
আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ (সদর বিজয়নগর) আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা। প্রস্তাবিত সীমানা পরিবর্তনের প্রতিবাদে এবং তা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুই হাজার পঁচিশ ইং তারিখে, উপজেলার সর্বস্তরের জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো মোড়ে 'সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ' এর ব্যানারে এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে এবং তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিজয়নগর একটি ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিকভাবে সুসংগঠিত উপজেলা। এই উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে চান্দুরা, হরষপুর ও বুধন্তি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ (সরাইল আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব বিজয়নগরের মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে। তারা আরও বলেন, প্রায় দুই লক্ষাধিক ভোটার অধ্যুষিত বিজয়নগর উপজেলা একক সংসদীয় আসনের দাবিদার হলেও, বছরের পর বছর ধরে এই উপজেলার বিভিন্ন অংশকে সদর, নাসিরনগর বা সরাইল আসনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে জনগণকে অবহেলা করা হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ও সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বলেন, এই সীমানা পুনর্বিন্যাস বিজয়নগরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। হেফাজতে ইসলামের উপজেলা সেক্রেটারি ও সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক মাওলানা আফজাল হোসেন বলেন, এই বিভক্তির মাধ্যমে বিজয়নগরে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
উপজেলা জামায়াতের রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার আলী নেওয়াজ এবং সেক্রেটারি শিহাব উদ্দিন বলেন, বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়নকে অন্য আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন শাহ, এডভোকেট শরিফুল ইসলাম লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক এ এইচ এম গোলাম জহির, হেফাজতেইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি এনামুল হক বাশারী, যুগ্ন সম্পাদক সিহাব ছিদ্দিকী, শাহ আলম মাষ্টার, হুমায়ুন কবির খান, খাবিরুর রহমান মনির, বিআরডিবির চেয়ারম্যান এইচ এম জহিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ছায়েদ খন্দকার,হুমায়ূন কবির ভূইয়া, রাষ্টু সরকার, সাঈদ খোকন, চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী ইমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন,আক্তার মিয়া, ফরিদ মেম্বার, সোহাগ খন্দকার, কাজল মিয়া, মিয়াব আলী, সাবদুল, তাতীদলের জহিরুল ইসলাম খান, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, তুহিন, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের মিয়া, উপজেলা বিএনপির নেতা মুহাম্মদ আলী, সাবেক উপজেলা ছাত্র দল নেতা রাকিব হাজারী, আলী রহমান, হেবজু খান, বুধন্তী ইউনিয়নের মাহবুবুল আলম, আবদুল কাইয়ুম রাষ্টু, হাসান ভূইয়া, কামাল মিয়া, হরষপুর ইউনিয়নের আবু তাহের মেম্বার, আলী আমজাদ খান, কাসেম কিবরিয়া, জিয়া উর রহমান, সালা উদ্দিন, মাওলানা কবির হোসাইন, জলফু মেম্বার, মোবাশ্বির হোসাইনসহ বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ হাজার হাজার সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন।
সমাবেশ থেকে এই খসড়া প্রস্তাব বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, বিজয়নগরকে অখণ্ড রেখে হয় আগের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনেই বহাল রাখতে হবে, অথবা বিজয়নগরকে একটি স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চল্লিশটি আসনের সীমানা পরিবর্তন করে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার বিষয়ে কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে তা দশ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর সুযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত আপত্তি ও পরামর্শের ওপর শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। বিজয়নগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনটি ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম