ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

কুবি শিক্ষার্থী শাকিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যেভাবে সামিল হলেন

রিপোর্টার মোঃ আনজার শাহ কুমিল্লা
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪ ১১১ বার পড়া হয়েছে

২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো বাংলাদেশে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সংগঠিত একটি আন্দোলন। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারি করা পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পরপরই সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। ৫ জুন ২০২৪ইং তাৎক্ষণিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে একটি বিক্ষোভ হয়।সমন্বয়কারীদের নেতৃত্বে ছিলেন- নাহিদ ইসলাম, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ সহ অনেকেই। তখন তারা দেখতে পায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালোই রেসপন্স পাচ্ছে। তারপরই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয় করা শুরু করে।১০ জুন ২০২৪ইং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও অন্যতম সমন্বয়ক বাকের মজুমদার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিলকে আন্দোলন করার জন্য উৎসাহিত করেন। আবু বাকের মজুমদার সাংবাদিক আনজার শাহ প্রতিবেশি এবং শাকিলের প্রতিবেশি ও গৃহশিক্ষক ছিলো। শাকিল সাংবাদিক আনজার শাহ পরামর্শ ও উদ্দীপনায় আন্দোলন করতে এগিয়ে যায়। তখন থেকেই শাকিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলন-এ জড়িয়ে গেলেন। প্রথমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজ ছিল অনলাইনে সবার সাথে কমিউনিকেশন করা। তখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকলের মধ্যেই আন্দোলন করার তীব্র মনমানসিকতা দেখতে পায়। এতে সারা দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজ, এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। সবাই সবার যায়গা থেকে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করে।জুলাইয়ের শুরু থেকেই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। যতই দিন যাচ্ছে, ততই আন্দোলনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১১ জুলাই ২০২৪ইং কুবিতে ও চবিতে প্রশাসন এর হামলা আন্দোলনকে আরো উস্কে দেয়।ওই দিন রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা কোটবাড়ি বিশ্বরোড ব্লক করে রাখি।এরপর প্রশাসন নমনীয় হতে বাধ্য হয়। সেটা আমাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা জোগায়। ১৪ জুলাই ২০২৪ইং শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য আন্দোলনকে আরো বেশি উস্কে দেয়। তখন থেকেই একটি স্লোগান প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর মুখে মুখে ছিল। সেটা হলো- আমি কে, তুমি কে? রাজাকার! রাজাকার!এরপর থেকে ঢাবি, জাবি, জবি, রাবি, কুবি, চবি সহ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় ছাত্রলীগ আন্দলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে অতর্কিত হামলা করতে শুরু করে।তখন আন্দোলনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সীমাবদ্ধ ছিল না। ছড়িয়ে পড়লো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ সহ বাংলার অলিতে-গলিতে।১৬, ১৭, ১৮ জুলাই ২০২৪ইং পুলিশের সাথে আমাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ১৮ জুলাই ২০২৪ইং ছাত্র-ছাত্রীদের বীরত্বের কাছে প্রতিটি যায়গায় পুলিশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ওই দিনই সরকার তড়িঘড়ি করে কারফিউ জারি করে দেয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াইফাই বন্ধ করে দেয়।আমাদের আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে সরকার। আমাদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মাঝে মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম, আবু বাকের মজুমদারকে গুম করেছে।আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করছে। সকল আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে দিন কাটাতো।হঠাৎ খবর এলো আমাদের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি নিরাপত্তার কথা বলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছে। তাদেরকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে ২৮ জুলাই ২০২৪ইং আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিতে বাধ্য করে। সেই চক্রান্তটি আমরা সকল আন্দোলনকারী মিনিটের মধ্যেই বুঝে যাই।আমরা সবাই সোচ্চার ছিলাম আন্দোলনের শেষ না দেখা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করব না। আমরা প্রতিদিনই আন্দোলন চালিয়ে যাই। ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়ক তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করে দেয়। ৩২ ঘন্টা অনশন করার পরে ১ আগস্ট ২০২৪ইং ডিবি ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২ আগস্ট ২০২৪ইং থেকে আন্দোলনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়।৩ আগস্ট ২০২৪ইং শহীদ মিনারে কয়েক লক্ষ সহযোদ্ধাকে দেখে ভাবতে শুরু করলাম, আমরা হয়তো খুব শীঘ্রই আন্দোলন সফল করতে পারবো।ওই দিন বিকাল বেলা শহীদ মিনার থেকে ঘোষণা আসে- এক দফা দাবি। যদিও আমরা আগে থেকেই এক দফা দাবি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করে দেই। তারপরও কেন্দ্র থেকে ঘোষণা আসার অপেক্ষায় ছিলাম। কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা আসার পরই আন্দোলন এর মোড় ঘুরে যায়। সবাই এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে দেয়।৪ আগস্ট ২০২৪ইং থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক আসে। আর সেই ডাকে বাংলার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা সাড়া দেয়।৪ আগস্ট ২০২৪ইং ঘোষণা আসে, ৬ আগস্ট ২০২৪ইং লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচী হবে। পরিস্থিতি বুঝে আমাদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট ২০২৪ইং লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচী নিয়ে আসে।৫ আগস্ট ২০২৪ইং দুপুর ২:৩০টার সময় আমরা বুঝতে পারি আমাদের এক দফা দাবি সফল হয়েছে।শেখ হাসিনা পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। ঠিক সেই সময়ের অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চারদিকে বিজয়ের উল্লাস। মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে আল্লাহ অবশেষে তুমি আমাদেরকে জালিমের হাত থেকে মুক্ত করলে।এই সম্পূর্ণ জার্নিটা আমার কাছে কখনো রোমাঞ্চকর মনে হয়েছে এবং কখনো ভয়ের মনে হয়েছে। আমি দেখেছি প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছে। সেই জন্যই আমাদের এতো বড় সাফল্য।সাব্বির আহম্মদ শাকিল সমন্বয়ক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুবি শিক্ষার্থী শাকিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যেভাবে সামিল হলেন

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০২৪

২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো বাংলাদেশে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সংগঠিত একটি আন্দোলন। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারি করা পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পরপরই সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। ৫ জুন ২০২৪ইং তাৎক্ষণিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে একটি বিক্ষোভ হয়।সমন্বয়কারীদের নেতৃত্বে ছিলেন- নাহিদ ইসলাম, আবু বাকের মজুমদার, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ সহ অনেকেই। তখন তারা দেখতে পায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালোই রেসপন্স পাচ্ছে। তারপরই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয় করা শুরু করে।১০ জুন ২০২৪ইং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও অন্যতম সমন্বয়ক বাকের মজুমদার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিলকে আন্দোলন করার জন্য উৎসাহিত করেন। আবু বাকের মজুমদার সাংবাদিক আনজার শাহ প্রতিবেশি এবং শাকিলের প্রতিবেশি ও গৃহশিক্ষক ছিলো। শাকিল সাংবাদিক আনজার শাহ পরামর্শ ও উদ্দীপনায় আন্দোলন করতে এগিয়ে যায়। তখন থেকেই শাকিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলন-এ জড়িয়ে গেলেন। প্রথমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজ ছিল অনলাইনে সবার সাথে কমিউনিকেশন করা। তখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকলের মধ্যেই আন্দোলন করার তীব্র মনমানসিকতা দেখতে পায়। এতে সারা দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজ, এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। সবাই সবার যায়গা থেকে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করে।জুলাইয়ের শুরু থেকেই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। যতই দিন যাচ্ছে, ততই আন্দোলনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১১ জুলাই ২০২৪ইং কুবিতে ও চবিতে প্রশাসন এর হামলা আন্দোলনকে আরো উস্কে দেয়।ওই দিন রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা কোটবাড়ি বিশ্বরোড ব্লক করে রাখি।এরপর প্রশাসন নমনীয় হতে বাধ্য হয়। সেটা আমাদেরকে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা জোগায়। ১৪ জুলাই ২০২৪ইং শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য আন্দোলনকে আরো বেশি উস্কে দেয়। তখন থেকেই একটি স্লোগান প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর মুখে মুখে ছিল। সেটা হলো- আমি কে, তুমি কে? রাজাকার! রাজাকার!এরপর থেকে ঢাবি, জাবি, জবি, রাবি, কুবি, চবি সহ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় ছাত্রলীগ আন্দলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে অতর্কিত হামলা করতে শুরু করে।তখন আন্দোলনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সীমাবদ্ধ ছিল না। ছড়িয়ে পড়লো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ সহ বাংলার অলিতে-গলিতে।১৬, ১৭, ১৮ জুলাই ২০২৪ইং পুলিশের সাথে আমাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ১৮ জুলাই ২০২৪ইং ছাত্র-ছাত্রীদের বীরত্বের কাছে প্রতিটি যায়গায় পুলিশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ওই দিনই সরকার তড়িঘড়ি করে কারফিউ জারি করে দেয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াইফাই বন্ধ করে দেয়।আমাদের আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে সরকার। আমাদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মাঝে মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম, আবু বাকের মজুমদারকে গুম করেছে।আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাকে যেখানে পাচ্ছে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করছে। সকল আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে দিন কাটাতো।হঠাৎ খবর এলো আমাদের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি নিরাপত্তার কথা বলে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছে। তাদেরকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে ২৮ জুলাই ২০২৪ইং আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিতে বাধ্য করে। সেই চক্রান্তটি আমরা সকল আন্দোলনকারী মিনিটের মধ্যেই বুঝে যাই।আমরা সবাই সোচ্চার ছিলাম আন্দোলনের শেষ না দেখা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করব না। আমরা প্রতিদিনই আন্দোলন চালিয়ে যাই। ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়ক তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করে দেয়। ৩২ ঘন্টা অনশন করার পরে ১ আগস্ট ২০২৪ইং ডিবি ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২ আগস্ট ২০২৪ইং থেকে আন্দোলনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পায়।৩ আগস্ট ২০২৪ইং শহীদ মিনারে কয়েক লক্ষ সহযোদ্ধাকে দেখে ভাবতে শুরু করলাম, আমরা হয়তো খুব শীঘ্রই আন্দোলন সফল করতে পারবো।ওই দিন বিকাল বেলা শহীদ মিনার থেকে ঘোষণা আসে- এক দফা দাবি। যদিও আমরা আগে থেকেই এক দফা দাবি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করে দেই। তারপরও কেন্দ্র থেকে ঘোষণা আসার অপেক্ষায় ছিলাম। কাঙ্ক্ষিত ঘোষণা আসার পরই আন্দোলন এর মোড় ঘুরে যায়। সবাই এক দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে দেয়।৪ আগস্ট ২০২৪ইং থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক আসে। আর সেই ডাকে বাংলার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীরা সাড়া দেয়।৪ আগস্ট ২০২৪ইং ঘোষণা আসে, ৬ আগস্ট ২০২৪ইং লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচী হবে। পরিস্থিতি বুঝে আমাদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট ২০২৪ইং লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচী নিয়ে আসে।৫ আগস্ট ২০২৪ইং দুপুর ২:৩০টার সময় আমরা বুঝতে পারি আমাদের এক দফা দাবি সফল হয়েছে।শেখ হাসিনা পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। ঠিক সেই সময়ের অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। চারদিকে বিজয়ের উল্লাস। মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে আল্লাহ অবশেষে তুমি আমাদেরকে জালিমের হাত থেকে মুক্ত করলে।এই সম্পূর্ণ জার্নিটা আমার কাছে কখনো রোমাঞ্চকর মনে হয়েছে এবং কখনো ভয়ের মনে হয়েছে। আমি দেখেছি প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছে। সেই জন্যই আমাদের এতো বড় সাফল্য।সাব্বির আহম্মদ শাকিল সমন্বয়ক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়