ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী ২ জন।
- নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী ২ জন।
২৯ নভেম্বর ২০২৪
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে বর্তমান পাঁচটি সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। আর একটি আসনে সাবেক সাংসদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪টি আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিয়ষটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাক মো. মঈন উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে লড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ফিরোজুর রহমান এবং সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র জহিরুল হক চৌধুরী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসন থেকে লড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ শাহ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫(নবীনগর)কেন্দ্রীয় আওয়ামী কৃষক লীগের উপদেষ্টা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম।
এই চারটি আসনে পাঁচ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রাহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এই পাঁচ মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -২ ও ৩ আসনের দুই প্রার্থীকে হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী মনে করছেন ভোটার এবং রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ভোটের মাঠে অন্য আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর চেয়ে দুইজন প্রার্থীরই জনপ্রিয়তা রয়েছে।এমন কি দলীয় মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রীয়তা রয়েছে। যদিও বিদ্রোহীদের কারণে দল মনোনীত প্রার্থীদের কোনো সমস্যা হবেনা বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধরাণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বর্তমান সংসদ সদস্যরাসহ অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেন। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে যাচাই-বাছাই শেষে রোববার (২৬নভেম্বর) চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। তবে ইতোমধ্যে মনোনয়নে বাদ পড়া দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে মো. মঈন উদ্দিন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে ফিরোজুর রহমান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিরোজুর রহমান সংসদ নির্বাচনের জন্য সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্য ২ টি আসনের প্রার্থীরা ও রয়েছেন।
প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে আমি দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছিলাম। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দল থেকে কোনো বাধা নেই। তাই সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করতে আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলাম। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার স্বপ্ন ছিল জীবনে একবার সংসদ নির্বাচন করব। ভেবেছিলাম দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। তবে আমি দলের প্রায়াত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের শোক সভায় বক্তব্যে ঘোষণা দিয়েছিলাম আমি নির্বাচন করব। এক্ষেত্রে আমার পাশে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাকর্মী কেউ না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী ভোটাররা থাকবেন।যদিও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যার করে যাচ্ছে আমার নিজ দলের একটি পক্ষ। তাতে কিছু আসে যায় না। জনগন মিথ্যাচারে জবাব দিবে।
আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ আছেন, তারা নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচনে যারা অংশ নেবেন- তাদের সম্পর্কে কেন্দ্র থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। তবে আমরা মনে করি- বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় প্রার্থীর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় স্বার্থে দলের একাধিক যেকোন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবে। তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ প্রচার ও কথা বলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।















