
শিল্প ধ্বংসকারী, ছাত্র-শ্রমিক-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসনকারী, নারী নির্যাতনকারী এবং দেশের শিল্পের তথ্য বিদেশে পাচারকারীদের হাত থেকে শিল্প রক্ষার দাবিতে আজ বিকাল ৪টায় গাজীপুর বোর্ডবাজার বাসস্ট্যান্ডের সামনে “গাজীপুর সচেতন শ্রমিক” ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—
গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি
মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলার সভাপতি খুশি আক্তার
জাতীয় শ্রমিক জোট গাজীপুর জেলার সভাপতি মাসুদ মন্ডল
ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স গাজীপুর জেলার সভাপতি লুৎফর রহমান
বিগফ গাজীপুর জেলার সভাপতি আনোয়ার হোসেন
এছাড়াও ১৫টি ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আমিরুল হক আমিন শিল্প ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্যে কাজ করছেন। তিনি ছাত্র হত্যামামলার একাধিক আসামিকে নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং আশুলিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অফিস পরিচালনা করছেন।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী—
শাহ আলম (ছাত্র হত্যার তিন মামলার আসামি) বর্তমানে নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি।
শহিদুল (দুই মামলার আসামি, যুবলীগ নেতা) সহ-সভাপতি।
সানি (দুই মামলার আসামি) সাধারণ সম্পাদক।
রনি, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ নেতা, কার্যকরী সদস্য।
পনির ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা, সংগঠনের নেতা।
আলমগীর ডাক্তার, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বিয়াই, সংগঠনের নেতা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আমিরুল হক আমিন দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করছেন। একদিকে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করছেন, অন্যদিকে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম নষ্ট করার জন্য বিদেশে তথ্য পাচার করছেন। তার পাঠানো তথ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা অর্ডার হারিয়েছে ও বন্ধের পথে—
গাজীপুরের উইন্ডি গ্রুপ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।
মাছিহাতা সোয়েটার লিমিটেড থেকে বায়ার সরে গেছে।
আইরিশ ফেব্রিকস লিমিটেড-এর অর্ডার কমে গেছে।
এছাড়া গত ২২ জুন জিরানী বাজার ও হেমায়েতপুরে আমিনপন্থী নেতারা গোপন বৈঠক করেন এবং এর তিন দিন পর ইপিজেড এলাকায় বেকার শ্রমিকদের দিয়ে আন্দোলন করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি বিদেশি সংস্থা ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়, যার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ঈদের আগে গ্রহণ করা হয়।
বক্তাদের মতে, আমিন সাহেব ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের পুনর্বাসন করছেন, বিদেশি অর্থায়নে শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে আছেন—
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক (আমিন সাহেবের আপন ভাগ্নি জামাই)
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন
শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি আমিরুল হক আমিনের কার্যক্রম বিশেষ নজরদারিতে না আনা হয়, তবে দেশের গার্মেন্টস শিল্প আরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম