ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

মা হারানো দুই এতিম বোন আজ বিসিএস ক্যাডার: দিনমজুর বাবার নীরব ত্যাগের অনন্য বিজয়

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম

মা চলে গেছেন পরপারে, রেখে গেছেন দুই নিষ্পাপ কন্যা আর অসহায় এক স্বামীকে। জটিল যক্ষ্মা (টিবি) রোগ নীরবে কেড়ে নিয়েছিল মা পারভীনের জীবন। ছোট্ট রিমি ও সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেই দিন থেকেই শুরু হয় এক দিনমজুর বাবার নীরব অথচ ভয়ংকর কঠিন সংগ্রাম।
কুমিল্লার এক প্রত্যন্ত গ্রামে দিনমজুর বাবার কাঁধে এসে পড়ে দুই এতিম মেয়ের দায়িত্ব। নিজের দুঃখ, কষ্ট আর শূন্যতা তিনি কখনো কাউকে বুঝতে দেননি। একসময় তারও ছিল যৌবন, স্বপ্ন, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ। কিন্তু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব স্বপ্ন নিজ হাতে থামিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জীবনে আর কখনো বিয়ে করেননি—কারণ তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রিমি আর সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ।
সংসারের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কখনো বই কেনার টাকা ছিল না, কখনো ভালো খাবার জোটেনি। নতুন পোশাক ছিল বিলাসিতা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ক্ষুধা আর ক্লান্তিকে সঙ্গী করে প্রতিদিন কাজ করেছেন—শুধু এই বিশ্বাসে যে, একদিন তার মেয়েরা মানুষ হবে।
শত কষ্ট আর না-পাওয়ার ভেতর দিয়েই বড় হয়েছে রিমি ও সুমাইয়া। বাবার ঘামঝরা সংগ্রাম, না বলা ত্যাগ আর নীরব কষ্ট বুকের গভীরে ধারণ করেই তারা এগিয়ে গেছে সামনে। বাবার চোখে তারা ছিল স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেই মানুষটা নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছেন দিনের পর দিন।
অবশেষে সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। দুই বোন—রিমি ও সুমাইয়া—দুজনেই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একজন বাবার আজীবন আত্মত্যাগ, ধৈর্য আর ভালোবাসার অনন্য স্বীকৃতি।
স্থানীয়রা জানান, এই সাফল্য পুরো এলাকাজুড়ে আবেগ আর গর্বের আবহ তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
এটি শুধু দুই বোনের বিজয় নয়—এটি একজন বাবার নীরব আত্মত্যাগের জয়। এটি প্রমাণ করে, ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। চোখ ভিজে আসে, গর্বে বুক ভরে যায়। এমন বাবারাই সত্যিকারের নায়ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মা হারানো দুই এতিম বোন আজ বিসিএস ক্যাডার: দিনমজুর বাবার নীরব ত্যাগের অনন্য বিজয়

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম

মা চলে গেছেন পরপারে, রেখে গেছেন দুই নিষ্পাপ কন্যা আর অসহায় এক স্বামীকে। জটিল যক্ষ্মা (টিবি) রোগ নীরবে কেড়ে নিয়েছিল মা পারভীনের জীবন। ছোট্ট রিমি ও সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেই দিন থেকেই শুরু হয় এক দিনমজুর বাবার নীরব অথচ ভয়ংকর কঠিন সংগ্রাম।
কুমিল্লার এক প্রত্যন্ত গ্রামে দিনমজুর বাবার কাঁধে এসে পড়ে দুই এতিম মেয়ের দায়িত্ব। নিজের দুঃখ, কষ্ট আর শূন্যতা তিনি কখনো কাউকে বুঝতে দেননি। একসময় তারও ছিল যৌবন, স্বপ্ন, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ। কিন্তু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব স্বপ্ন নিজ হাতে থামিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জীবনে আর কখনো বিয়ে করেননি—কারণ তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রিমি আর সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ।
সংসারের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কখনো বই কেনার টাকা ছিল না, কখনো ভালো খাবার জোটেনি। নতুন পোশাক ছিল বিলাসিতা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ক্ষুধা আর ক্লান্তিকে সঙ্গী করে প্রতিদিন কাজ করেছেন—শুধু এই বিশ্বাসে যে, একদিন তার মেয়েরা মানুষ হবে।
শত কষ্ট আর না-পাওয়ার ভেতর দিয়েই বড় হয়েছে রিমি ও সুমাইয়া। বাবার ঘামঝরা সংগ্রাম, না বলা ত্যাগ আর নীরব কষ্ট বুকের গভীরে ধারণ করেই তারা এগিয়ে গেছে সামনে। বাবার চোখে তারা ছিল স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেই মানুষটা নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছেন দিনের পর দিন।
অবশেষে সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। দুই বোন—রিমি ও সুমাইয়া—দুজনেই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একজন বাবার আজীবন আত্মত্যাগ, ধৈর্য আর ভালোবাসার অনন্য স্বীকৃতি।
স্থানীয়রা জানান, এই সাফল্য পুরো এলাকাজুড়ে আবেগ আর গর্বের আবহ তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
এটি শুধু দুই বোনের বিজয় নয়—এটি একজন বাবার নীরব আত্মত্যাগের জয়। এটি প্রমাণ করে, ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। চোখ ভিজে আসে, গর্বে বুক ভরে যায়। এমন বাবারাই সত্যিকারের নায়ক।