ধৈর্য, দায়িত্ব ও দৃঢ়তার প্রতীক: সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: ফয়সাল হোসেন
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন ওয়াকার-উজ-জামান। নানা সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা–সমালোচনার মধ্যেও তিনি নীরব থেকেছেন। কিন্তু সেই নীরবতাই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস রচনা করেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও কটূক্তি ছড়ানো হলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং তিনি জবাব দিয়েছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, জনমনে যখন উদ্বেগ—ঠিক তখনই তাঁর ধৈর্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দৃঢ়তা সামনে আসে।
জনতার পাশে সেনাবাহিনী
জুলাইয়ের আন্দোলন-অভ্যুত্থানের সময় দেশের তরুণ সমাজ রাজপথে নেমে আসে। সেই সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেন—সেনাবাহিনী জনগণের প্রতিপক্ষ নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তার রক্ষক।
গুলি চালানোর নির্দেশ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, সংবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারই তাঁর প্রধান শক্তি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের ঢাল হিসেবেই কাজ করছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা
নির্বাচন ঘিরে যখন চারদিকে শঙ্কা—সুষ্ঠু ভোট হবে কি না, সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকবে কি না—তখন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সেনা সদস্যরা দিনরাত প্রহরায় ছিলেন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—উর্দি মানে ক্ষমতার লোভ নয়; উর্দি মানে দেশের প্রতি অঙ্গীকার। কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত ছাড়াই বাহিনী সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালন করেছে। ফলে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
শেষ সৈনিক পর্যন্ত কৃতজ্ঞতা
শুধু সেনাপ্রধান নন, প্রতিটি সাধারণ সেনা সদস্যও এই সাফল্যের অংশীদার। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের ত্যাগ ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। তাঁদের বুকের ব্যাজে লেখা ছিল একটাই কথা—দেশ আগে।
গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায়, এই ভূমিকা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ-এর রাজনৈতিক ইতিহাসে এই অধ্যায় দীর্ঘদিন আলোচিত হবে।
ধৈর্য, সংযম ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার যে উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক মানদণ্ড হয়ে থাকবে।


















