ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

ঈদের আমেজ কাটেনি বাজারে, ফাঁকা ঢাকাতেও দাপট গরু-খাসির

রিপোর্টার হাসান মাহমুদ 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ১২৩ বার পড়া হয়েছে

ঈদের আমেজ কাটেনি বাজারে, ফাঁকা ঢাকাতেও দাপট গরু-খাসিরঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত ইতোমধ্যে খুলেছে। কিন্তু নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের বেশিরভাগই এখনও ঢাকায় ফেরেনি। ফলে এখনও অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। আর ফাঁকা ঢাকার বাজারে ক্রেতার আনাগোনা খুবই কম। তবুও গরু, খাসিসহ সব ধরনের মুরগির মাংসের দাম বাড়তিই যাচ্ছে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা কেজি দরে, পাশাপাশি ভালো মানের খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে, সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, কক প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, বড় আকারের সোনালী মোড়ক প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০‌ টাকায়। গরুর মাংস বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া বিষয়ে বনানী বাজারের মাংস বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় গরুর মাংসের দাম বেড়েছে, সে সময় ৮০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় বেশি মাংস বিক্রি করা যাচ্ছে না, সে কারণে একটু বেশি দর ধরে লোকসান পোষানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে গরুর বাজারেই সব ধরনের গরুর দাম বাড়তি যাচ্ছে, এরপর গুরু আনার খরচ, পরিবহন খরচ, রাস্তা খরচ, কর্মচারী খরচ, দোকান ভাড়া সবমিলিয়ে ৭৮০ টাকায় মাংস বিক্রি করলেও লোকসান গুণতে হয় মাংসের বাজার চড়া হলেও ক্রেতা না থাকায় সবজিতে স্বস্তি ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকারদ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার শুক্রবার এলেই উত্তাপ বাড়ে মাছ-সবজির বাজারেগরুর মাংস কিনতে আসা ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, যেকোনো অজুহাতে যেকোনো উপলক্ষ্যে গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দেয় বিক্রেতারা। সাধারণ ক্রেতারা বলতে গেলে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে। ঈদের সময় বেশি দাম রেখেছে সেটা না হয় সব ক্রেতারা মেনে নিয়েছে, কিন্তু ঈদের পর আজও বাড়তি দাম গরুর মাংসের। তরমুজ যেভাবে বয়কট করেছিল সাধারণ মানুষ, তেমনি গরুর মাংসের ক্ষেত্রে এভাবে বয়কট করলে হয়তোবা এই ব্যবসায়ীরা উচিত শিক্ষা পাবে। এত টাকা দামে গরুর মাংস কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, বাড়িতে মেহমান আসার কারণে বাধ্য হয়ে এই বাড়তি দামে গরুর মাংস কিনলাম।অন্যদিকে ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম বেড়ে যাওয়া বিষয়ে মহাখালী বাজারের বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, ঈদের সময় থেকেই সব ধরনের মুরগির দাম বাড়তি ছিল। সব খামারিরা ঈদকে টার্গেট করেই মুরগি বড় করেছিল, ঈদের সময় বেশিরভাগ মুরগি বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বাজারে মুরগি সরবরাহ কিছুটা কম। প্রতিটি খামার থেকে আবার যখন এক সঙ্গে মুরগি বাজারে ছাড়া হবে তখন দাম কমে আসবে। ঈদের পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম, কারণ মানুষ এখনো ঈদ শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসেনি। যে কারণে অল্প মাল নিয়ে আসছি, আর যেহেতু পাইকারি বাজারেই বেশি দামে সব ধরনের মুরগি কিনতে হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রাজধানীর মালিবাগ বাজারে মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী লতিফুর রহমান বলেন, যে ব্রয়লার মুরগি কিছুদিন আগে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা করে কিনলাম, সেই ব্রয়লারই আজ কিনতে হল ২৪০ টাকা কেজি। হুটহাট এভাবে যখন তখন ব্রয়লারসহ অন্যান্য মুরগির দাম বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। এর ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের, তারা বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনছেন তিনি বলেন, ঈদের সময় ব্যবসায়ীরা সব মুরগির দাম বাড়িয়েছে, সেটা না হয় আমরা মেনে নিয়ে কিনেছি। কিন্তু ঈদ পার হওয়ার প্রায় সপ্তাহ হয়ে গেল, কিন্তু এখনো কেন মুরগির দাম এত বেশি থাকবে? নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনে ব্রয়লার মুরগি। বর্তমানে এই ব্রয়লার মুরগিও সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদের আমেজ কাটেনি বাজারে, ফাঁকা ঢাকাতেও দাপট গরু-খাসির

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

ঈদের আমেজ কাটেনি বাজারে, ফাঁকা ঢাকাতেও দাপট গরু-খাসিরঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত ইতোমধ্যে খুলেছে। কিন্তু নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের বেশিরভাগই এখনও ঢাকায় ফেরেনি। ফলে এখনও অনেকটাই ফাঁকা রাজধানী ঢাকা। আর ফাঁকা ঢাকার বাজারে ক্রেতার আনাগোনা খুবই কম। তবুও গরু, খাসিসহ সব ধরনের মুরগির মাংসের দাম বাড়তিই যাচ্ছে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা কেজি দরে, পাশাপাশি ভালো মানের খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে, সোনালী মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, কক প্রতি কেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, বড় আকারের সোনালী মোড়ক প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০‌ টাকায়। গরুর মাংস বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া বিষয়ে বনানী বাজারের মাংস বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় গরুর মাংসের দাম বেড়েছে, সে সময় ৮০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় বেশি মাংস বিক্রি করা যাচ্ছে না, সে কারণে একটু বেশি দর ধরে লোকসান পোষানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে গরুর বাজারেই সব ধরনের গরুর দাম বাড়তি যাচ্ছে, এরপর গুরু আনার খরচ, পরিবহন খরচ, রাস্তা খরচ, কর্মচারী খরচ, দোকান ভাড়া সবমিলিয়ে ৭৮০ টাকায় মাংস বিক্রি করলেও লোকসান গুণতে হয় মাংসের বাজার চড়া হলেও ক্রেতা না থাকায় সবজিতে স্বস্তি ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকারদ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার শুক্রবার এলেই উত্তাপ বাড়ে মাছ-সবজির বাজারেগরুর মাংস কিনতে আসা ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, যেকোনো অজুহাতে যেকোনো উপলক্ষ্যে গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে দেয় বিক্রেতারা। সাধারণ ক্রেতারা বলতে গেলে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে। ঈদের সময় বেশি দাম রেখেছে সেটা না হয় সব ক্রেতারা মেনে নিয়েছে, কিন্তু ঈদের পর আজও বাড়তি দাম গরুর মাংসের। তরমুজ যেভাবে বয়কট করেছিল সাধারণ মানুষ, তেমনি গরুর মাংসের ক্ষেত্রে এভাবে বয়কট করলে হয়তোবা এই ব্যবসায়ীরা উচিত শিক্ষা পাবে। এত টাকা দামে গরুর মাংস কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, বাড়িতে মেহমান আসার কারণে বাধ্য হয়ে এই বাড়তি দামে গরুর মাংস কিনলাম।অন্যদিকে ব্রয়লারসহ সব ধরনের মুরগির দাম বেড়ে যাওয়া বিষয়ে মহাখালী বাজারের বিক্রেতা লাল মিয়া বলেন, ঈদের সময় থেকেই সব ধরনের মুরগির দাম বাড়তি ছিল। সব খামারিরা ঈদকে টার্গেট করেই মুরগি বড় করেছিল, ঈদের সময় বেশিরভাগ মুরগি বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে বাজারে মুরগি সরবরাহ কিছুটা কম। প্রতিটি খামার থেকে আবার যখন এক সঙ্গে মুরগি বাজারে ছাড়া হবে তখন দাম কমে আসবে। ঈদের পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম, কারণ মানুষ এখনো ঈদ শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসেনি। যে কারণে অল্প মাল নিয়ে আসছি, আর যেহেতু পাইকারি বাজারেই বেশি দামে সব ধরনের মুরগি কিনতে হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। রাজধানীর মালিবাগ বাজারে মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী লতিফুর রহমান বলেন, যে ব্রয়লার মুরগি কিছুদিন আগে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা করে কিনলাম, সেই ব্রয়লারই আজ কিনতে হল ২৪০ টাকা কেজি। হুটহাট এভাবে যখন তখন ব্রয়লারসহ অন্যান্য মুরগির দাম বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। এর ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের, তারা বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনছেন তিনি বলেন, ঈদের সময় ব্যবসায়ীরা সব মুরগির দাম বাড়িয়েছে, সেটা না হয় আমরা মেনে নিয়ে কিনেছি। কিন্তু ঈদ পার হওয়ার প্রায় সপ্তাহ হয়ে গেল, কিন্তু এখনো কেন মুরগির দাম এত বেশি থাকবে? নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কিনে ব্রয়লার মুরগি। বর্তমানে এই ব্রয়লার মুরগিও সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।