FBCCI এর প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয় হতে উত্তরনের জন্য সংস্কার করার লক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলন

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ৯২ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্য বিরোধী সংস্কার পরিষদ কর্তৃক দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারর্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী (এফবিসিসিআই)-এর সংস্কার বিগত ১৫ বছর যাবৎ এফবিসিসিআই এর কার্যক্রম ব্যবসা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতের স্বার্থে সার্বিকভাবে পরিচালিত হয় নাই বরং অনির্বাচিত, একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের তোষামদি, ব্যাক্তিগত স্বার্থ হাসিল সহ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর ছিল। গত দেড় দশকে এফবিসিসিআই কর্তৃক বাজার নিয়ন্ত্রনে উদাসীনতা এবং ব্যর্থতার কারনে বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনেক নিত্যপন্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজার মূল্য দ্বিগুন/তিনগুন বাড়িয়ে একটি মহল রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব শুধু মাত্র কর্পোরেট ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট হাউজগুলোর স্বার্থ রক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিল, এখানে মাঝারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ এফবিসিসিআই-এর সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। সর্বদা গণভবনে তোষামোদকারী সুবিধাবাদী চক্র দলীয় ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর জবাবদিহীতাবিহীন এফবিসিসিআই এবং এর অধীনস্থ চেম্বার এবং এসোসিয়েশনগুলিকে তাদের পকেট সংগঠন হিসাবে নিয়ন্ত্রন করেছিল। এরই প্রেক্ষাপটে বিগত ১৮/০৮/২০১৪ইং তারিখে এফবিসিসিআই-এর সাধারণ পরিষদ সদস্যবৃন্দ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা বরাবর এফবিসিসিআই এর পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেন এবং সরকার গত ১১/০৯/২০২৪ইং তারিখে এফবিসিসিআই-এর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেন। ইতিপূর্বে এফবিসিসিআই-এর পরিচালনা পর্যদ বিলুপ্তির জন্য সাধারন পরিষদ সদস্যবৃন্দ এফবিসিসিআই ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে আসছিল।এফবিসিসিআই সহ বাণিজ্য সংগঠন সমূহকে প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয় হতে উত্তরনের জন্য বিগত ২১/০৯/২০২৪ইং তারিখে এফবিসিসিআই এর সাধারণ পরিষদের এক সভায় এফবিসিসিআই এর সংস্কার বিষয়ে সাধারণ সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেন যা সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলো। এতদ্বতীত সাধারন পরিষদ সদস্যদের জনশ্রুতি, অসন্তোষ এবং তীব্র ক্ষোভের কারনে বিগত ১৫ বছরে এফবিসিসিআই-এর অভ্যন্তরে বিশাল দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের তদন্ত/নিরীক্ষা করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে আবেদন করা হয়। আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কার সমূহ সরকার এবং সারাদেশের ৪ কোটি ব্যবসায়ীর নিকট পৌছে দিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, প্রস্তাবিত সংস্কার সমূহ বাস্তবায়িত হলে এফবিসিসিআই সহ বাণিজ্য সংগঠনগুলি রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হয়ে পর্যায়ক্রমে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।সংস্কার প্রস্তাব সমূহ এবং যৌক্তিকতাঃ ১।এফবিসিসিআই এর নির্বাচনের আগে এর অধিভূক্ত সকল এসোসিয়েশন এবং চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ বিগত ১৫ বছরে অধিকাংশ চেম্বার এবং এসোসিয়েশন সমূহে সীমাহীন দলীয়করণ করা হয়েছে। অধিকাংশ চেম্বার এবং এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ছাত্র-গণহত্যার সহযোগী হিসাবে বিভিন্ন মামলার আসামী এবং অনেকেই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, ফলে বাণিজ্য সংগঠনগুলিতে এক ধরনের শুন্যতা বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সত্যিকারের সং যোগ্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এফবিসিসিআই-এর সদস্যভূক্তি অত্যন্ত জরুরী। সুতরাং এফবিসিসিআই-এর নির্বাচনের পূর্বে এফবিসিসিআই অধীভূক্ত সকল চেম্বার এবং এসোসিয়েশগুলি বিলুপ্ত করে অবাধ ও সুষ্ঠ্য নির্বাচন করতে হবে।২ মনোনীত পরিচালক প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ মনোনীত পরিচালক প্রথার কারনে বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক অ-ব্যবসায়ী, অযোগ্য লোক এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্ষদে ঢুকে পড়েন। এরা এফবিসিসিআই হতে সিআপিসহ অন্যান্য সুবিধা গ্রহন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর। সঙ্গী হওয়ার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হন। এই সকল মনোনীত পরিচালকবৃন্দ এফবিসিসিআই এর বিভিন্ন কার্যক্রমে আদৌ সম্পৃক্ত হন না, এমনকি দিনের পর দিন বোর্ড মিটিং এ অনুপস্থিত থাকেন।৩.সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালক পদে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ বিদ্যমান ব্যবস্থায় সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালকবৃন্দের সাধারণ পরিষদের নিকট কোন জবাবদিহিতা/দায়বদ্ধতা নেই। ফলশ্রুতিতে উল্লেখিত পদ সমূহে আগত ব্যবসায়ীরা ভারসাম্যহীন একছত্র ক্ষমতায় অধিকারী হয়ে যান ফলে স্বৈরাচারী মনোভাব ধারন করেন। সরাসরি নির্বাচনে সকল প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার (লিখিত ঘোষণা) এবং কিছু প্রতিশ্রুতি থাকে যা নির্বাচিতরা তাদের মেয়াদকালে প্রতিপালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।৪.এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্ষদ ছোট করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ ৮০ জন পরিচালক নিয়ে এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্যদ সত্যিকার অর্থেই একটি মাথা-ভারী প্রশাসন। বোর্ড মিটিং এর অধিকাংশ পরিচালকবৃন্দ অনুপস্থিত থাকলেও পরিচালক হিসাবে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে অশুভ/অসুস্থ প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়ে ৫. সহ-সভাপতি ৭ জনের স্থলে ৩ জনের করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ সহ-সভাপতির কাজ সভাপতির অবর্তমানে তাঁর দায়িত্ব পালন করা। কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় চাপ সৃষ্টির কারনে অতীতে ৭ জন সহ-সভাপতি পদ তৈরী করা হয়েছে। সারাবিশ্বে এমন কোন সংস্থা নাই যার একজন সভাপতির নীচে সাত জন সহ-সভাপতি থাকেন, বিষয়টি হাস্যকর ও বটে।৬. পরিচালনা পর্ষদ ছোট করে চেম্বার গ্রুপ হতে ১৫ জন পরিচালক এবং এসোসিয়েশন গ্রুপ হতে ২৫ জন পরিচালক নির্ধারনের জন্য সুপারিশ করা হলো।যৌক্তিকতাঃ এফবিসিসিআই এর বিদ্যমান সদস্যদের শ্রেনীবিন্যাস নিম্নে দেয়া হলো।এ- ক্লাস চেম্বার ৬৯টি, ভোটার সংখ্যা- ৪১৩ জনবি-ক্লাস চেম্বার ১৪টি, ভোটার সংখ্যা- ৫৬ জন সর্বমোট চেম্বার সংখ্যা- ৮-৩টি, ভোটার সংখ্যা- ৪৬৯ জনএ- ক্লাস এবং বি-ক্লাস চেম্বার বাৎসরিক চাঁদা প্রদান করেন ৩৫,৯৫,০০০/- (পয়ত্রিশ লক্ষ পঁচানকাই হাজার) টাকা।এ- ক্লাস এসোসিয়শন- ৩৯৬টি, ভোটার সংখ্যা- ১৯৭৫ জনবি-ক্লাস এসোসিয়েশন ০৫টি, ভোটার সংখ্যা- ১৫ জন সর্বমোট এসোসিয়েশন সংখ্যা- ৪০১টি, ভোটার সংখ্যা- ১৯৯০ জনএ- ক্লাস এবং বি-ক্লাস এসোৈিসয়শন বাৎসরিক চাঁদা প্রদান করেন ১,৪০,০০,০০০/- (এক কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকা।উপরের স্বারনীতে দেখা যাচ্ছে যে এসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা চেম্বারের সদস্য সংখ্যার প্রায় ৫ গুন এবং এসোসিয়েশ কর্তৃক প্রদেয় চাঁদার পরিমান চেম্বার কর্তৃক প্রদেয় চাঁদার প্রায় ৪ গুন। সুতরাং এসোসিয়েশন গ্রুপ এবং চেম্বার গ্রুপ হতে সমান সংখ্যক পরিচালক নিয়ে বোর্ড গঠন করা অযৌক্তিক এবং একটি বিশাল বৈষম্য। ফলশ্রুতিতে এসোসিয়েশন গ্রুপের সদস্যদের মাঝে তীব্রক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। অতএব এফবিসিসিআই এর পরিচালনা পর্ষদের চেম্বার গ্রুপের পরিচালক সংখ্যা ১৫ জন এবং এসোসিয়েশন গ্রুপ হতে ২৫ জন পরিচালক নেয়া সময়ের দাবী।৭. এফবিসিসিআই সহ সকল এসোসিয়েশন এবং চেম্বারে পরপর দুইবার নির্বাচিত কর্মকর্তাগণকে কমপক্ষে একবার বিরতি গ্রহন করতে হবে।যৌক্তিকতাঃ বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় একই ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপকৌশলে একের পর একাধিক মেয়াদকালে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এই সকল নেতৃত্ব দিয়ে ব্যবসায়ী সমাজ তথা দেশ ও জাতির কোন কল্যান সাধন হয় না। এরা একধরনের সিন্ডিকেট তৈরী করে তরুন, সৎ, শিক্ষিত, যোগ্য ও মেধাবীদের নেতৃত্বে আসার জন্য বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছেন। নির্বাচিত পরিচালকরা নিজেদের মেয়াদকালে প্রভাব খাটিয়ে নতুন অ-ব্যবসায়ী, ভূয়া ভোটার তৈরী করেন। বছরের পর বছর এই সকল ভূয়া ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। দুইবার নির্বাচিত পরিচালকরা বিরতি প্রদান করলে ভূয়া ভোটার কমে গিয়ে ভোটার সংক্রান্ত জটিলতা একেবারেই কমে যাবে। নেতৃত্বের পরিবর্তন সাধারণ ভোটারদেরকে যোগ্যতম প্রার্থী মূল্যায়নে/নির্বাচনের ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।৮. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে সাধারণ ভোটারদেরকে যেকোন উপহার/উপঢৌকন প্রদান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে জরিমানা সহ আজীবন সদস্যপদ বাতিল এর মতো কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। প্রার্থীগণ নির্বাচনী আচরনবিধি মানার জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করবেন।যৌক্তিকতাঃ বিগত নির্বাচন সমূহে নির্বাচনের সময় নির্বিচারে উপহার/উপঢৌকন সামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু নির্বাচন বোর্ড কোন শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। ফলশ্রুতিতে একশ্রেনীর অসৎ ব্যবসায়ী প্রচুর টাকার ব্যয় করে নির্বাচিত হয়ে আসেন। ঐ সকল নির্বাচিত পরিচালকরা ব্যবসায়ী সমাজের কোন কল্যানেতো আসেনই না বরং তাদের খরচের টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অর্থ উপার্জনের ধান্দায় লিপ্ত হন। সৎ, যোগ্য, প্রার্থীরা টাকার খেলার কাছে পরাজয় বরন করেন।















