১৯৯০ এর পর ৬ বার ভাঙ্গল জাপা!

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:২২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

১৯৯০ এর পর ৬ বার ভাঙ্গল জাপা!
রিপোর্টারের ফাহারিয়া ইসলাম মুন
চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি (জাপা) ঢাকা মহানগর উত্তরের সহস্রাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নানা ইস্যুতে দলে অস্থিরতা চলমান। এই গণপদত্যাগ সেই অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা হারানোর পর থেকে দলটিতে ভাঙাগড়া চলছে। আবারও ভাঙনের মুখে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাপা।
দলটির বর্তমান ও সাবেক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনের ইতিহাস এই দলে নতুন নয়। সব সময় কোনো না কোনো ইস্যুতে দলটিতে অস্থিরতা লেগেই থাকে। এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক এরশাদও দলে ভাঙন, বিবাদ ঠেকাতে পারেননি। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় বিরক্ত দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের বাইরে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল যেন জাপার নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরশাদবিহীন দলের এই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বরং দিন দিন মূলধারার জাপায় অভ্যন্তরীণ সংকট আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ছোট ছোট দল আর উপদলে বিভক্তি-কোন্দল বাড়ছে দলটিতে।জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপাই মূল ধারা হিসেবে পরিচিত। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই ধারায় এখন বেশ কয়েকটি উপধারা সৃষ্টি হয়েছে। এরশাদের মৃত্যুর পর দেবর-ভাবির মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দলে রওশনপন্থিরা পৃথক দল গঠনের চেষ্টায় রয়েছেন। গৃহবিবাদের জেরে এই অংশটি এবারের নির্বাচনেও অংশ নেয়নি। এর মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য, প্রার্থীদের কোনো প্রকার সহযোগিতা না করাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন পার্টির পরাজিত প্রার্থীরা। তারা দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পদত্যাগ দাবি করেন। ঘেরাও করা হয় বনানীর জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়। এরপর সারা দেশের পরাজিত প্রার্থীদের ডেকে বিশেষ সভাও হয়েছে।নিবন্ধন নেই।
এদিকে রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা। সেই লক্ষ্য নিয়ে চলছে রওশনপন্থি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির তৎপরতা। প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অনেকেই এখন রওশনপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তারাও জি এম কাদেরপন্থিদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
দল পুনর্গঠনের বিষয়ে রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গোলাম মসীহ কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া থেকে সরে যাইনি। আমরা সংগঠিত হচ্ছি। একটি দল চোখের সামনে এভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে না। জি এম কাদের যেভাবে দল পরিচালনা করছেন, এতে জাপা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ জন্য আমরা ম্যাডামের (রওশন) নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী মাসের মধ্যে সম্মেলনের তারিখ ঠিক হবে।’
দল ভাঙার তৎপরতা নিয়ে দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই। সরকার যদি কোনো রোল প্লে করতে চায়, তবেই দলে ভাঙন সম্ভব।’
তিনি বলেন, দলের ক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে কোনো কথা নেই। সবার প্রতি আমার বক্তব্য হলো মানুষ সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চাচ্ছে। রাজনীতির গুণগত মান ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আমরা টেন্ডার, দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি মুক্ত দেশ চাই। মানুষও তা চায়। জাতীয় পার্টি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে সুশাসনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। পার্টির সব নেতাকর্মীকে বলব, সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করেন। সত্যের জয় হবেই।’
















