ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত

আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকধারীর ২ দফা অভিযান,গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা।

রিপোর্টার সৈয়দ মো:স্বাধীন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪ ৩২৪ বার পড়া হয়েছে

আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকধারীরা ২ দফা অভিযান চালিয়েছে গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গন অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছ রাশেদ খান নিজেই।প্রিয় দেশবাসী, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন।আপনারা সকলে জানেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সেই বছরের ০১ জুলাই আমি গ্রেফতার হই। এরপর আমাকে একটানা ১৫ দিন পুলিশ রিমান্ডে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেই সময় আমার মত আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্যান্যদেরকেও আটক করা হয়। একটা পর্যায়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রায় ০২ মাস পরে আমাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কিন্তু হাইকোর্টে ২০২১ সালের একটি রিটের প্রেক্ষিতে আবারও ৩০% কোটা ফিরিয়ে আনার রায় দিলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে। আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সমর্থন করি এবং সরকারকে কোটা পুনর্বহাল না করার আহ্বান জানাই। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের উপর দমন-পীড়ন, গ্রেফতার শুরু হলে আমরা নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে ‘নাগরিক প্রতিক্রিয়া’ সমাবেশেরও আয়োজন করি। চলমান আন্দোলনে ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে রাজপথে মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কারণ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা হামলা মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। হাজারো শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে সেই সময় ছাত্রসমাজের কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিলো। যদিও আমাদের দাবি ছিলো কোটা সংস্কার কিন্তু, তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সরকারের গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির পরামর্শে কোটা বাতিল করা হয়। প্রিয় দেশবাসী, আপনারা জানেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক, ডাকসুর সাবেক ভিপি, গণঅধিকার পরিষদের সংগ্রামী সভাপতি নুরুল হক নুরকে ইতোমধ্যে আন্দোলনে মদদ, উস্কানি ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পৃথক ২ টি মামলায় ২ দফায় মোট ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফসহ সারাদেশে গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতৃবৃন্দকে আটক করা হয়েছে। আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদাপোশাকধারীরা ২ দফা অভিযান চালিয়েছে। গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। এনিয়ে আমার পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের এই আচরণে আমার ছোট্ট দুটি মেয়ে ও ৬ মাসের পুত্র সন্তান নিয়ে আমার সহধর্মিণী মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমার মা-বাবা গ্রামে সারাক্ষণ আহাজারি করছে। আপনারা জানেন ২০১৮ সালে আমার মা কিভাবে পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলো। এমনকি পরবর্তী সময়ে আমার উপর নির্যাতনের কারণে একবার স্ট্রোকও করেছিলো। আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে আন্দোলনের লিগ্যাসি বহন করায় ২০২৪ সালের আন্দোলনে সংহতি ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখানে আমাদের কোন অপরাধ নেই। বরং কোটা পুনর্বহালের অপচেষ্টা ও ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে টালবাহানা করায় চলমান সংকট শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ০৯ দফার যৌক্তিকতায় ও গণহত্যার বিচারে ইতোমধ্যে দেশের নাগরিক সমাজ, আইনজীবী, শিক্ষক সমাজ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মাঠে নেমেছে। এরকম গণহত্যা চালানোর পরে সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা রাখে না। সরকারকে বলবো জনগণের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে অনতিবিলম্ব ছাত্রসমাজের ৯ দফা মেনে নিন এবং দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সংসদে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রস্তাব পাশ করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে সংলাপের আয়োজন করুন। অন্যথায় সংকট আরও গভীর হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

মোঃ রাশেদ খাঁন

সাধারণ সম্পাদক

গণঅধিকার পরিষদ

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকধারীর ২ দফা অভিযান,গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা।

  1. আচ্ছালামো আলাইকোম ভাই আমি একজন প্রবাসীদের সোচ্চা সেবক কমিটির সদস্য অনুরোধ করে আপনার মোবাইল নাম্বার টা চাইতাছী

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকধারীর ২ দফা অভিযান,গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪

আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকধারীরা ২ দফা অভিযান চালিয়েছে গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গন অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছ রাশেদ খান নিজেই।প্রিয় দেশবাসী, আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন।আপনারা সকলে জানেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সেই বছরের ০১ জুলাই আমি গ্রেফতার হই। এরপর আমাকে একটানা ১৫ দিন পুলিশ রিমান্ডে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেই সময় আমার মত আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অন্যান্যদেরকেও আটক করা হয়। একটা পর্যায়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রায় ০২ মাস পরে আমাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কিন্তু হাইকোর্টে ২০২১ সালের একটি রিটের প্রেক্ষিতে আবারও ৩০% কোটা ফিরিয়ে আনার রায় দিলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে। আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সমর্থন করি এবং সরকারকে কোটা পুনর্বহাল না করার আহ্বান জানাই। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের উপর দমন-পীড়ন, গ্রেফতার শুরু হলে আমরা নাগরিক সমাজকে সাথে নিয়ে ‘নাগরিক প্রতিক্রিয়া’ সমাবেশেরও আয়োজন করি। চলমান আন্দোলনে ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে রাজপথে মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কারণ ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা হামলা মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। হাজারো শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে সেই সময় ছাত্রসমাজের কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিলো। যদিও আমাদের দাবি ছিলো কোটা সংস্কার কিন্তু, তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সরকারের গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির পরামর্শে কোটা বাতিল করা হয়। প্রিয় দেশবাসী, আপনারা জানেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক, ডাকসুর সাবেক ভিপি, গণঅধিকার পরিষদের সংগ্রামী সভাপতি নুরুল হক নুরকে ইতোমধ্যে আন্দোলনে মদদ, উস্কানি ও নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পৃথক ২ টি মামলায় ২ দফায় মোট ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফসহ সারাদেশে গণঅধিকার পরিষদের অসংখ্য নেতৃবৃন্দকে আটক করা হয়েছে। আমাকে তুলে নেওয়ার জন্য সাদাপোশাকধারীরা ২ দফা অভিযান চালিয়েছে। গলিতে গলিতে গিয়ে আমার ছবি দেখিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। এনিয়ে আমার পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের এই আচরণে আমার ছোট্ট দুটি মেয়ে ও ৬ মাসের পুত্র সন্তান নিয়ে আমার সহধর্মিণী মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমার মা-বাবা গ্রামে সারাক্ষণ আহাজারি করছে। আপনারা জানেন ২০১৮ সালে আমার মা কিভাবে পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলো। এমনকি পরবর্তী সময়ে আমার উপর নির্যাতনের কারণে একবার স্ট্রোকও করেছিলো। আমরা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে আন্দোলনের লিগ্যাসি বহন করায় ২০২৪ সালের আন্দোলনে সংহতি ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখানে আমাদের কোন অপরাধ নেই। বরং কোটা পুনর্বহালের অপচেষ্টা ও ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে টালবাহানা করায় চলমান সংকট শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ০৯ দফার যৌক্তিকতায় ও গণহত্যার বিচারে ইতোমধ্যে দেশের নাগরিক সমাজ, আইনজীবী, শিক্ষক সমাজ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মাঠে নেমেছে। এরকম গণহত্যা চালানোর পরে সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা রাখে না। সরকারকে বলবো জনগণের উপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে অনতিবিলম্ব ছাত্রসমাজের ৯ দফা মেনে নিন এবং দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সংসদে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রস্তাব পাশ করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে সংলাপের আয়োজন করুন। অন্যথায় সংকট আরও গভীর হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

মোঃ রাশেদ খাঁন

সাধারণ সম্পাদক

গণঅধিকার পরিষদ