
স্বাস্থ্যসেবায় রোগ নির্ণয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী পেশার নানাবিধ বৈষম্যদুরীকরণ ও দেশের আপামর জনগনের মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ৬ দফা দাবি।আজ ২১ অক্টোবর(সোমবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচিটির আহ্বায়ক কমিটি।তারা হলেন,আসাদুল শিকদার, ইমরান হোসাইন,জীবন ইসলাম। বক্তব্য রাখেন হাফিজুর রহমান, সোহেল রানা যারা এই কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছেন।এ সময় তারা জানায়," স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক পরিচালিত মেডিকেল টেকনোলজি বিভিন্ন অনুষদ ও বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসি কোর্সের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আহবানে বৈষম্য বিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।সম্প্রতিকালে ঘটে যাওয়া "জুলাই বিপ্লব' নামে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান, সব শ্রেনী ও পেশার মানুষকে এক নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এদেশের গণমানুষের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন গনতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আশার সঞ্চার করেছে। জনগণ তাদের অন্যসব অধিকারের পাশাপাশি সর্বজনীনচিকিৎসাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে গণমূখী করতে হলে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল জনবলের অধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যবশকীয়। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে সকলকে সাথে নিয়েই একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একপেশে একমুখী ব্যবস্থাপনা সব শ্রেনীপেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ হতাশা সংক্ষুব্ধতা সঞ্চার করে আসছে তার থেকে বেরিয়ে একটি জনমুখী কল্যানকর সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে জুলাই- বিপ্লবঅনুসরণীয় ও অনুকরনীয়।স্বাস্থ্যসেবা একটি 'টিম ওয়ার্ক" যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্টগন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।রোগীদের সেবাদান কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো রোগ নির্ণয় যার পুরোধা বলা হয় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদেরকেই। পর্দার অন্তরালে কাজ করা এ পেশাজীবীরা কেবল ২০১৯ এ হয়েছিল প্রতিদিনের মিডিয়ারশিরোনাম। লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি বিশ্বকে অস্থির করে তুলেছিল। সে অবস্থায় জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা প্রথম সারির যোদ্ধাদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীর নাম মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। পেশায় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এ পেশায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি বরং অবদমনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থেকেছে বছরের পর বছর।একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পেশাজীবী মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের জন্য কোন স্বতন্ত্র পরিদপ্তর বা উইং নেই।১৯৫৮ সালে গঠিত স্বাস্থ্য পরিদপ্তরকে ১৯৮০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রুপান্তরিত করা হয়। কাজের আওতা ও পরিধিবাড়ার কারনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ন্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও ২০১৭ সালে ১৬ই মার্চ স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা নামে দুটো স্বতন্ত্র অধিদপ্তরে ভাগ করা হয়। অপরদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধীনে "সেবা পরিদপ্তর" বাংলাদেশের নার্সিং ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠন করা হয় ১৯৭৭ সালে। কাজের পরিধি বৃদ্ধি ও জনবলের আকার বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে ১৬ নভেম্বর ২০১৬ সালে সেবা পরিদপ্তরকে নার্সিং ওমিডওয়াইফারি অধিদপ্তর হিসেবে উন্নীত করা হয়। যার মাধ্যমে দেশের ৪৬টি সরকারি নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়-স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা উভয় বিভাগের অধীনস্থ মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাজীবিদের পেশাগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন, বদলী, পদোন্নতি, উচ্চ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, সমন্বয়ের জন্য কোন স্বতন্ত্র উইং, পরিদপ্তর কিংবা অধিদপ্তর নেই।"তাদের ৬টি দাবি হলো,১.স্বতন্ত্র পরিদপ্তর গঠন করতে হবে।২.ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড পদমর্যাদা প্রদান করে WHO এর আনুপাতিক হারে পদ সৃজন পূর্বক দ্রুত নিয়োগ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০১৩ সালের স্থগিতকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।.গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নবম গ্রেডের পদ সৃষ্টি পূর্বক চাকুরীজীবিদের আনুপাতিক হারে পদোন্নতির নিয়ম বহাল রেখে স্ট্যান্ডার্ড সেট আপ ও নিয়োগ বিধি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।৪.ঢাকা আইএইচটিকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল আইএইচটি তে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার প্লান গঠন করে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি ও অসংগতিপূর্ণ গ্রেড সংশোধন করতে হবে।৫.মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল ও ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন এবং প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।৬.বি ফার্মসহ সকল অনুষদের বি এস সি ও এম এস সি কোর্স চালু করা এবং স্কলারশিপ সহ প্রশিক্ষণ ভাতা চালু করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক : ফারুক হোসেন | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোঃ মতিউর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : হাজী মোঃ লিয়াকত আলী,যুগ্ম-সম্পাদক: আব্দুল মালেক,যুগ্ম - সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন , ব্যুরো প্রধান: ফাহারিয়া ইসলাম( মুন) প্রেস এডিটর: মোঃ ফয়সাল হোসেন , মোঃ শান্ত।
যোগাযোগ ০১৭৬৫৮৮৪৪৪৯
দেশপ্রিয়২৪.কম