শেষ মুর্হুতে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪ ৭২ বার পড়া হয়েছে

উপজেলা পরিষদ নিবার্চনে শেষ মুহুর্তে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। তিন উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ও মোড় ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে। আগামী ০৫ জুন চতুর্থ ধাপে ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর নবীননগর ও বিজয়নগর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মাঠে ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েন। উপজেলার সবর্ত্র বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রার্থী ও সমর্থকরা বিরামহীন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন শেষ মুর্হূতের প্রচারণা। প্রায় প্রতিদিনই প্রার্থীরা হাট-বাজার-পাড়া-মহল্লায় চষে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং সেই সাথে নিজেদের সৎ ও দূনীর্তিমুক্ত রেখে এলাকার উন্নয়নে ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতার আশ্বাস সকলের কাছে দোয়া ও ভোট চাইছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবর্ত্রই চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। প্রার্থীদের নিয়ে চলছে শেষ মুর্হূতের হিসাব-নিকাশ। তবে মুখ খুলছেন না ভোটাররা। কে চেয়ারম্যান নিবার্চিত হবেন তা নিয়ে চায়ের দোকানে, হাট-বাজার, অফিস-আদালত ও গ্রামাঞ্চলে সবর্ত্রই এখন আলোচিত হচ্ছে। তবে এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে ভোটারদের হিসাব-নিকাশ। তিন উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখনের ছোট ভাই হাজি মোঃ হেলাল উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শাহাদত হোসেন শোভন আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে আনারস ও ঘোড়ার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে মনে করছেন জনসাধারন। এছাড়াও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড লোকমান হোসেন কাপ পিরিচে প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক আওয়ামী লীগের নেতা কাজী সেলিম রেজা দোয়াত কলম প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিজয়নগরে ৬ জন চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট ও ধনাঢ্য প্রার্থীর মধ্যে মুলত প্রতিদ্বন্দ্বীতার আবাস পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছিমা মোকাই আলী ঘোড়া প্রতীক ও বিএনপির যুব দল হতে বহিষ্কৃত যুগ্ন সম্পাদক জাবেদ আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এছাড়া অন্য চার প্রার্থীর তেমন আলোচনায় দেখা যায় না। এখানে ভাইস (পুরুষ)চেয়ারম্যান পদে ৯ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন বিভিন্ন প্রতীকে প্রচার চালাচ্ছেন। নবীনগর উপজেলা নির্বাচনে ৮ জন প্রার্থী হিসেবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে অঞ্চলভিত্তিক প্রার্থী হওয়া ভোটের হিসাব অন্য দুই উপজেলা থেকে ভিন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব লীগের সাধারন সম্পাদক এড সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস ঘোড়া প্রতীক ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফারুক আহমেদ আনারস প্রতীকে এবং কেন্দ্রীয় যুব লীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতা এইচ এম আলামিন মোটরসাইকেল প্রতীকের। এছাড়াও রয়েছেন কাজী জহির উদ্দিন সিদ্দিক টিটু কৈ মাছ, শাহ আলম(কাপ পিরিচ), হাবিবুর রহমান হাবিব(দোয়াত কলম), জেলা পরিষদের সাবেদ সদস্য নুরুন্নাহার বেগম টেলিফোন প্রতীক। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থীর বিভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫জুন চতুর্থ দফায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর, নবীনগর ও বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৪২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে এ তিনটি উপজেলা গঠিত। এই তিন উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১০ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৯১। এরমধ্যে পুরুষ ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৭৯, মহিলা ৫ লক্ষ ৪ হাজার ১১০ জন এবং হিজড়া ভোট ২ জন।
















