একটি ফুল ছিঁড়ে নেওয়া যায়, বসন্তকে নয় সংগ্রামের ধারাবাহিক স্মৃতি হয়ে থাকবেন আবরার, আবু সাঈদ ও উসমান হাদি

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম
একটি ফুল ছিঁড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু বসন্তকে থামানো যায় না—এই সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা বদলায়নি। আজ আরেকটি ফুল ঝরে পড়েছে, কিন্তু মায়ের আঁচল ভেদ করে আবারও হাজার ফুল ফুটে উঠছে। সংগ্রাম থেমে নেই, থামবেও না।
২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ, ২০২৪ সালে আবু সাঈদ এবং ২০২৫ সালে উসমান হাদি—এই তিনটি নাম আজ কেবল ব্যক্তির পরিচয় নয়, তারা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের বিবেকের প্রতীক। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, কিন্তু একই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
আবরার ফাহাদ: প্রতিবাদের প্রথম উচ্চারণ
২০১৯ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত সহনশীলতার প্রশ্নে আবরারের মৃত্যু একটি মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অধ্যায় হয়ে ওঠে। তাঁর রক্তের দাগে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ক্যাম্পাস হোক কিংবা রাষ্ট্র, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
আবু সাঈদ: প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা
২০২৪ সালে আবু সাঈদের মৃত্যু প্রমাণ করে দেয় যে সমস্যার শেকড় তখনো উপড়ে ফেলা যায়নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা চলছেই। আবু সাঈদের নাম যুক্ত হয় সেই দীর্ঘ তালিকায়, যেখানে সাহসী মানুষরা সত্য বলার অপরাধে প্রাণ দিয়েছেন।
উসমান হাদি: বর্তমানের ক্ষত, ভবিষ্যতের অঙ্গীকার
২০২৫ সালে উসমান হাদির মৃত্যু যেন সেই পুরোনো ক্ষতকে আবার নতুন করে রক্তাক্ত করে। তাঁর মৃত্যু প্রশ্ন তোলে—আমরা কি সত্যিই কিছু শিখেছি? নাকি প্রতিটি প্রজন্মকে একই রক্তাক্ত অধ্যায় পেরিয়ে যেতে হবে?
স্মৃতি থেকে শক্তি
এই তিনটি মৃত্যু আমাদের কেবল শোকাহত করে না, দায়বদ্ধও করে। ইতিহাস সাক্ষী—মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। একটি ফুল ছিঁড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু বসন্তকে থামানো যায় না। আজ একটি ঝরে পড়েছে, কাল আবার হাজার ফুল ফুটে উঠবে—এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলে বাংলাদেশ।
আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও উসমান হাদি—তাঁরা তিনজনই আজ বাংলাদেশের সংগ্রামের স্মৃতি। তাঁদের রক্তের ঋণ শোধ হবে তখনই, যখন এই দেশ সত্য, ন্যায় এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার নিরাপদ ভূমি হয়ে উঠবে।
সংগ্রাম চলবেই।














