ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট  

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অবশ্যই প্রয়োজন—এমন পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। রায়ে আদালত বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর লিখিত অনুমতির কথা সরাসরি উল্লেখ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অধীনে গঠিত সালিশি পরিষদের অনুমতি গ্রহণের বিধান রয়েছে।

আদালত আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর অবশ্যই যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে হবে এবং প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

রিট আবেদনে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পর্যায়ে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর সম্মতিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে আরোপ করা হচ্ছে, যা আইনের সঠিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এই রায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে তাঁরা এটাও উল্লেখ করেন, এই রায় কোনোভাবেই অবাধে বা ইচ্ছামতো দ্বিতীয় বিয়েকে উৎসাহিত করে না।

নারী অধিকারকর্মীরা এ রায়ের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে, আইন বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায় বিদ্যমান আইনের কাঠামোর মধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের আগে সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট  

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অবশ্যই প্রয়োজন—এমন পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। রায়ে আদালত বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর লিখিত অনুমতির কথা সরাসরি উল্লেখ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অধীনে গঠিত সালিশি পরিষদের অনুমতি গ্রহণের বিধান রয়েছে।

আদালত আরও বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামীর অবশ্যই যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে হবে এবং প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া উপেক্ষা করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

রিট আবেদনে বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পর্যায়ে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর সম্মতিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে আরোপ করা হচ্ছে, যা আইনের সঠিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এই রায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে তাঁরা এটাও উল্লেখ করেন, এই রায় কোনোভাবেই অবাধে বা ইচ্ছামতো দ্বিতীয় বিয়েকে উৎসাহিত করে না।

নারী অধিকারকর্মীরা এ রায়ের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে, আইন বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায় বিদ্যমান আইনের কাঠামোর মধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের আগে সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।