এক রাতে বিশ্বজুড়ে হাই কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়: সাহাবুদ্দিন

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশর হাই কমিশন ও কনস্যুলেটগুলো থেকে এক রাতের মধ্যে তাঁর ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছিল, যা তিনি মূলত তাঁকে অপসারণের ইঙ্গিত বা প্রথম ধাপ হিসেবে মনে করেছিলেন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা বিদেশ সফরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি বাংলাদেশ হাই কমিশনে তাঁর ছবি টানানো দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি কনস্যুলেট প্রধানকে ভর্ৎসনা করেন এবং প্রশ্ন তোলেন কেন রাষ্ট্রপতির ছবি সেখানে ঝুলছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি হাই কমিশন ও কনস্যুলেটগুলোতে রাষ্ট্রপতির ছবি প্রদর্শন একটি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। কারণ রাষ্ট্রপতিই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা হঠাৎ করে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া এবং এক রাতের মধ্যে প্রায় সব মিশন থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা ছিল নজিরবিহীন ঘটনা।
তিনি বলেন, “ওই রাতেই পৃথিবীর সমস্ত দেশে বাংলাদেশের হাই কমিশন ও কনস্যুলেট থেকে আমার ছবি নামিয়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনা ছিল মূলত আমাকে অপসারণের ইঙ্গিত বা প্রথম ধাপ।”
রাষ্ট্রপতি জানান, বিষয়টি প্রথমে তাঁর নজরে আসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। এরপর তিনি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং মনে করেন, এটি হয়তো তাঁকে অপসারণের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। পরবর্তী ধাপে তাঁকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের মধ্যেও একটি নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে—যেন রাষ্ট্রপতিকে আর রাখা হচ্ছে না। তবে এসব পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার নাম তিনি প্রকাশ করতে চান না। তবে ঘটনার পর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি তাঁর আপত্তি ও অসন্তোষের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
চিঠি পাওয়ার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ নিয়ে তিনি আর কথা বলতে চান না। এরপর থেকে তিনি নীরব থাকেন।
ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে—বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসরণের ধারাবাহিকতা এবং সাংবিধানিক পদমর্যাদার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে।





















