ঢাকা ০৭:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে সরকার: জিএম কাদের

স্টাফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান সবুজ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে সরকার: জিএম কাদে

 

নীলফামারীতে জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন জিএম কাদের

নীলফামারীতে জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন জিএম কাদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘সরকার যেভাবে মেগা প্রজেক্ট করে দুর্নীতি করছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে। সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পর আমার মনে হয়েছে, শুধু রক্তশূন্য করছে না, আপনার লিভার, কিডনি এগুলো কেটে নিয়ে তারা বিক্রি করছেন। এই ধরনের একটি দেহ আমাদের বাংলাদেশে অবশিষ্ট থাকছে। এর কারণ হলো, দেশে কোন গণতন্ত্র নেই, সরকার কোন গণতন্ত্র দেয় নাই।’

 

 

আজ শুক্রবার নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জিএম কাদের বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের মতো জনবহুল দেশে জন্য একটা বড় ধরনের ঝুঁকি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের সমস্যা হলো এটার যদি কোনো (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা হয়, তা হবে ভয়ংকর। ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার চেরনোবিলে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ওখানে এখন পর্যন্ত ৫০ মাইল এলাকাজুড়ে কোনো বসতি স্থাপন করতে দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে যদি এমন একটি (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা হয়, ৫০ বর্গ কিলোমিটার যদি কোনো বসতি স্থাপন করতে দেওয়া না হয়, গরু-ছাগল কোনো কিছুই ওখানে না বাঁচে, আর সেই ধরনের প্রজেক্ট আমরা তৈরি করেছি এবং বলছি আণবিক শক্তি। আণবিক শক্তি নয়, আণবিক বিপদ আমরা ঘরে নিয়েছি।’

 

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত দেশ বলছে, আমরা আর বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করব না, এটা তাদের কথা। আর আমরা সস্তার নাম নিয়ে এটা করছি, হচ্ছে তিনগুণ দামে, এটা সস্তা হবে না। অত্যন্ত বিপজ্জনক আমরা সবাই, আমরা বিষাক্ত একটা প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি এবং আমাদের হাতে কোনো শক্তি নাই। এটার সব ইঞ্জিনিয়ার হলো রাশিয়ান, কিছু কনসালট্যান্ট ভারতীয়। এটা অপারেট করবে রাশিয়ানরা। বাংলাদেশের কোনো কন্ট্রোল থাকবে না। আমি এর আগেও এ কথা বলেছিলাম।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু রাজনীতি চায় দেশের মানুষ। আমরা সংসদে, বক্তৃতা ও বিবৃতি দিয়ে গণমানুষের ভোটাধিকারের দাবিতে সোচ্চার আছি। বিদেশিরাও ভোটাধিকারের প্রশ্নে জোরালো ভূমিকা রাখছে। এ কারণেই সব বিষয়ে একটি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’

 

জেলা জাতীয় পাটির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য এন কে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পাটির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুবিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর মাসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন, জেলা জাতীয় পাটির সদস্যসচিব সাজ্জাদ পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক ও রশিদুল ইসলাম প্রমুখ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে সরকার: জিএম কাদের

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩

মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে সরকার: জিএম কাদে

 

নীলফামারীতে জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন জিএম কাদের

নীলফামারীতে জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন জিএম কাদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘সরকার যেভাবে মেগা প্রজেক্ট করে দুর্নীতি করছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের মানুষকে রক্তশূন্য করে গায়ে গয়না পরিয়ে দিচ্ছে। সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার পর আমার মনে হয়েছে, শুধু রক্তশূন্য করছে না, আপনার লিভার, কিডনি এগুলো কেটে নিয়ে তারা বিক্রি করছেন। এই ধরনের একটি দেহ আমাদের বাংলাদেশে অবশিষ্ট থাকছে। এর কারণ হলো, দেশে কোন গণতন্ত্র নেই, সরকার কোন গণতন্ত্র দেয় নাই।’

 

 

আজ শুক্রবার নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জিএম কাদের বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের মতো জনবহুল দেশে জন্য একটা বড় ধরনের ঝুঁকি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের সমস্যা হলো এটার যদি কোনো (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা হয়, তা হবে ভয়ংকর। ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার চেরনোবিলে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ওখানে এখন পর্যন্ত ৫০ মাইল এলাকাজুড়ে কোনো বসতি স্থাপন করতে দেওয়া হয় না। আমাদের দেশে যদি এমন একটি (অ্যাকসিডেন্ট) দুর্ঘটনা হয়, ৫০ বর্গ কিলোমিটার যদি কোনো বসতি স্থাপন করতে দেওয়া না হয়, গরু-ছাগল কোনো কিছুই ওখানে না বাঁচে, আর সেই ধরনের প্রজেক্ট আমরা তৈরি করেছি এবং বলছি আণবিক শক্তি। আণবিক শক্তি নয়, আণবিক বিপদ আমরা ঘরে নিয়েছি।’

 

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত দেশ বলছে, আমরা আর বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করব না, এটা তাদের কথা। আর আমরা সস্তার নাম নিয়ে এটা করছি, হচ্ছে তিনগুণ দামে, এটা সস্তা হবে না। অত্যন্ত বিপজ্জনক আমরা সবাই, আমরা বিষাক্ত একটা প্রযুক্তি নিয়ে এসেছি এবং আমাদের হাতে কোনো শক্তি নাই। এটার সব ইঞ্জিনিয়ার হলো রাশিয়ান, কিছু কনসালট্যান্ট ভারতীয়। এটা অপারেট করবে রাশিয়ানরা। বাংলাদেশের কোনো কন্ট্রোল থাকবে না। আমি এর আগেও এ কথা বলেছিলাম।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ, ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু রাজনীতি চায় দেশের মানুষ। আমরা সংসদে, বক্তৃতা ও বিবৃতি দিয়ে গণমানুষের ভোটাধিকারের দাবিতে সোচ্চার আছি। বিদেশিরাও ভোটাধিকারের প্রশ্নে জোরালো ভূমিকা রাখছে। এ কারণেই সব বিষয়ে একটি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’

 

জেলা জাতীয় পাটির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য এন কে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পাটির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুবিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর মাসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব মো. বেলাল হোসেন, জেলা জাতীয় পাটির সদস্যসচিব সাজ্জাদ পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক ও রশিদুল ইসলাম প্রমুখ