ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

সরাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বউমেলা অনুষ্ঠিত।

এম কে খোকন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো চীফ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

সরাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বউমেলা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ‘বউমেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সব বয়সি নারী-পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত হলেও মেলার নাম ‘বউমেলা’।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়ার কালীমন্দির চত্বরে পঞ্জিকামতে মাঘ মাসের প্রথম দিনে এই মেলা জমে বসেছে। প্রতিবছরের মতো এলাকার নানা বয়সি ছেলেমেয়ে, নারী-পুরুষ কেনাকাটার জন্য আসতে থাকে মেলায়। দুপুরের দিকে মেলা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্রেতাদের পদভারে।

সরাইল সদর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামের নন্দীপাড়ার কালীমন্দির চত্বরে এই মেলার আসর জমে। মেলা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে।

দর্শনার্থী নারীরা জানান, তারা প্রতিবছর নিজেদের ব্যবহারের জন্য কসমেটিকস ও ইমিটেশনের গয়না কেনেন এই মেলায়। এবারও এসেছেন। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি। মেলায় চুড়ি, ফিতা, কানের দুল, মালা, আংটিসহ সব ধরনের ইমিটেশন রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ত্রিপল ও শামিয়ানা টানিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। মেয়েদের প্রসাধনীসামগ্রীই মেলার প্রধান উপজীব্য হলেও তার সঙ্গে স্থান পায় ছোটদের খেলনাসামগ্রী আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী। জিলাপি, বাতাসা, মিষ্টান্নের দোকানে শিশুদের ভিড় দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি লোকজন। স্থানীয়রা যুগ যুগ ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ঐতিহ্যবাহী বউমেলা উপভোগ করে থাকে।

একই গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের ঘিরেই প্রথম দিকে মেলাটির প্রচলন হলেও বর্তমানে সব বয়সের নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। তবু ঐতিহ্য অনুযায়ী মেলাটি আজও বউমেলা হিসেবে পরিচিত। এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

মেলার আয়োজক কমিটির সহসভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাউল সমিতির সভাপতি বাউল দূর্গা চরণ দাস জানান, শতবর্ষী এই মেলাটির প্রচলন হয় গ্রামের বউদের ঘিরে। শুরুর দিকে গ্রামীণ নারীরা এই মেলা থেকে প্রসাধনীসামগ্রী, অলংকার ও তৈজসপত্র কেনাকাটা করতেন। নারীদের ঘিরেই মেলা বসত, তাই মেলাটি বউমেলা হিসেবে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বউমেলা অনুষ্ঠিত।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

সরাইলে শতবর্ষী ঐতিহ্যের বউমেলা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ‘বউমেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে সব বয়সি নারী-পুরুষের মিলনমেলায় পরিণত হলেও মেলার নাম ‘বউমেলা’।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়ার কালীমন্দির চত্বরে পঞ্জিকামতে মাঘ মাসের প্রথম দিনে এই মেলা জমে বসেছে। প্রতিবছরের মতো এলাকার নানা বয়সি ছেলেমেয়ে, নারী-পুরুষ কেনাকাটার জন্য আসতে থাকে মেলায়। দুপুরের দিকে মেলা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ক্রেতাদের পদভারে।

সরাইল সদর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামের নন্দীপাড়ার কালীমন্দির চত্বরে এই মেলার আসর জমে। মেলা উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে।

দর্শনার্থী নারীরা জানান, তারা প্রতিবছর নিজেদের ব্যবহারের জন্য কসমেটিকস ও ইমিটেশনের গয়না কেনেন এই মেলায়। এবারও এসেছেন। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি। মেলায় চুড়ি, ফিতা, কানের দুল, মালা, আংটিসহ সব ধরনের ইমিটেশন রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ত্রিপল ও শামিয়ানা টানিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন দোকানিরা। মেয়েদের প্রসাধনীসামগ্রীই মেলার প্রধান উপজীব্য হলেও তার সঙ্গে স্থান পায় ছোটদের খেলনাসামগ্রী আর গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী। জিলাপি, বাতাসা, মিষ্টান্নের দোকানে শিশুদের ভিড় দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করে নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি লোকজন। স্থানীয়রা যুগ যুগ ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ঐতিহ্যবাহী বউমেলা উপভোগ করে থাকে।

একই গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের ঘিরেই প্রথম দিকে মেলাটির প্রচলন হলেও বর্তমানে সব বয়সের নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। তবু ঐতিহ্য অনুযায়ী মেলাটি আজও বউমেলা হিসেবে পরিচিত। এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

মেলার আয়োজক কমিটির সহসভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাউল সমিতির সভাপতি বাউল দূর্গা চরণ দাস জানান, শতবর্ষী এই মেলাটির প্রচলন হয় গ্রামের বউদের ঘিরে। শুরুর দিকে গ্রামীণ নারীরা এই মেলা থেকে প্রসাধনীসামগ্রী, অলংকার ও তৈজসপত্র কেনাকাটা করতেন। নারীদের ঘিরেই মেলা বসত, তাই মেলাটি বউমেলা হিসেবে পরিচিত।