ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত এক পাখি।

স্বপন হোসেন (বিশেষ প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩ ২৯১ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সময়ে বিলুপ্তের পথে যেসব পাখি রয়েছে তার মধ্যে চিল অন্যতম। আকারে ভিন্ন হলেও বেশির ভাগ চিলের গড়ন হালকা। ডানা দুটি বেশ সরু ও দীর্ঘ, পা দুর্বল ও খাটো। শঙ্খচিল, কালোডানা চিল, কালোকাঁধ চিল, ভুবন চিলসহ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির চিল রয়েছে।

 

এদের মধ্যে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির চিল দেখা যায়। চিলের এ প্রজাতি গুলো হচ্ছে— কালোকাঁধ চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Elanus caeruleus),

শঙ্খচিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus)

ভুবন চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans)।

 

চিল এক ধরনের শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। শিকারের খোঁজে এরা আকাশে ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরে বেড়ায় । সাধারণত এরা মাছ, কীটপতঙ্গ , উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ শিকার করে।

চিল মৃত প্রাণীও খায়। তবে বর্জ্যে তাদের রুচি কয়েক গুণ বেশি। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই চিল দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

এর প্রধান কারণ জলাশয়ে মাছ কমে যাওয়া, বেপরোয়া গাছ কেটে ফেলা। ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার; যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় প্রাকৃতিক গাছ গুলো অবৈধ ভাবে কেটে ধংশ করা হচ্ছে। যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারত। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শস্যক্ষেতে বিষটোপ, কীটনাশকের ব্যবহার, গবাদি পশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ব্যবহার, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, বাসস্থানের অভাব।ফলে খাবার ও প্রজনন সমস্যায় চিল বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো প্রকৃতিতে সেভাবে চিলের বিচরণ চোখে পড়ছে না।

 

অতর্কিত বৃক্ষ নিধন বন্ধ, জনসচেতনতা ও সরকারের সুদৃষ্টি। এ তিন মিলে এ পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার সম্ভব হতে পারে।

 

লেখকঃ মো মেহেদী হাসান

সমন্বায়কঃ The wild save organisation.

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বর্তমান সময়ে বিলুপ্ত এক পাখি।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

বর্তমান সময়ে বিলুপ্তের পথে যেসব পাখি রয়েছে তার মধ্যে চিল অন্যতম। আকারে ভিন্ন হলেও বেশির ভাগ চিলের গড়ন হালকা। ডানা দুটি বেশ সরু ও দীর্ঘ, পা দুর্বল ও খাটো। শঙ্খচিল, কালোডানা চিল, কালোকাঁধ চিল, ভুবন চিলসহ পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির চিল রয়েছে।

 

এদের মধ্যে বাংলাদেশে তিন প্রজাতির চিল দেখা যায়। চিলের এ প্রজাতি গুলো হচ্ছে— কালোকাঁধ চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Elanus caeruleus),

শঙ্খচিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Haliastur indus)

ভুবন চিলঃ বৈজ্ঞানিক নাম Milvus migrans)।

 

চিল এক ধরনের শিকারি পাখি। এদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। শিকারের খোঁজে এরা আকাশে ডানা স্থির রেখে চক্রাকারে ঘুরে বেড়ায় । সাধারণত এরা মাছ, কীটপতঙ্গ , উভচর প্রাণী ও সরীসৃপ শিকার করে।

চিল মৃত প্রাণীও খায়। তবে বর্জ্যে তাদের রুচি কয়েক গুণ বেশি। একসময় বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই চিল দেখা যেত। এখন এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

এর প্রধান কারণ জলাশয়ে মাছ কমে যাওয়া, বেপরোয়া গাছ কেটে ফেলা। ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও প্রজনন সংকট। এখন আর আগের অবস্থায় প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো নেই। নেই পর্যাপ্ত খাবার; যেখানে তারা দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার করে বেঁচে থাকতে পারে। বড় বড় প্রাকৃতিক গাছ গুলো অবৈধ ভাবে কেটে ধংশ করা হচ্ছে। যেখানে তারা নির্বিঘ্নে বাসা তৈরি করে ছানা উৎপাদন করতে পারত। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, শস্যক্ষেতে বিষটোপ, কীটনাশকের ব্যবহার, গবাদি পশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ব্যবহার, খাদ্যের অপর্যাপ্ততা, বাসস্থানের অভাব।ফলে খাবার ও প্রজনন সমস্যায় চিল বিলুপ্তির পথে রয়েছে। সে কারণেই আগের মতো প্রকৃতিতে সেভাবে চিলের বিচরণ চোখে পড়ছে না।

 

অতর্কিত বৃক্ষ নিধন বন্ধ, জনসচেতনতা ও সরকারের সুদৃষ্টি। এ তিন মিলে এ পাখিটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার সম্ভব হতে পারে।

 

লেখকঃ মো মেহেদী হাসান

সমন্বায়কঃ The wild save organisation.