বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশা মির্জা ফখরুলের ৭৯ বছরে পা রাখলেন বিএনপির মহাসচিব

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার : রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭৯ বছরে পা রেখেছেন। জন্মদিনের এই দিনে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরে গিয়ে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জন্মদিন উপলক্ষে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান মির্জা ফখরুল। রাত ১২টা ১ মিনিটে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও জন্মদিনের এই সময়টুকু তিনি একান্তভাবে পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মদিনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ শুভেচ্ছা জানান। ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অনুসারীদের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত হন তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার বিশিষ্টজনেরা তাকে অভিনন্দন জানান।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে আলাপকালে মির্জা ফখরুল জানান, ধারাবাহিক নির্বাচনী কর্মসূচির কারণে ধুলাবালি ও আবহাওয়ার প্রভাবে তার গলায় ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলছেন। জন্মদিনে পাওয়া ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করাই তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। তার মা মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে মির্জা ফখরুল দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাবার পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে যুক্ত রয়েছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মজীবনে মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮২ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার নির্বাচনী রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে দলের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদে যোগ দেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তাকে বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতার মুখোমুখিও হতে হয়েছে।
৭৯ বছরে পা রেখেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, দৃঢ় অবস্থান ও প্রত্যাশা আজও দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন তার সহকর্মী ও অনুসারীরা।


















