ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস পালিত। 

প্রতিনিধির নাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস পালিত।

 

 

 

 

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৮ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে ।

 

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সকাল ১০টায় শহরের কাউতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তক অর্পন এবং বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে আনন্দ র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শেষে সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

 

মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদে সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদ খান লাভলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম,  বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার আবু হুরায়রা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ায়েস সিদ্দিকীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান-সন্ততিবৃন্দ এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।

 

এর আগে দিবসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো শাহগীর আলমের নেতৃত্বে কাউতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ পুষ্পস্তক অর্পন মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সন্তানাদি।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রুমুক্ত করতে ৩০ নভেম্বর থেকে জেলার আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় মিত্রবাহিনী পাকবাহিনীর ওপর বেপরোয়া আক্রমণ চালাতে থাকে। ১ ডিসেম্বর আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় ২০ পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়। ৩ ডিসেম্বর আখাউড়ার আজমপুরে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। সেখানে ১১ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। শহীদ হন ৩ মুক্তিযোদ্ধা।এরই মধ্যে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, মুকুন্দপুর, হরষপুর, আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, রাজাপুর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে।

 

৪ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা পিছু হটতে থাকলে আখাউড়া অনেকটাই শত্রুমুক্ত হয়। এখানে রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাক বাহিনীর দু’শতাধিক সেনা হতাহত হয়। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

 

এরপর চলতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার প্রস্তুতি। মুক্তিবাহিনীর একটি অংশ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এবং মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্ট ডিভিশন রেজিমেন্টের সদস্যরা আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

 

শহরের চারিদিকে মুক্তিবাহিনী অবস্থান নিতে থাকায় ৬ ডিসেম্বর পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকারদের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কে.এম লুৎফুর রহমানসহ জেলা কারাগারে আটক অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চোখ বেঁধে শহরের করুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

 

৭ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে পাকিস্তানীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। পরে ৮ ডিসেম্বর কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রুমুক্ত হয়।

 

৮ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল যুদ্ধের পরিচালনাকারী জহুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় পুরাতন কাচারী প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। একই দিন সন্ধ্যায় জেলার সরাইল উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস পালিত। 

নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস পালিত।

 

 

 

 

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৮ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে ।

 

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সকাল ১০টায় শহরের কাউতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তক অর্পন এবং বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে আনন্দ র‌্যালী ও শোভাযাত্রা শেষে সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খা মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

 

মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদে সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহিদ খান লাভলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মো হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম,  বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার আবু হুরায়রা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ায়েস সিদ্দিকীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান-সন্ততিবৃন্দ এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।

 

এর আগে দিবসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো শাহগীর আলমের নেতৃত্বে কাউতলীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভ পুষ্পস্তক অর্পন মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সন্তানাদি।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে শত্রুমুক্ত করতে ৩০ নভেম্বর থেকে জেলার আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় মিত্রবাহিনী পাকবাহিনীর ওপর বেপরোয়া আক্রমণ চালাতে থাকে। ১ ডিসেম্বর আখাউড়া সীমান্ত এলাকায় ২০ পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়। ৩ ডিসেম্বর আখাউড়ার আজমপুরে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। সেখানে ১১ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। শহীদ হন ৩ মুক্তিযোদ্ধা।এরই মধ্যে বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী, সিঙ্গারবিল, মুকুন্দপুর, হরষপুর, আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, রাজাপুর এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসে।

 

৪ ডিসেম্বর পাক হানাদাররা পিছু হটতে থাকলে আখাউড়া অনেকটাই শত্রুমুক্ত হয়। এখানে রেলওয়ে স্টেশনের যুদ্ধে পাক বাহিনীর দু’শতাধিক সেনা হতাহত হয়। ৬ ডিসেম্বর আখাউড়া সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

 

এরপর চলতে থাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত করার প্রস্তুতি। মুক্তিবাহিনীর একটি অংশ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে এবং মিত্রবাহিনীর ৫৭তম মাউন্ট ডিভিশন রেজিমেন্টের সদস্যরা আখাউড়া-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইন ও উজানিসার সড়ক দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

 

শহরের চারিদিকে মুক্তিবাহিনী অবস্থান নিতে থাকায় ৬ ডিসেম্বর পাক সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকারদের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক কে.এম লুৎফুর রহমানসহ জেলা কারাগারে আটক অর্ধশত বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে চোখ বেঁধে শহরের করুলিয়া খালের পাড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

 

৭ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে পাকিস্তানীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে আশুগঞ্জের দিকে পালাতে থাকে। পরে ৮ ডিসেম্বর কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শত্রুমুক্ত হয়।

 

৮ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল যুদ্ধের পরিচালনাকারী জহুর আহমেদ চৌধুরী স্থানীয় পুরাতন কাচারী প্রাঙ্গনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। একই দিন সন্ধ্যায় জেলার সরাইল উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।