
অসাধু ও মুনাফা শিকারী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।আজ ১৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।
একটি লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তারা জানায়,
"বর্তমানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের জীবন অতিষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু ও এনাফা শিকারী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে সব পণ্যের মূল্য উর্ধ্বমুখী যা জনজীবনে অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে অধিকাংশ সবজির প্রতি কেজি ১০০ টাকার ওপরে। পত্রপত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি ঝিঙ্গা ৯০ টাকা, পটোল ৮৫-৯০ টাকা, ঢেঁড়স ও করল্লা ৮০-৯০, চিচিঙ্গা ৭০-৭৫ টাকা, বরবটি ১২০-১৩০ টাকা, বেগুন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা, প্রতিপিস লাউ ১০০-১১০ টাকা, পেঁপে ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় উঠেছিল। লাল ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৭০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা ২ মাস আগেও ছিল ১৫০ থেকে ১৬২ টাকা।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য প্রতিটি জেলায় 'বিশেষ টাস্কফোর্স' বাজার মনিটরিং করেছে। বিশেষ টাস্কফোর্স টিম উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে দামের পার্থক্য যাচাই করছে ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ডিমের দামবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বেশ অনেক দিন যাবৎ প্রচেষ্ঠা চালালেও বাজারে ডিমের দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য মূলতঃ অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি দায়ী। ভোক্তা-অধিদপ্তরের অভিযানে ডিম ব্যবসায়ীরা ঢাকার তেজগাঁও পাইকারি বাজারে ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আড়তে ডিম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বাজারে তৈরি হয়েছে ডিমের সংকট। ডিমের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অসাধু ও মুনাফা শিকারী ব্যবসায়ী বিশেষ করে ব্যাপারি ও ফড়িয়াদের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এজন্য দায়ী। চাল, চিনি, তেল, পেঁয়াজ, আলু, মসলা, আটা-ময়দা, বোতলজাত পানি, ডিম, মাংস কোনো ব্যবসাই এখন আর সিন্ডিকেটের বাইরে নেই। একেক সময় একেক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ভোক্তাদের নিকট হতে কোটি কোটি টাকা লুন্ঠন করছে। হাত বদল হয়েও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যাব মনে করে বাজারের এই অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙ্গার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতি দ্রুত সময়ে মধ্যে করতে হবে। তা না হলে সিন্ডিকেটের কারণে অসহায় ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।"ক্যাবের সুপারিশসমূহ নিম্নরূপ:
. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সারা দেশে 'বিশেষ টাস্কফোর্স' এর কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।
২. পাইকারি ও খুচরা বাজারে সকল পণ্যের বিক্রয়মূল্য দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। এজন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সারা দেশে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও প্রাপ্তি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে। ৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি মূল্য, পাইকারি মূল্য ও খুচরা মূল্য নির্ধারণ করতে হবে ও তা বাস্তবায়নের কঠোর পদক্ষেপনিতে হবে।
৫. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুদকারী ও মুনাফা শিকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে এবং তাঁদের আইনের আওতায়
আনতে হবে। ৬. পেঁয়াজ, রসুন ও আদার অধিকতর চাষাবাদের জন্য বীজ, সার ও লাগসই আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের নিকট সহজলভ্য করতে
হবে। ৭. প্রাণিজ পুষ্ঠির চাহিদা পূরণে ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারিদের আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।
৮. পেঁয়াজ, রসুন, আদা, সয়াবিন তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক ছাড় দিয়ে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ দিতে হবে এবং পণ্য আমদানির পর তা যেন নির্দিষ্ট দামে বাজারে বিক্রি হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
৯. সড়কে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন হয়রানি বন্ধ করার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম