চুয়াডাঙ্গায় রোজার আগেই বাজার সংকীর্ণতায় সয়াবিন তেল

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। বাজারে এক ও দুই লিটার বোতলের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে ৫ লিটার সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে বিশেষক্ষেত্রে। তবে এই ৫ লিটার বোতলের তেল কিনতে হলে ক্রেতাদের নিতে হবে বাড়তি আরেকটি পণ্য। গত কয়েকমাস ধরে এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়। আর ৫ লিটার তেলের দাম ৮৫০ টাকা। গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানা গেছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চুয়াডাঙ্গার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। বাজারে এক লিটার ও দুই লিটার সয়াবিন তেলের বোতল একদমই নেই বললে চলে। তবে কয়েকটি দোকানে আছে ৫ লিটারের সয়াবিন তেল। ক্রেতাদের ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে হলে কোম্পানির শর্ত অনুযায়ি নিতে হবে আরেকটি পন্য। কোম্পানির এই শর্তের বেড়াজালে বন্দি হয়ে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়িরা। আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এমন সংকট শুধু বাজারে নয়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে সুপার শপগুলোতেও। তবে পর্যাপ্ত মজুদ আছে খোলা সয়াবিন তেলের।
খুচরা ব্যবসায়িদের অভিযোগ, ডিলার পর্যায়ের ব্যবসায়িরা বাজারে তেলের সংকট দেখাচ্ছেন। ফলে সয়াবিন তেলশূণ্য হয়ে যাচ্ছে বাজারের দোকান গুলোতে।
বাজারের খুচরা মুদি ব্যবসায়িরা জানান, এক ও দুই লিটার তেল একদমই নেই। যদিও বা ৫ লিটার তেল কোম্পানি দিচ্ছে কিন্তু এই তেলের সাথে এক কেজি পোলাও চাল ৫ কেজি প্যাকেট আটা কিংবা অন্যান্য পন্য। এই পন্যগুলা না নিলে সয়াবিন তেল দিচ্ছে না কোম্পানির প্রতিনিধিরা। আবার অনেক ক্রেতারা তেলের সাথে কন্ডিশন পণ্যগুলো নিচ্ছে না। যে কারণে বাড়তি পন্যগুলো দোকানে পড়ে থাকছে। মূলত কোম্পানিই এই কারসাজি করছে।
বাজারে আসা এক ক্রেতা রাব্বি হোসেন বলেন, বাজারে এসে এক ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল পেলাম না। যদুও বা ৫ লিটার তেল পেলাম তবে শর্ত অনুযায়ি নিতে হলো পোলাও চাল, আটা, সরিষার তেল। কিন্তু আমার এই বাড়তি পণ্যের প্রয়োজন নেই। এভাবে তেল সংকট থাকলে রোজার মাসে বিপদ হয়ে যাবে।
আরেক ক্রেতা হাসিবুর রহমান বলেন, সুপারশপ ঘুরে বাজারে আসলাম তবুও পেলাম না বোতলজাত সয়াবিন তেল। এরকমভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখানোর কারণ কি? আবার কি বাড়তে পারে তেলের দাম? এজন্য প্রশাসনের অভিযান প্রয়োজন। সামনে রোজার মাস তাই আগেই থেকেই বাজার তদারকি করতে হবে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, বাজারে এক ও দুই লিটার তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এই সংকট কাটানোর জন্য ইতিমধ্যে ডিলার ব্যবসায়িদের সাথে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাজার তদারকি আরও বাড়ানো হয়েছে। রোজার মাসে যেন তেলের সংকট দেখা না দেয় সেজন্য বাজার মনিটরিং অব্যহত আছে।















