি রামগতি-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী রুটে চলাচল করে। দুর্ঘটনার পর গ্যাস পাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ২০খুঁটিতে বেঁধে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন, দেড় বছর পর বিচারের দাবিযতগুলো মায়ের বুক খালি করেছেন, এগুলোর হিসাব দিয়ে যাইয়েন

নিহত হৃদয় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে ও পেশায় মোটর মেকানিক। ইউসুফ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাঞ্চানগর গ্রামের সুজা মিয়ার ছেলে ও সুজন সদর উপজেলার চরমনসা গ্রামের বটু মিয়ার ছেলেআহতরা হলেন– মো. রকি, মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন, সিরাজ মিয়া, মো. হৃদয়, মো. সুমন, শান্ত খান ও আবদুল মালেকসহ অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্রিন লাইফ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আল-আমিন বলেন, নিহত তিন জনই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক। আহতরাও অটোরিকশায় গ্যাস নেওয়ার জন্য পাম্পে অপেক্ষারত ছিলেন। আহতদের মধ্যে বাস চালক ও তার সহকারীও রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হয়। তাৎক্ষণিক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকট শব্দে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাম্পে অপেক্ষারত চালকরা ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রঞ্জিত কুমার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি নিম্নমানের ছিল। এতে গ্যাস নেওয়ার সময় সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাদের আমরা চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাইনি। আহত আছেন অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে ১০ জনেরই কারো হাত, কারো পা নেই। এ ছাড়া অন্যরা ‍বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছেন। আমরা অধিকাংশ রোগীকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি।