
ঢাকার পুরান অংশে, আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত এক মোহনীয় স্থাপনা—তারা মসজিদ। সাদা মার্বেলের গায়ে নীল তারার ঝিলিক, দেয়ালে হাতে আঁকা ফুল ও জ্যামিতিক নকশা—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উপমহাদেশীয় মুসলিম স্থাপত্যের এক অমূল্য রত্ন।
নির্মাণকাল ও ইতিহাস:তারা মসজিদের নির্মাণকাল আনুমানিক ১৮ শতকের মাঝামাঝি।এটি নির্মাণ করেন একজন ধনী ব্যবসায়ী, নাম মির্জা গোলাম পীর।পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ করেন আলী জান বেপারী, যিনি মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য টাইলস, মার্বেল ও তারার অলঙ্করণ যুক্ত করেন।
নামকরণের পেছনের গল্প:মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ ও পিলারে নীল রঙের তারার নকশা থাকায়, এটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পায় ‘তারা মসজিদ’ নামে। এই তারাগুলি মূলত জাপান থেকে আনা চীনামাটির টাইলস দ্বারা তৈরি, যা মসজিদটিকে করেছে অন্যরকম মোহনীয় ও অনন্য।
স্থাপত্যশৈলী ও নকশা:• পুরো মসজিদের বাইরের দেয়ালে সাদা ও নীল টাইলসে মোড়ানো তারার নকশা• অভ্যন্তরে আছে ফুল, লতা-পাতা, গম্বুজে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি• মসজিদের মোট ৫টি গম্বুজ, যা মুঘল স্থাপত্যের ধারা বহন করে• মূল মেহরাব ও মিনারেও দেখা যায় সুক্ষ্ম কারুকাজ ও মার্বেল খোদাই
অবস্থান:আরমানিটোলা, পুরান ঢাকাঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার অন্তর্গত এই মসজিদটি এখনও সক্রিয় ধর্মীয় স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও জুমা ও ঈদের দিন এখানে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় হয়।
বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ:যদিও মসজিদটি অনেকটাই সংরক্ষিত, তবে আশপাশের অগোছালো পরিবেশ এবং ট্রাফিক জট এর সৌন্দর্য উপভোগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।পুরাতত্ত্ব অধিদপ্তর এই মসজিদকে সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকাভুক্ত করলেও পর্যাপ্ত বাজেট ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে।
স্থানীয়দের কণ্ঠে গর্ব:স্থানীয় এক বৃদ্ধ মুসল্লি বলেন,“এটা শুধু নামাজের জায়গা না, এটা আমাদের ইতিহাসের অংশ। এখানে ঢুকে মনে হয় যেন মুগল আমলে চলে এসেছি।”
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম