
খুলনায় ভাড়াটিয়া সেজে অভিনব কায়দায় ভবন মালিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। গত দুই মাসে এমন একাধিক ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।পুলিশ বলছে, প্রতারকদের প্রধান হাতিয়ার ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিশ্বাস খ্যাত স্কোপোলামিন। যা নাক বা মুখের কাছে নিলেই স্বেচ্ছায় সব কিছু বিলিয়ে দেন ভুক্তভোগী। আর চিকিৎসকরা বলছেন, অতিমাত্রায় ব্যবহারে ঘটতে পারে মৃত্যুও।সবশেষ গত ৩০ এপ্রিল খুলনার বানরগাতী এলাকার কুবা মসজিদের সামনে একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় একটি চক্র।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯ টায় ভবনের গেট খুলে সিঁড়ি বেয়ে বালতি ও টুল হাতে উপরে উঠছেন এক যুবক। সঙ্গে বোরকা পরা নারী ও মাথায় টুপি, মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি। এরপর তৃতীয় তলায় ভবন মালিকের রুমে ঢুকে করেন কুশল বিনিময়। কৌশলে গৃহকর্ত্রীকে নিয়ে যান পঞ্চম তলায়। সেখানে নিয়ে অচেতন করে লুটে নেন স্বর্ণালংকার।ভবন মালিক আব্দুর রহমান বলেন, বাসা ভাড়া নিতেই তাদের আগমন। দুদিন আগে দিয়েছিলেন অগ্রিমও।তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ির ৫ম তলায় একটি রুম ভাড়া দেওয়া হবে। তা দেখে দুই দিন আগে স্বামী-স্ত্রী দুই জন আসেন। এসে বলেন, তারা কুমিল্লা থেকে এসেছেন। দীর্ঘদিন ওই ব্যক্তি প্রবাসে ছিলেন। এখন খুলনার মোহাম্মদ নগরে বাড়ি করবেন। তাই আপাতত কয়েক মাসের জন্য বাসা ভাড়া নেবে। ভাড়া ঠিক করে ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে যান। পরে ৩০ এপ্রিল সকালে সঙ্গে এক যুবককে নিয়ে আসেন তারা। যুবকটির হাতে প্লাস্টিকের বালতি ও টুল ছিল। বালতিতে কিছু মাছ নিয়ে এসেছিল। তৃতীয় তলায় এসে ওই নারী আমার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে খুব আন্তরিকতা দেখাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমি ছাদ থেকে রুমে আসি, তারা তখন আমাকে দেখে চমকে যায়। এরপর ওই নারী আমার স্ত্রীকে কৌশলে ৫ম তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আমার স্ত্রী গলায় ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে নেয়। সেও তাদের কথা মতো দিয়ে দেয়। তারপর একটি বক্স দিয়ে বলে, এটা ফ্রিজে রেখে দেন। এরপর তারা বাড়ি থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর আমার স্ত্রী গোসল করার পর তার মনে আসে তারা হাতের বালা ও গলার চেইন নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি সোনাডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।একই কৌশলে নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, পশ্চিম বানিয়াখামারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছে চক্রটি।কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই কায়দায় সক্রিয় একাধিক চক্র। বাসা ভাড়া নিতে এসে বাড়ির নারীদের কৌশলে অচেতন করে চলে হরিলুট। নগরীর খালিশপুর কোহিনুর মোড় এলাকায় একই প্রতারণার শিকার হয়েছেন মিঠু আহম্মেদ।তিনি জানান, তাদের বাড়িতেও স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন ভাড়া নিতে আসেন। সবকিছু দেখে মোবাইল নম্বর দিয়ে যান। তবে ওই নম্বর কখনও রিসিভ করেননি। কয়েকদিন পর তারা এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তাদের হাতেও প্লাস্টিকের বালতি-টুল আর তাতে মাছ ছিল। তারাও তৃতীয় তলায় উঠে একইভাবে তার মায়ের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতারকদের প্রধান হাতিয়ার ভয়ংকর মাইন্ড কন্ট্রোল ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা শয়তানের নিশ্বাস খ্যাত স্কোপোলামিন। যা নাক বা মুখের কাছে নিলেই স্বেচ্ছায় সব কিছু বিলিয়ে দেন ভুক্তভোগী। এ অপরাধীদের ধরতে কাজ করছেন তারা।তিনি বলেন, এর আগেরও কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ তার।আর চিকিৎসকরা বলছেন, অপরাধীরা এই ড্রাগ অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে ভুক্তভোগীর মৃত্যুও হতে পারে।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন), ডা. সৌমিত্র রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘এসব ড্রাগ অপরাধীদের হাতে খুবই ভয়াবহ। অতিমাত্রায় মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। এ ড্রাগ ব্যবহারে মানুষ কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে যায়। তার কোনো হুঁশ থাকে না। তখন সামনে থাকা ব্যক্তি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম