
আমদানিতে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কারোপ
মার্কিন অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য অন্যান্য দেশের উপর 'ন্যূনতম ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক' ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা আগামী পাঁচই এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
যেসব দেশ শুধুমাত্র এই বেসলাইন শুল্ক'র মুখোমুখি হবে, সেগুলো হলো:
যুক্তরাজ্য
সিঙ্গাপুর
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
নিউজিল্যান্ড
তুরস্ক
কলম্বিয়া
আর্জেন্টিনা
এল সালভাদর
সংযুক্ত আরব আমিরাত
সৌদি আরব
এছাড়া, আগামী নয়ই এপ্রিল থেকে আরো প্রায় ৬০টি ওপর উচ্চতর শুল্ক আরোপ শুরু হবে। এই দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলো।
এদিকে, আজ থেকেই বিদেশে প্রস্তুতকৃত অটোমোবাইলের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ শুরু হচ্ছে।
আর, যুক্তরাজ্যর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত সকল দেশের পণ্য আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কী অবস্থা
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৭ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ, যা ইউএসটিআর নামে পরিচিত, তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের পরিমান ছিল আনুমানিক ১০ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশে।
আর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের মত।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম এবং ভুট্টা), যন্ত্রপাতি এবং লোহা ও ইস্পাত পণ্য।
আর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইল সামগ্রী ও কৃষিপণ্য।
মি. ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে।
এশিয়ার দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
চীন - ৩৪ শতাংশ
ভিয়েতনাম - ৪৬ শতাংশ
তাইওয়ান - ৩২ শতাংশ
ইন্দোনেশিয়া - ৩২ শতাংশ
জাপান - ২৪ শতাংশ
দক্ষিণ কোরিয়া - ২৫ শতাংশ
থাইল্যান্ড - ৩৬ শতাংশ
মালয়েশিয়া - ২৪ শতাংশ
কম্বোডিয়া - ৪৯ শতাংশ
বাংলাদেশ - ৩৭ শতাংশ
ভারত - ২৬ শতাংশ
পাকিস্তান - ২৯ শতাংশ
সিঙ্গাপুর - ১০ শতাংশ
নেপাল - ১০ শতাংশ
ফিলিপাইন - ১৭ শতাংশ
শ্রীলঙ্কা - ৪৪ শতাংশ
মিয়ানমার - ৪৪ শতাংশ
লাওস - ৪৮ শতাংশ
কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে 'বাজেভাবে' ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে।
এটিকে তিনি 'প্রতারণার' সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অন্যান্য দেশ অসম শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
তবে, মি. ট্রাম্প বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক অন্যদের আরোপিত শুল্কের 'প্রায় অর্ধেক'।
"সুতরাং, সেই হিসাবে পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক হচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আমি তা করতে পারতাম। কিন্তু এটি করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত। আমি তা করতে চাইনি," বলেন মি. ট্রাম্প।
তিনি তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের "মুক্তির দিন"।
এই টিনটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো বলেও জানান।
তিনি যোগ করেন যে, আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের "পুনর্জন্মের" দিন এবং আজ আমেরিকা "পুনরায় সম্পদশালী" হলো।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম