আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্বস্তা জনপ্রিয়তায় নিজেদের ভাগ্য বদল করেছে: জামায়াতের আমির

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,আওয়ামী লীগ সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পে নামে স্বস্তা জনপ্রিয়তার ফাঁদ দিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। আমাদের দেশে কিছুদিন আগে সরকারি আশ্রয়ন তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৈরি করার আগেই এটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এটি ছিল জনগণের চোখে ধূলা দেওয়ার শামিল।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর)সকাল ৯-টায় পৌর শহরের (টেংকেরপাড়) জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর বলেন, মিডিয়া বের করে নিয়ে আসে উনি অমুক জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, তার পাঁচটি গাড়ি রয়েছে, ১০টি বাড়ি রয়েছে। এসব কলঙ্কজনক কথা বিচারকদের ব্যাপারে শুনতে চাই না। আমরা এমন একটি বিচার ব্যবস্থা চাই, যে ব্যবস্থা উঁচু-নিচু কাউকে ভাববে না। বিচারপ্রার্থীকে বিচার প্রার্থী হিসেবে দেখবে। কোনো বিচারপ্রার্থী যদি মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়, তাহলে মিথ্যার অভিযোগের দণ্ডও তাকে পেতে হবে। আবার যদি কেউ সঠিক অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে ন্যায় বিচার থেকে যেন বঞ্চিত না হয়।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই যেখানে বিচারপ্রার্থীকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি শিকার হতে হবে না। কোনো বিচারক তার আসনে বসে আল্লাহকে ছাড়া কোনো রাষ্ট্রশক্তিকে পরোয়া করবে না। রাষ্ট্রের আইন এবং বিবেক শক্তি দিয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করবে। আমরা শুনতে চাই না বিচারকের আসনে বসে বিচারকরা ঘুষ খায়।
তিনি বলেন,আমরা এমন একটি দেশ চাই, যে দেশ অন্য কোনো দেশের অধীনতা মেনে নেবে না। পৃথিবীর অন্য দশটা দেশ যেমন মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে দাঁড়ায়, বাংলাদেশও তার শির উঁচু করে দাঁড়াবে। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কিন্তু আমরা কোনো প্রভু মেনে নেব না। কেউ আমাদের ওপর প্রভুত্ব করতে আসলে জাতি তাকে তার সঠিক জবাব বুঝিয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন,রাষ্ট্রের চিহ্নিত স্বৈরাচারের দোসরদের সকল স্তর থেকে অপসারণ করতে হবে। তারা ক্ষমতায় থাকতে পারলে এই দেশকে এই বিপ্লবকে ব্যর্থ করে দেবে, তারা নৈতিক অধিকার হারিয়েছে এ রাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে তারা বেতন গ্রহণ করতে পারবে না। জনগণের স্বপ্নের মৃত্যু হবে। তারা খুনিতের ডান হাত বাম হাত ছিলো। তাদের পাপের শাস্তি পেতে হবে কিন্তু আমরা চায় সবগুলো ন্যায় বিচারের মাধ্যমে হোক।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এমন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই—যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। যদি একটি মানুষও অর্থের অভাবে দারিদ্র্যতার কারণে ফুটপাতে ঘুমায়—সেটি রাষ্ট্র সহ্য করবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে প্রত্যেকটি দরিদ্র এবং বঞ্চিত নাগরিককে তার আশ্রয়ের নিশ্বয়তা প্রদান করা। যেন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রে বসবাস করতে পারে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, অনেক দুঃখ-বেদনা আমাদের অন্তরে আছে। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিসসহ সারাদেশে অফিস সিলগালা করে রাখা হয়েছে। আমরা এক মুহূর্তের জন্যও অফিসে ঢুকতে পারিনি। অন্যায়ভাবে আমাদের নিবন্ধন বাতিল এবং প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিশেহারা সরকার গণ আন্দোলনের মুখে জনগণকে ধোকা দেওয়ার জন্য আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যকোনো দলের ওপর এমন যন্ত্রণা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম এতো এতো জুলুমের প্রতিশোধ জামায়াত নেবে না। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না।আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করেছি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো প্রতিশোধ নেব না। আমরা ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই।আমরা জনগণের মালিক হতে চাই না আমরা। জনগনের সেবক হতে চাই।
বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব খুনিদের বিচার করতে হবে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্প্রতি গণ–আন্দোলনে যারা গণহত্যা করেছে, তাদের বিচার আগে করতে হবে। তাদের বিচার আগে এ কারণে করতে হবে; কারণ, শহীদদের তাজা রক্ত এখনো ভাসছে। আহত ব্যক্তিরা এখনো কাতরাচ্ছেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ন্যাচারাল না আর্টিফিশিয়াল, জানি না, তারা (আওয়ামী লীগ) দাড়িও রাখা শুরু করেছেন। মাথায় টুপি দিচ্ছেন এবং আরেকটা রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। একদিকে ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, অন্যদিকে বিশ্ববাসীকে বার্তা দেওয়া চেষ্টাই আছে। আমরা তাদের মত হতে দিব না।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, নিজের দলকে নিজেদেরই নিষিদ্ধ করার ইতিহাস তাদের আছে। তারা যখন একদলীয় বাকশাল কায়েম করে, তখন তারা তাদের দলসহ সব দল নিষিদ্ধ করেছিল। এবার জনগণ তাদের দল নিষিদ্ধ করেছে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে।
জামায়াতের আমির বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তারা বিভিন্ন নামে দাবি নিয়ে আসছে। তাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত না হয়ে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে। তারা আনসার লীগ নামায়, বিচার লীগ নামায়, বিভিন্ন বিষয়ে তারা দাবি লীগ, ওই দাবি লীগ নামিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামাতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এ.টি.এম. মাসুম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য সাবেক জেলা আমীর অধ্যক্ষ কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম, সাবেক জেলা আমীর সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, জেলা নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো.আতিকুল ইসলাম ভূইয়া ও সেক্রেটারী হাসান মাহমুদ কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে বক্তৃতা করবেন। কর্মীসভা পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোবারক হোসাইন।















