
রিপোর্টার: ফয়সাল হোসেন
সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভেতরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। গত তিন দিনে দলটির পক্ষ থেকে ১২০০-এর বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯ শতাধিক প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই বিপুল সাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেত্রী, পেশাজীবী এবং তৃণমূলের সক্রিয় সংগঠকরা। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে নিজেদের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য নারী নেত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি। কেউ এসেছেন দলীয় কর্মীদের নিয়ে, আবার কেউ এসেছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা তুলে ধরেন।
একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া এখন আর সহজ বিষয় নয়। দলীয় হাইকমান্ড যোগ্যতা, ত্যাগ, জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করবে বলে তারা আশা করছেন। ফলে প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রত্যাশাও।
দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বলছেন, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণ ও শিক্ষিত নারী নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মনে করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর আগ্রহ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি যে এখনও দৃঢ় রয়েছে, তারই ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে এটি দলীয় রাজনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে লবিং-তদবিরও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক সমর্থন জোগাড় এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে। তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন—সেই সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম