ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়া ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ।

সৈয়দ মোঃ স্বাধীন,,,,,
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দ মোঃ স্বাধীন,,,,,

আজ ৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় গন অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কার্যলয় আল-রাজি কমপ্লেক্স এক সংবাদ সম্মেলনে,
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরির ১ম ও ২য় শ্রেণিতে কোটা প্রথা বিলুপ্ত হয়, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আবারও ৩০% কোটা ফিরিয়ে আনার পটভূমিকায় ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের একটা পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী গুলি করে মানুষ হত্যা শুরু করলে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ লাভ করে। এই আন্দোলনে বিপুল ছাত্র- শ্রমিক- জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব সফল গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়।
এই গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের ধারাবাহিক লড়াইয়ের শেষ পরিণতি লাভ করে জুলাই মাসে এসে। যারা গণঅভ্যুত্থানকে শুধুমাত্র ৩৬ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য মূলত অতীতের সমস্ত সংগ্রামকে অস্বীকার করা।
(১) বিশেষ করে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে গণহত্যা এই দেশের আলেমসমাজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাগ্রত করে তোলে।
(২) ২০১৫ সালের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তোলে।
(৩) ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আপোষহীন নবজাগরণ হাসিনার মসনদে আঘাত করে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়, আর কোন কোটাই থাকবেনা। তখন এই দেশের মানুষের মধ্যে সাহসের বীজ বপন হয় যে, হাসিনার মাথা নত করা যায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সাহস পায় স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দুই বাসের সংঘর্ষে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সারাদেশে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
(৪) ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে সচেতন করে তোলে। সারাদেশে I hate politics বলা তরুণদের মাঝে ধীরেধীরে রাজনীতি সচেতনতা বাড়তে থাকে।
(৫) ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটে ছাত্রলীগ কর্তৃক আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড এই দেশের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
(৬) বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ২৫ মার্চ’ মোদির আগমন বিরোধী আন্দোলন শুরু করে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদ। সেদিন পুলিশ হামলা করে এবং ৬৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। পরেরদিন হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদির আগমন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এতে অগণিত মানুষ শহীদ ও আহত হয়। এই আন্দোলন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে বেগবান করে।
(৭) ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন এই দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের মনের মধ্যে ভোটাধিকার হরণের তীব্র ক্ষোভের বাসা বাঁধে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট হাসিনা রেজিমে শিক্ষাঙ্গনে গেস্টরুম-গণরুমের নির্যাতন, মাফিয়ালীগের খুন-ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, পতিত হাসিনা সরকারের সমালোচনাকারী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলা নির্যাতন ইত্যাদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা প্রতিবাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি তৈরি করে। মার খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে, মামলা খেয়ে জেলে গিয়ে সেখান থেকে ফিরে এসে আবারো প্রতিবাদের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে রাখা, এদেশের প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীরা দেশের মানুষের মনস্তত্ত্বে একটা বিপ্লব সৃষ্টি করে।
(৮) যেহেতু রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো যাচ্ছিলো না। কারণ রাজনৈতিক আন্দোলনে দমন-পীড়ন করা, গুম-খুন-ক্রসফায়ার দিয়ে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার যেন আইনগত বৈধতা পেয়েছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। হাসিনার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিদেশি মিত্রদের পক্ষ থেকেও সেই অর্থে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার ঠিকাদারি গ্রহণ করে তার অন্যায়-অপরাধের সঙ্গী হওয়ার মাধ্যমে। যেকারণে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে কোটা ফিরে আসলে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামার প্রেক্ষিতে হাসিনা গুলি করে,
শিক্ষার্থীদের হত্যার নির্দেশনা দিলে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়। অগণিত জীবন ও অঙ্গহানির দ্বারা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করে এই দেশের মুক্তিকামী জনতা।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিপ্লবের ধারক-বাহক হবেন এই তরুণ ও মুক্তিকামী জনতা। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ও সরকারের জায়গা থেকে বিপ্লবী তরুণ ও মুক্তিকামী জনতার এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং জুলাই ঘোষণাপত্রে ৩৬ দিনের বিপ্লবের প্রেক্ষাপট-১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনসহ ১৪-১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর আপোষহীন ভূমিকা স্পষ্ট হতে হবে।
কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, ইতোমধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু এবিষয়ে বিপ্লবের অংশীজনদের সাথে কোন আলোচনা করেনি সরকার। বিপ্লবের অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়া ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ। জুলাই কারও একার নয়, জুলাই আমাদের সবার। কোন একটা দলকে খুশি করতে ঘোষণাপত্র রচিত হলে তা হবে ৭১ এর ইতিহাসের মত ২৪ এর ইতিহাসকে একপাক্ষিক ও কুক্ষিগত করা। যা হবে জুলাই চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মোঃ রাশেদ খাঁন সাধারণ সম্পাদক গণঅধিকার পরিষদ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়া ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

সৈয়দ মোঃ স্বাধীন,,,,,

আজ ৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় গন অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কার্যলয় আল-রাজি কমপ্লেক্স এক সংবাদ সম্মেলনে,
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরির ১ম ও ২য় শ্রেণিতে কোটা প্রথা বিলুপ্ত হয়, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আবারও ৩০% কোটা ফিরিয়ে আনার পটভূমিকায় ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের একটা পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী গুলি করে মানুষ হত্যা শুরু করলে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ লাভ করে। এই আন্দোলনে বিপুল ছাত্র- শ্রমিক- জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব সফল গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়।
এই গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৪-১৫ বছরের ধারাবাহিক লড়াইয়ের শেষ পরিণতি লাভ করে জুলাই মাসে এসে। যারা গণঅভ্যুত্থানকে শুধুমাত্র ৩৬ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য মূলত অতীতের সমস্ত সংগ্রামকে অস্বীকার করা।
(১) বিশেষ করে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে গণহত্যা এই দেশের আলেমসমাজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাগ্রত করে তোলে।
(২) ২০১৫ সালের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে তোলে।
(৩) ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আপোষহীন নবজাগরণ হাসিনার মসনদে আঘাত করে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়, আর কোন কোটাই থাকবেনা। তখন এই দেশের মানুষের মধ্যে সাহসের বীজ বপন হয় যে, হাসিনার মাথা নত করা যায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সাহস পায় স্কুল কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দ্রুতগতির দুই বাসের সংঘর্ষে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়া নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে সারাদেশে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
(৪) ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে সচেতন করে তোলে। সারাদেশে I hate politics বলা তরুণদের মাঝে ধীরেধীরে রাজনীতি সচেতনতা বাড়তে থাকে।
(৫) ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট করার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটে ছাত্রলীগ কর্তৃক আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড এই দেশের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
(৬) বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ২৫ মার্চ’ মোদির আগমন বিরোধী আন্দোলন শুরু করে ছাত্র অধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদ। সেদিন পুলিশ হামলা করে এবং ৬৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। পরেরদিন হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে নরেন্দ্র মোদির আগমন বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এতে অগণিত মানুষ শহীদ ও আহত হয়। এই আন্দোলন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে বেগবান করে।
(৭) ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন এই দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের মনের মধ্যে ভোটাধিকার হরণের তীব্র ক্ষোভের বাসা বাঁধে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট হাসিনা রেজিমে শিক্ষাঙ্গনে গেস্টরুম-গণরুমের নির্যাতন, মাফিয়ালীগের খুন-ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, পতিত হাসিনা সরকারের সমালোচনাকারী ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলা নির্যাতন ইত্যাদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা প্রতিবাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি তৈরি করে। মার খেয়ে আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে, মামলা খেয়ে জেলে গিয়ে সেখান থেকে ফিরে এসে আবারো প্রতিবাদের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে রাখা, এদেশের প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীরা দেশের মানুষের মনস্তত্ত্বে একটা বিপ্লব সৃষ্টি করে।
(৮) যেহেতু রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো যাচ্ছিলো না। কারণ রাজনৈতিক আন্দোলনে দমন-পীড়ন করা, গুম-খুন-ক্রসফায়ার দিয়ে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার যেন আইনগত বৈধতা পেয়েছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। হাসিনার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিদেশি মিত্রদের পক্ষ থেকেও সেই অর্থে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার ঠিকাদারি গ্রহণ করে তার অন্যায়-অপরাধের সঙ্গী হওয়ার মাধ্যমে। যেকারণে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ের মাধ্যমে কোটা ফিরে আসলে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামার প্রেক্ষিতে হাসিনা গুলি করে,
শিক্ষার্থীদের হত্যার নির্দেশনা দিলে কোটা সংস্কার আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়। অগণিত জীবন ও অঙ্গহানির দ্বারা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করে এই দেশের মুক্তিকামী জনতা।
নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিপ্লবের ধারক-বাহক হবেন এই তরুণ ও মুক্তিকামী জনতা। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ও সরকারের জায়গা থেকে বিপ্লবী তরুণ ও মুক্তিকামী জনতার এই অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং জুলাই ঘোষণাপত্রে ৩৬ দিনের বিপ্লবের প্রেক্ষাপট-১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনসহ ১৪-১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর আপোষহীন ভূমিকা স্পষ্ট হতে হবে।
কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, ইতোমধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু এবিষয়ে বিপ্লবের অংশীজনদের সাথে কোন আলোচনা করেনি সরকার। বিপ্লবের অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়া ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ। জুলাই কারও একার নয়, জুলাই আমাদের সবার। কোন একটা দলকে খুশি করতে ঘোষণাপত্র রচিত হলে তা হবে ৭১ এর ইতিহাসের মত ২৪ এর ইতিহাসকে একপাক্ষিক ও কুক্ষিগত করা। যা হবে জুলাই চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মোঃ রাশেদ খাঁন সাধারণ সম্পাদক গণঅধিকার পরিষদ