গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর কথা বলে গোপনে ‘না’ সংগঠনের অভিযোগ মামুনুল হকের ঢাকা–১৩ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার : রফিকুল ইসলাম
গণভোট নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্বিচারিতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৩ আসনে ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে অনেকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে ‘না’ ভোটের জন্য মানুষকে সংগঠিত করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশে শহীদ পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামেন মামুনুল হক।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। সভামঞ্চের দুই পাশে প্রতীক হিসেবে রিকশা প্রদর্শন করা হয়।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ বাদশা মিয়ার বাবা ফিরোজ মিয়া এবং শাপলা চত্বরে শহীদ রুহুল আমিন রুবেলের বাবা বাচ্চু মিয়া। তাঁরা ঢাকা–১৩ আসনের ভোটারদের কাছে মামুনুল হকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ করছি, যেভাবে একসময় পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল, সেই একই শক্তি আজ জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’ তিনি এসব ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে পাহারা দেওয়ার জন্যই ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ইসলামী দলগুলোর এই ঐক্য গড়ে উঠেছে।’
নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের মাটি ও মানুষের সঙ্গে ৪০ বছরের অভিযাত্রী ও সহযাত্রী হিসেবে আমি ভোটের ময়দানে নেমেছি। এই এলাকার মানুষকে সন্ত্রাস, জুলুম, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের হাত থেকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছি। ইনশা–আল্লাহ, এই এলাকা আমরা চাঁদাবাজ ও আধিপত্যবাদমুক্ত করেই ছাড়ব।’
তিনি বলেন, ‘এই শহীদ পার্ক মাঠে আমরা একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করেছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের অভিভাবকদের দোয়া নিয়েছি। পাশাপাশি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদেরও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘এসব শক্তিকে একত্র করে আমরা আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই ঘোষণা দিতেই আজ এখানে সমবেত হয়েছি।’













