
বরগুনা জেলা সমিতি ঢাকা'র তৃতীয় বার্ষিক সম্মেলন- ২০২৫ ও বরগুনা জেলার উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান আজ ২৮/০২/২৫ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া।
বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা, সাবেক সাংসদ এড. আব্দুল মজিদ মল্লিক, ডা. সুলতান আহমেদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. সিদ্দিকুর রহমান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক লায়ন মো. ফারুক রহমান, সহ সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন, জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত জি.এম মাহবুবুর রহমান, ফারুক আলম প্রমুখ। সম্মেলন উদ্বোধন করেন সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু।
বরগুনা জেলার উন্নয়ন ভাবনা আলোচনায় বরগুনা জেলায় ৩টি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বরগুনা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, বিশখালি সেতু নির্মাণ, কারিগরি স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
বরগুনা জেলার উন্নয়ন ভাবনা
বঙ্গোপসাগরের পাড়ে অনুন্নত যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা বরগুনা জেলার ভৌগলিক বৈশিষ্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলার সংসদীয় আসন ৩টি পুনর্বহালের জোর দাবি জানাচ্ছি। বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-বেতাগী), বরগুনা-২ (বামনা- পাথরঘাটা), বরগুনা-৩ (আমতলি-তালতলি), সাবেক এই ৩টি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করা হলে বরগুনা জেলার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং ভোটার সংখ্যার ক্ষেত্রেও সমতা ফিরে আসবে।
যোগাযোগঃ পশ্চাদপদ এ জেলার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দেশের নীতিনির্ধারকদের কিন্তু অতীতে প্রতিটি সরকারের সময়কালে জেলাটি অবহেলিত। সরকারী দলের এমপি না থাকলে সেই এলাকার উন্নতি হয় না। উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য সংসদ সদস্যের আবেদন নিবেদন ও চেষ্টা তদবির আবশ্যক। চাপ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করাও আবশ্যক। কিন্তু বরগুনা জেলার ব্যাপারে এই কথা সত্য প্রমাণিত হয় নাই। এই এলাকায় গত ১৫ বছর একটানা সরকারী দলের এমপি থাকার পরও অন্য অঞ্চলের তুলনায় বরগুনা জেলার উন্নতি হয়। নাই। এই জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ সড়ক। বরগুনা বাকেরগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। যার জন্য বাসে সময় ব্যয় হয় প্রায় ২ ঘন্টা। প্রকৃতপক্ষে সময় প্রয়োজন ৪৫ মিনিট। সরকার দলীয় এমপি একটানা ১৫ বৎসর ক্ষমতায় থাকা এবং কেন্দ্রের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকার পরও রাস্তাটির করুন দুর্বস্থা। বিষয়টি খুবই লজ্জার। তাই আমরা বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ সড়ককে মহাসড়কে উন্নীত করণের প্রস্তাব রাখছি।
শিক্ষাঃ শিক্ষা সচেতনতা বরগুনার নাগরিকদের মধ্যে বেড়েছে। তবে শিক্ষার সুযোগ অপর্যাপ্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষকদের মধ্যে স্পষ্ট দলীয় রাজনীতি ও দলীয়করণ শিক্ষার মান ও সুযোগ দুটিই বিনষ্ট করেছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে বরগুনা জেলায় প্রস্তাবিত বরগুনা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সরকারি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাঃ রোগব্যধি জীবনের নিত্য অনুসংগ। এর বিহিত বিধান করা সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। বরগুনা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। মানুষ প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। এদের
চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালটি আছে তা চাহিদার তুলনায় বেড সংখ্যা অনেক কম। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ব্যবস্থাপনার অভাব। ঔষধ সরবরাহ খুবই সামান্য। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার উন্নয়নে বরগুনা সদরে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
নদীতে সেতুর বরগুনা জেলায় প্রধান দুটি নদী পায়রা ও বিশখালী দ্বারা তিন ভাগে বিভক্ত। নদীগুলোর প্রশস্ত প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার। এ কারণে অভ্যান্তরীন যোগাযোগ দারুনভাবে বিঘ্নিত। শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করতে লাখ লাখ নাগরিক প্রতিনিয়ত অসুবিধার মধ্যে পতিত হয়। এ জন্য নদী দুটির ওপর ব্রীজ নির্মাণ আবশ্যক ও অতি জরুরী। এই উদ্দেশ্যে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। অগ্রগতি তেমন দৃশ্যমান নয়। এ ব্যপারে সরকারের সু-দৃষ্টি জরুরী। এছাড়া খুলনা-কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-পায়রা আঞ্চলিক সড়কে বেতাগী-কচুয়া পয়েন্টে বিশখালী নদীর উপরে বিশখালী সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানাই।পর্যটনঃ পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-কে কেন্দ্র করে পর্যটন তৎপড়তা অগ্রসরমান। দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনায় পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনাও আছে। হরিনঘাটা থেকে ফাতরার চর পর্যন্ত চরগুলোকে আধুনিক সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটনের উপযোগী করা সম্ভব। এছাড়া বেতাগীর ঝোপখালির পাখির চর, বামনার রামনার চর এবং পাথরঘাটার বিস্তৃত এলাকায় বনায়ন সৌন্দর্য বর্ষন করলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় হবে। এ জন্য সরকারি অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরী।
মৎস প্রজনন কেন্দ্রঃ নদী ও সাগর বিধৌত বরগুনা জেলার মাছ কেন্দ্রিক কর্মকান্ড ব্যাপক। এখানে অনেক মাছের ঘের রয়েছে। শত শত জেলে সাগরে মাছ শিকার করে। মাছ কেন্দ্রিক কর্মকান্ড আরও ব্যাপক করা সম্ভব। সেজন্য সুপরিকল্পিত মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। পাথরঘাটার একটি প্রজনন কেন্দ্র এলাকার চাহিদা পুরণ করতে পারছে না। এ জন্য মৎস অধিদপ্তর ও সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে এবং এতে বৈদেশিক আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অগ্রাধিকারঃ উপরোক্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। তবে যোগাযোগ ও কারিগরি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বেশি অগ্রাধিকার প্রয়োজন। শিক্ষা ও যোগাযোগের উন্নয়নই হচ্ছে সকল উন্নয়নের ভিত্তি। সকলকে ধন্যবাদ।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম