ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে

শিক্ষক সংকটে স্থবির প্রাথমিক শিক্ষা: শূন্যপদ ৭৩ হাজারের বেশি

শেখ মাহবুবুর রহমান
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

শেখ মাহবুবুর রহমান

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে মারাত্মক শিক্ষক সংকটে ভুগছে। দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যপদ দিন দিন বাড়তে থাকায় পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখের বেশি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র দুই বা তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে একজন মাত্র প্রধান শিক্ষককে একই সঙ্গে পাঠদান, প্রশাসনিক কাজ, এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি বৃহৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে শূন্যপদ পূরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষক সংকট প্রাথমিক শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায়ও।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদ পূরণে ইতোমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শুধু নিয়োগই যথেষ্ট নয়; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠ্যপুস্তক, এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশও জরুরি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর সে ভিত্তি যদি শিক্ষক সংকটে ভেঙে পড়ে, তাহলে শিক্ষার মান রক্ষা করা কঠিন হবে। তাই শিক্ষার মূলধারা সচল রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনের কোনো বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিক্ষক সংকটে স্থবির প্রাথমিক শিক্ষা: শূন্যপদ ৭৩ হাজারের বেশি

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেখ মাহবুবুর রহমান

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে মারাত্মক শিক্ষক সংকটে ভুগছে। দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যপদ দিন দিন বাড়তে থাকায় পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখের বেশি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র দুই বা তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে একজন মাত্র প্রধান শিক্ষককে একই সঙ্গে পাঠদান, প্রশাসনিক কাজ, এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি বৃহৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও, নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে শূন্যপদ পূরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষক সংকট প্রাথমিক শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদ পূরণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায়ও।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদ পূরণে ইতোমধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, শুধু নিয়োগই যথেষ্ট নয়; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠ্যপুস্তক, এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশও জরুরি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর সে ভিত্তি যদি শিক্ষক সংকটে ভেঙে পড়ে, তাহলে শিক্ষার মান রক্ষা করা কঠিন হবে। তাই শিক্ষার মূলধারা সচল রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনের কোনো বিকল্প নেই।