
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আশা তরুণ ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে শুরু হয় গণঅধিকার পরিষদ। কিন্তু ১৬ মাসের মাথায় বেজে উঠে বিহবলের করুণ সুর। রেজাকিবরিয়াকে ঘিরে শুরু হয় বহিস্কার পাল্টা বহিস্কার, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। এরইমধ্যে ১০ ই জুলাই সম্পন্ন হলো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। প্রিতম জামান টাওয়ারে নিজেদের কার্যালয়েই নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিলো সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।
গুঞ্জন ছিলো কাউন্সিলের পুর্বেই বিবাদমান দুটি অংশের নেতাদের আপোষ হবার বিষয়ে। এ উদ্যেশ্যে একাধিকবার বসাও হয়েছে তাদের মধ্যে। কিন্তু শেষপর্যন্ত হাসান আল মামুন ছাড়া তেমন কাউকে ফিরে আসতে দেখা যায়নি নুরের দিকে। তবে বিদ্রোহী অংশের কয়েকজন নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও পছন্দের প্রার্থীদের ভোট প্রদান করতে আসেন। হাসান আল মামুন নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে গণঅধিকার পরিষদের অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন এবং পরাজিত হলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন নেতাকর্মীদের জন্য তিনি নুরুলহক নুরের সঙ্গেই আছেন।
বিদ্রোহী অংশের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশপ্রিয় অনলাইনকে জানান - ফারুক হাসান মূলত কখনোই নেতৃত্বের যায়গায় ছিলেননা এটাই তার ক্ষোভের যায়গা। এবং তিনি চেয়েছিলেন কাউন্সিলের সভাপতি সেক্রেটারি কোনো একটি পদে, তাকে নিশ্চয়তা দেয়া হোক। কিন্তু নুর সে আশ্বাস দিতে পারেনি। এই কাউন্সিলে আমাদের অংশগ্রহণ করতে আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু এভাবে বিদ্রোহ করবার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে কাউন্সিলররা ভোট দেবেনা। দির্ঘ্যদিন ধরেই কাউন্সিল হবার কথা চলছিল।
তারেক রহমান কেন নুরের বিচার চাচ্ছেন এই সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন - তিনি যুব অধিকার পরিষদের ১ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল যা ২১ সালের ৬ ডিসেম্বরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বাইরের বড় হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী নির্বাচন করে হেরে গিয়েছিলেন জামানত বাজেয়াপ্ত অর্থাৎ সেই নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে ২০% এর কম ভোট পেয়ে। তার ধারনা ছিলো নুরুলহক নুর তাকে সমর্থন না দেয়ায় তার এমন পরাজয়। এরপর সংগঠনের কোনো পদে না থাকার ঘোষণা দিয়ে দির্ঘ্যদিন পদশূন্য থাকার পরে গণঅধিকার পরিষদে নুরুলহক নুরের পরামর্শে সহকারী যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। তার ক্ষুব্ধ হবার যায়গাটি তখন থেকেই।
দেশপ্রেমী অনলাইন থেকে জানতে চাওয়া হয় - এতোদিন তাহলে তারেক রহমান নুরুলহক নুরের সঙ্গে কিভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করলেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর করেননি।
মোঃ আতাউল্লাহ তিনি প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি হওয়ার সময় তার সমর্থিত একজনকে সাধারণ সম্পাদক পদে দাবী করলে তিনি সে সমর্থন পাননি প্রবাসী নেতাদের থেকে। তাই সেই ব্যাক্তি সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। এই জেরে আতাউল্লাহ কিছু প্রবাসীদের নিয়ে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। এমন পাল্টাপাল্টি কমিটির জেরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাময়িক অব্যাহতি পেয়েছিলেন সংগঠন থেকে। এরজন্য তিনি নুরুলহক নুর ও রেজা কিবরিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরবর্তীতে তকে পদে ফিরিয়ে আনাও হয় কয়েকমাস পর অনুতপ্ত ও ভুল শিকার করে লিখিত দেয়ার পর। এখন মোসাদ বিতর্ক ঘিরে তিনি নুরুলহক নুরের বিরোদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এমনটাই জানান এই বিদ্রোহী অংশের গণঅধিকার পরিষদ নেতা।
সাদ্দাম হোসেনের বিষয়ে বলেন অর্থ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকালে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী যারা বিভিন্ন সময়ে অনুদান দেন তাদেরকে ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা বলে সহযোগিতা চাইবার একাধিক অভিযোগ আসার কারনে অর্থ কমিটি থেকে তাকে সরিয়ে আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়ায় নুরুলহক নুরের প্রতি তিনি ক্ষুব্ধ।
গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতা যিনি নুরের সঙ্গে আছেন তার সঙ্গে দেশ প্রিয় অনলাইন থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান -গতকাল ১০ই জুলাই অনুষ্ঠিত গণঅধিকার পরিষদের প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল যা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেখানে ৭৪.৬৫% কাউন্সিলর ভোটে অংশগ্রহণ করেন। এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে তারা সভাপতি হিসেবে নুরুলহক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাসেদ খানের প্রতি আস্থা রাখেন।
৮ই জুলাই ছাত্র - যুব - শ্রমিক - পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠনের সভাপতি সেক্রেটারিরা দুই পক্ষের ৫ জন করে ১০ জন ও অঙ্গসংস্থানের সভাপতি সেক্রেটারি ৮ জন মিলে একটি আপোষ মিমাংশার মিটিং হয় রাত ১০:৩০ থেকে ৬:৩০ পর্যন্ত। সেখানে তাদের দাবী ছিলো ফারুক হাসান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হবেন, অন্যকোন প্রার্থী সে পদে দাঁড়াতে পারবেননা।
কিন্তু নুরুলহক নুর এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন - প্রার্থী হওয়া সকল সদস্যের অধিকার আমি কাউকে প্রার্থী হতে নিষেধ করতে পারবোনা। প্রয়োজনে আমি প্রার্থী থেকে সরে দাড়াবো আপনি সভাপতি প্রার্থী হন। কিন্তু তারা তাতে রাজি হননি - তারা বলেছে নুরুলহক নুর নির্বাচন না করলে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হবে, কাউন্সিলররা কেউ কাউন্সিলে আসবেনা।
এবং ফারুক হাসানদের আরেকটি দাবী ছিলো বিনা নির্বাচনে উচ্চতর পরিষদে তাদের পক্ষের ৫ জনকে সদস্য করতে হবে। ও কাউন্সিল ১৪ তারিখ পিছিয়ে নিতে হবে।
কিন্তু এমন অযৌক্তিক দাবীর ফলে মিটিংটি কোনো মিমাংশা ছাড়াই শেষ হয়।
এবর দেখবার বিষয় নুরুলহক নুর ও রাসেদ খান গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে কেমন চমক নিয়ে এই মূহুর্তে সরকার পতন আন্দোলনে রাজনীতির মাঠে কেমন ভূমিকা রাখেন।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম