ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত

নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অবৈধ সীসা কারখানা

শিপন রানা নাগরপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এলাসিন শামসুল হক সেতুর পাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল গ্রামের শেষ সীমানায় গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ ব্যাটারির সীসা গলানোর কারখানা। ২৯ জুলাই মঙ্গলবার ২০২৫ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি ইটের দেয়াল ঘেরা হলেও কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছে।কারখানায় দেখা যায়, সীসা গলানোর সময় নির্গত কালো ধোঁয়া ও ব্যাটারির এসিডযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বাতাস, আর এসিড মিশ্রিত পানি নদীর জলজ সম্পদ ধ্বংস করছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অবৈধ কারখানাটি পরিচালনা করছেন দেলদুয়ার উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিকের ভাই নান্নু। তথ্য সংগ্রহের সময় কারখানার শ্রমিকদের মোবাইল দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলানো হলে তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।কারখানার আশপাশে বসবাসরত বেশ কয়েকটি পরিবার, যাদের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী চোহালী উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখানে বসতি গড়েছে, তারাও কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গন্ধে অতিষ্ঠ। তবে তারা ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, “এই অবৈধ সীসা কারখানার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে এটি ভেঙে দেওয়া হবে।”এছাড়াও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক জানান, “কারখানাটি উচ্ছেদ করতে হলে প্রথমে নথিপত্র তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালাতে হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারের নজরে আনা হয়েছে।”তিনি আরও জানান, ইউএনও মহোদয় অল্প সময়ের মধ্যেই স্থায়ীভাবে কারখানাটি ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশনা দেবেন।এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীসা গলানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প স্থাপন করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু এই কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমতি নেই। এ ধরনের কারখানা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অবৈধ সীসা কারখানা

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৩৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এলাসিন শামসুল হক সেতুর পাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে সহবতপুর ইউনিয়নের বীর সলিল গ্রামের শেষ সীমানায় গড়ে উঠেছে একটি অবৈধ ব্যাটারির সীসা গলানোর কারখানা। ২৯ জুলাই মঙ্গলবার ২০২৫ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি ইটের দেয়াল ঘেরা হলেও কোনো ধরনের ছাড়পত্র বা পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছে।কারখানায় দেখা যায়, সীসা গলানোর সময় নির্গত কালো ধোঁয়া ও ব্যাটারির এসিডযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বাতাস, আর এসিড মিশ্রিত পানি নদীর জলজ সম্পদ ধ্বংস করছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অবৈধ কারখানাটি পরিচালনা করছেন দেলদুয়ার উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিকের ভাই নান্নু। তথ্য সংগ্রহের সময় কারখানার শ্রমিকদের মোবাইল দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলানো হলে তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।কারখানার আশপাশে বসবাসরত বেশ কয়েকটি পরিবার, যাদের অধিকাংশই পার্শ্ববর্তী চোহালী উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখানে বসতি গড়েছে, তারাও কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গন্ধে অতিষ্ঠ। তবে তারা ভয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত মোহাম্মদ নোমান বলেন, “এই অবৈধ সীসা কারখানার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে এটি ভেঙে দেওয়া হবে।”এছাড়াও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপ ভৌমিক জানান, “কারখানাটি উচ্ছেদ করতে হলে প্রথমে নথিপত্র তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালাতে হবে। ইতিমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যারের নজরে আনা হয়েছে।”তিনি আরও জানান, ইউএনও মহোদয় অল্প সময়ের মধ্যেই স্থায়ীভাবে কারখানাটি ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশনা দেবেন।এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীসা গলানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প স্থাপন করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু এই কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমতি নেই। এ ধরনের কারখানা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।