দু/র্ঘ/ট/নায় গু/রু/তর আহত দৈনিক রুদ্র বাংলা সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান, চিকিৎসা সংকটে পরিবার

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক রুদ্র বাংলার সম্পাদক, উপকূল মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং রুদ্রকণ্ঠ ও সাপ্তাহিক আইন আদেশ আদালতের সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী জনাব মোঃ মতিউর রহমান এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জীবন-মরণ সংকটে রয়েছেন। অর্থাভাবে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকালে জনাব মোঃ মতিউর রহমান দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় হলমার্ক ভবনের পাশের সড়কে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার মুহূর্তে গাড়িটির চাকা তাঁর বাম পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়, ফলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা কয়েকজন মানবিক মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ রেফার করেন।
পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, তাঁর বাম পায়ের হাঁটু ও নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ধাক্কা ও শারীরিক চাপের কারণে হৃদরোগজনিত সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে সেখান থেকে হৃদরোগ বিভাগে পাঠানো হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে আবার তাঁকে পঙ্গু হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বারডেমের BIHS (Bangladesh Institute of Health Sciences) শাখা হাসপাতাল- BIHS General Hospital-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা ঢাকার মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের কাছে অবস্থিত।
হাসপাতালের ঠিকানা: ১২৫/১, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ফলে তাঁর বাম পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ ও স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোগীর জীবন রক্ষার স্বার্থে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হতে পারে। এই অস্ত্রোপচারসহ পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা দিয়েছেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা বর্তমানে জনাব মোঃ মতিউর রহমান কিংবা তাঁর পরিবারের নেই। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে ও সাধারণ জীবনযাপন করে আসছেন। ফলে এই আকস্মিক দুর্ঘটনা তাঁর পরিবারকে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
জনাব মোঃ মতিউর রহমান একজন সৎ, নির্ভীক ও জনদরদী মানুষ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। সাংবাদিকতা পেশায় তিনি আপসহীনভাবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে গেছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চাপ ও হুমকির মুখেও তিনি কখনো কলম থামাননি। উপকূল মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে অসংখ্য নির্যাতিত, গরিব ও অসহায় মানুষের পক্ষে তিনি আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
সহকর্মী ও পরিচিতজনরা জানান, তিনি সব সময় অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু আজ সেই মানুষটিই নিজে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে চিকিৎসার জন্য সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন। টাকার অভাবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার শুরু না হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এই অবস্থায় জনাব মোঃ মতিউর রহমান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সবার সম্মিলিত সহানুভূতি ও সহযোগিতায় তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন এবং পুনরায় সুস্থ হয়ে সমাজ ও সাংবাদিকতার কাজে ফিরে যেতে পারবেন।
ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিকের জীবন অর্থের অভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে থাকা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং লজ্জাজনক।
বর্তমানে BIHS General Hospital-এর শয্যায় শুয়ে জনাব মোঃ মতিউর রহমান জীবন-মরণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীর জীবন রক্ষায় এখন মানবিক সহায়তাই শেষ ভরসা- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই।





















