


রিপোর্টার :মোঃআনজার শাহ
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! একজন বাবার দুই সন্তানই একই বিরল ও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত এমন বেদনাবিধুর কাহিনী হৃদয়কে নাড়া দেয় গভীরভাবে।কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার হাটপুকুরিয়া গ্রামের এক সাধারণ দিনমজুর ফারুক আহমেদ আজ দাঁড়িয়ে আছেন এক অসহনীয় যন্ত্রণার মুখোমুখি। ঋণের দুর্বহ বোঝা কাঁধে নিয়ে, অসহায় দুই হাত তুলে তিনি আকুতি জানাচ্ছেন সমাজের সহৃদয় মানুষদের কাছে শুধুমাত্র তাঁর দুই সন্তানের জীবন বাঁচানোর আশায়।
দুই ফুলের এক রোগ, এক পিতার অসীম বেদনা
ফারুক আহমেদের বড় ছেলে ওবায়েদ এবং মাত্র তিন মাসের কোলের শিশু আয়ন দুজনই আক্রান্ত হার্শস্প্রুং ডিজিজ (Hirschsprung's Disease) নামক এক বিরল জটিল রোগে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর বৃহদান্ত্রের স্নায়ুকোষ সঠিকভাবে কাজ করে না, ফলে পরিপাকতন্ত্র থেকে বর্জ্য নির্গমন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সময়মতো জটিল অস্ত্রোপচার না করালে এই রোগে শিশুমৃত্যু অনিবার্য।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি জন্মগত ত্রুটি, যার একমাত্র সমাধান জটিল ও ব্যয়বহুল সার্জারি। কিন্তু একজন দিনমজুর বাবার পক্ষে এই বিপুল ব্যয় বহন করা কতটা দুঃসাধ্য, তা সহজেই অনুমেয়।
ঋণের জালে আটকা এক পরিবার
প্রথম সন্তান ওবায়েদের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকেই ফারুক আহমেদের জীবন পরিণত হয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, মহাজন সবার কাছ থেকে ধার করে, এমনকি বাড়ির সামান্য সম্পদ বিক্রি করেও তিনি টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন। তবুও ওবায়েদের মূল অপারেশনটি এখনো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এই দুঃসহ সময়ের মধ্যেই আঘাত এসেছে আরও তীব্রভাবে। ছোট ছেলে আয়নও জন্মের পরপরই একই রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে। মাত্র তিন মাস বয়সী এই নবজাতককে টানা দশ দিনের মধ্যে চারটি জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিটি অপারেশনই ছিল জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আয়নের আরও কয়েকটি জটিল সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। একইসঙ্গে বড় ছেলে ওবায়েদের চিকিৎসাও চলমান রাখতে হবে।
কিন্তু এই বিপুল খরচের ভার কীভাবে বহন করবেন একজন দিনমজুর বাবা? যিনি এখনই ডুবে আছেন ঋণের অতল গহ্বরে?
এক বাবার আর্তনাদ
অশ্রুসিক্ত চোখে ফারুক আহমেদ বলেন, "আমি একজন অসহায় বাবা মাত্র। প্রতিদিন মজুরি করে যা আয় করি, তাতে সংসার চলেই না। এখন দুই ছেলের প্রাণ বাঁচাতে কোথায় যাব, কার কাছে হাত পাতব কিছুই বুঝতে পারছি না। একদিকে ওবায়েদ, অন্যদিকে আয়ন— দুজনকেই বাঁচাতে চাই। কিন্তু আমার সাধ্য নেই। সমাজের দয়ালু মানুষদের সহায়তা ছাড়া আমার সন্তানদের বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই।"
তাঁর কণ্ঠে যে আকুতি, তা শুধু একজন পিতার নয়— একজন অসহায় মানুষের, যিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোকে হারাতে বসেছেন শুধুমাত্র অর্থের অভাবে।
চিকিৎসা ব্যয়: প্রায় দুই লাখ টাকা
চিকিৎসকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই শিশুর সম্পূর্ণ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী ফলো-আপের জন্য প্রয়োজন আনুমানিক দুই লাখ টাকা। একজন দিনমজুরের জন্য এই অঙ্ক স্বপ্নাতীত।
কিন্তু সমাজের সহৃদয় মানুষদের একটু একটু সহযোগিতা এই পরিবারের জন্য হতে পারে জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য।
মানবতার ডাক এগিয়ে আসুন প্রাণ বাঁচাতে
দুটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন আজ ঝুলে আছে এক সূক্ষ্ম সুতোয়। তাদের বাঁচার অধিকার আছে। স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু সেই অধিকার বাস্তবায়নের পথে বাধা শুধুমাত্র অর্থের অভাব।
সমাজের প্রতিটি সচেতন, সহৃদয় মানুষের প্রতি আবেদন আপনার সামান্য সহযোগিতাই পারে দুটি শিশুকে নতুন জীবন উপহার দিতে। যে যতটুকু পারেন, এগিয়ে আসুন। আপনার দান, আপনার সহানুভূতি, আপনার দোয়া— সবই এই মুহূর্তে অমূল্য।
💙 সহায়তার তথ্য:
📱 বিকাশ (ব্যক্তিগত): 01709-611344
📱 নগদ (ব্যক্তিগত): 01709-611344
📞 যোগাযোগ: ফারুক আহমেদ — 01864-016755
🙏 আর্থিক সহায়তা করতে না পারলেও—
অনুরোধ রইল, এই মানবিক আবেদনটি যতবেশি সম্ভব শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার পৌঁছে যেতে পারে এমন কারো কাছে, যিনি হয়তো সাহায্য করতে পারবেন। দেশ-বিদেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে দিন ফারুক আহমেদের এই হৃদয়বিদারক আহ্বান।
মনে রাখবেন আপনার সামান্য সহানুভূতি, সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে দুটি শিশুর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন। কারণ, মানুষের জন্যই মানুষ।
"যে ব্যক্তি একটি প্রাণ বাঁচায়, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচায়।"
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম