ঐতিহাসিক নির্বাচন ৭ জানুয়ারি

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০৫ বার পড়া হয়েছে

ঐতিহাসিক নির্বাচন ৭ জানুয়ারি
নাদিম হাসান, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদবহুল বিতর্কিত ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনের পর ২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে আরো একটি জাতীয় নির্বাচনের সামনে বাংলাদেশের জনগণ দাড়িয়ে আছে। এমন একটি উদ্ভট নির্বাচন পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই হয়তো আছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দলের অধিনে এমন একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে আওয়ামীলীগের সরাসরি নৌকা প্রার্থীর পাশাপশি আওয়ামীলীগের সতন্ত্র প্রার্থী, ঘোষণা দিয়ে ডামি প্রার্থী ছাড়াও জাতিয় পার্টির ৩০০ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ২৬ আসনে সমঝোতার প্রার্থী রেখে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এছাড়াও কুইন্স পার্টির তকমা পাওয়া নতুন গজিয়ে উঠা রাজনৈতিক দলও আছে।
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির শূন্যতা ১৪ সাল থেকেই অদৃশ্য থাকার মধ্যদিয়ে ২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনেও এর ব্যাতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। বিএনপি জামাত গণঅধিকার পরিষদ সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলো প্রচন্ড দমন পিড়নের মধ্যদিয়ে নির্বাচন থেকে শুধু দূরেই নয় প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে লাগাতার কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে।
২০০৯ সালের পর ভোটার হওয়া তরুণ প্রজন্ম জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোট প্রয়োগের মধ্যদিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
২৮ অক্টোবরের পর কারাগারের ধারনক্ষমতার কয়েকগুণ বন্দী দিয়ে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনকে ঘিরে পদক্ষেপগুলো ক্রমাগত তাদের নিরপেক্ষতার যায়গা থেকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করেছে। সর্বশেষ নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে বিরোধী দলগুলোর সভাসমাবেশে বাধানিষেধ তাদেরকে আরো বিতর্কিত করেছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কিভাবে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের উপর বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে তা প্রশ্নই থেকে যায়। বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদ চরিত্র এতোটাই স্পস্ট যে সরকারি কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকলেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভাষায় কথা বলতে বেশি পছন্দ করছে। বাস ট্রেনের মতো পরিবহনে অগ্নিকাণ্ড কোনরূপ তদন্তের পূর্বেই বিরোধী দলগুলোর উপর দায় চাপিয়ে সরকারের আনুকূল্যের কৃপা প্রার্থী হবার প্রতিযোগিতা হয়ে দাড়িয়েছে।
মিডিয়া গুলোর আচরণ আরো পোষ্য উমেদারদের মতো। অনেকাংশে একচেটিয়া সংবাদ পরিবেশন ও কিছু গণমাধ্যমের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব ভয়ংকর রুপ নিয়েছে।
নাগরিক সমাজের কিছু মূখপাত্ররা বিএনপি জামাত আগে কি করেছেন এবং আবার ক্ষমতায় আসলে তারচাইতে ভালো কি করবেন সেই গণনা করে এই ফ্যাসিবাদ চরিত্রকেই একপ্রকার সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
চরম ফ্যাসিবাদী একটি বলয়ে মূলত পর্যুদস্ত সাধারণ নাগরিক। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বিপক্ষের শক্তি বলে বলে জাতিকে সুকৌশলে দুটি ভাগে বিভক্ত করে দিয়ে ফ্যাসিবাদের আবাদভূমি রচনা করা হয়েছিল যা আজ জনগনের বাক ও ভোটের স্বাধীনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
উন্নয়নের যে মহা মিথ্যা গল্প জনগনকে শোনান হয়েছে আজ সেই উন্নয়ন ছিঁড়ে খাবার উপক্রম। বেকারত্বের নিরব মহামারি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতী, শিক্ষাখাত ধংস, চিকিৎসা খাতের সীমাহীন দূর্নীতি, লক্ষ কোটি টাকা প্রতিবছর পাচার, ব্যাংকগুলো লোটপাট এসবকি বড় বড় ব্রিজ কালভার্ট, এলিভেটেড এক্সেস, মেট্রোরেল, টানেলের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলোনা?
স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির কী এই অধিকার গুলো ছিলো যে অনিয়ম দূর্নীতি তারা করেছে?
যেখানে জনগনের দৈনন্দিন চাহিদা প্রাপ্তির সীমার বাইরে, শিক্ষা, চিকিৎসার, গণতন্ত্র, বাকস্বাধিনতা, মানবাধিকার সুনিশ্চিত থাকবেনা তার বিকল্প কি তথাকথিত ইট পাথরের উন্নয়ন হতে পারে?
এই তথাকথিত স্বাধীনতার স্বপক্ষের উন্নয়নের কারাগার থেকে জনগনের নাগরিক, গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক অধিকারের মুক্তি মিলবে কিসে?















