গণ অধিকার পরিষদের বার্তা যুগপৎ যারা রাজপথে থাকবে তারাই আমাদের রাজপথের ভাই তাদের নিয়ে বিদ্বেষ ছরানো থেকে বিরত থাকার আহবান।
- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

গণ অধিকার পরিষদের বার্তা যুগপৎ যারা রাজপথে থাকবে তারাই আমাদের রাজপথের ভাই তাদের নিয়ে বিদ্বেষ ছরানো থেকে বিরত থাকার আহবান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফ্যাসিবাদবিরোধী যেকোন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পালে হাওয়া দিলে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। ইতোমধ্যে ১৫ টি ছাত্র সংগঠন মিলে “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য” নামে একটি ছাত্র জোট গড়ে উঠেছে। ছাত্রদের অধিকার আদায়, ডাকসু নির্বাচনসহ সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সময়ের দাবী। এর চেয়েও বড় ইস্যু এখন দেশে গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার নেই; দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ এখন ভালো নেই। তিন বেলা উন্নয়নের সিরাপ আর চেতনার ট্যাবলেট খেয়ে জনগণের পেট ভরছে না। সুতরাং ফ্যাসিবাদের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার এক দফার আন্দোলন ব্যতীত অন্য কোন ইস্যু এই তিন মাসে আনীত হলে তা এক দফার আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে। এজন্য পরামর্শ থাকবে, নতুন-পুরাতন যে ছাত্র সংগঠনই হউন না কেন এই মূহুর্তে “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য” প্লাটফর্মটিকে জোরদার করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ” যেটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে চলছে; সারাদেশে ঐক্যবদ্ধ আছে এবং গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়েছে; সংহতি জানিয়েছে। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদও গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র নির্বাচিত নেতৃত্বকে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে এগিয়ে চলছে।
অনেকেই গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র এই অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো নিয়ে বিভাজন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র একটি অংশ ১০ জুলাই’২৩ এ কাউন্সিলে অংশ না নিয়ে তারাও গণঅধিকার পরিষদ নামেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে; আমরা মনে করি, বিদ্বেষ না ছড়িয়ে, কারো কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকলে তারাও আমাদের যুগপৎ সহযোদ্ধা।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগী ছাত্ররা নতুন ছাত্র সংগঠন গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জোরদার করতে পারলে সেটাকে আমরা অবশ্যই ইতিবাচক হিসেবে নিতে চাই। পদত্যাগ করে যেকেউ নতুন সংগঠন তৈরি করতে পারে। ফ্যাসিবাদের পতনে যারাই রাজপথে থাকবে, তারাই পারস্পরিক রাজনৈতিক বন্ধু হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। তাহলে কারো প্রতি কোন ব্যক্তি বিদ্বেষ ছড়ানো বা কোন সংগঠন বা দলকে ধ্বংসের জন্য নতুন কোন সংগঠন নাযিল না হোক এটাই প্রত্যাশিত; এতে খুব একটা বেশী সফলকাম হওয়া যায় না। বরং নতুন কোন সংগঠনের স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ছাত্রবান্ধব সৃজনশীল কর্মসূচি সেই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পারে।
দিনশেষে যত বিদ্বেষ বিভাজন
ততই দীর্ঘায়িত হবে ফ্যাসিবাদের পতন!
মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে পতাকা পেয়েছি সেই পতাকার লাল রঙ জানান দেয় কত মানুষের বুকের তাজা রক্ত ঝড়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে! এজন্য রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে বাংলাদেশ সংবিধানে সর্বপ্রথম “গণতন্ত্র” কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অথচ বার বার লড়াই করতে হয়েছে লুন্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের; লাল সবুজের পতাকার মূল চেতনা রক্ষার!
——————-
অ্যাড. এসএম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী
গণ অধিকার পরিষদ উচ্চতর পরিষদ এর সদস্য















